Published on Aug 18, 2025 Updated 0 Hours ago

বিমস্টেক আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী পথ নির্ধারণ করার পাশাপাশিই ভূ-রাজনৈতিক প্রতিকূলতা এর সমৃদ্ধি, স্থিতিস্থাপকতা এবং উন্মুক্ততার দৃষ্টিভঙ্গিকে চ্যালেঞ্জ করছে

বিমস্টেকের ব্যাঙ্কক ভিশন ২০৩০: প্রতিকূলতার মাঝে আকাঙ্ক্ষা

দক্ষিণ এশিয়ায় চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেই বে অফ বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টোরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন (বিমস্টেক) সাফল্য অর্জন করেছে। ২০২৩ সালে গৃহীত সনদের মাধ্যমে প্রদত্ত আইনি আদেশের ভিত্তিতে সংস্থাটি দীর্ঘস্থায়ী সমালোচনা মোকাবিলা করার জন্য এই উদ্যোগ নিয়েছে যে, এর একটি প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনার অভাব রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অভিন্ন সাধারণ সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত বিমস্টেক তার আঠাশ বছরের অস্তিত্বের মধ্যে প্রথম বারের মতো পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য তার অগ্রাধিকারগুলির রূপরেখা করে একটি ভিশন বা দৃষ্টিভঙ্গিমূলক বিবৃতি গ্রহণ করেছে। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে সংস্থাটির ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে উন্মোচিত ব্যাঙ্কক ভিশন ২০৩০ আসলে আমাদের জনগণ ভবিষ্য প্রজন্মের জন্য ২০৩০ সালের মধ্যে একটি সমৃদ্ধ, স্থিতিস্থাপক উন্মুক্ত বিমস্টেক’ এই প্রতিপাদ্যকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অভিন্ন সাধারণ সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত বিমস্টেক তার আঠাশ বছরের অস্তিত্বের মধ্যে প্রথম বারের মতো পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য তার অগ্রাধিকারগুলির  রূপরেখা করে একটি ভিশন বা দৃষ্টিভঙ্গিমূলক বিবৃতি গ্রহণ করেছে।

এই ভিশন মূলত বিমস্টেকের সহযোগিতার সাতটি বিস্তৃত ক্ষেত্রকে তিনটি শিরোনামে পুনর্বিন্যস্ত করে: সমৃদ্ধ’, ‘স্থিতিস্থাপকএবং উন্মুক্ত’ (অর্থাৎ প্রসপারাস, রেজিলিয়েন্ট এবং ওপেন। সংক্ষেপে বললে ‘প্রো’)বিমস্টেকের মূলত তেরোটি সহযোগিতার ক্ষেত্র ছিল, যা কার্যকারিতা উন্নত করার জন্য ২০২৩ সালে সাতটি ক্ষেত্রে পুনর্গঠিত করা হয়েছিল। সেগুলি হল: (১) বাণিজ্য, বিনিয়োগ উন্নয়ন, (২) পরিবেশ জলবায়ু পরিবর্তন, (৩) নিরাপত্তা — উপ-ক্ষেত্র: সন্ত্রাসবাদ দমন ন্তর্দেশীয় অপরাধ; দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা; শক্তি, (৪) কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা — উপ-ক্ষেত্র: কৃষি; মৎস্য ও পশুপালন, (৫) মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ — উপ-ক্ষেত্র: সংস্কৃতি; পর্যটন; মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ, (৬) বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন — উপ-ক্ষেত্র: প্রযুক্তি; স্বাস্থ্য; মানব সম্পদ উন্নয়ন, (৭) সংযোগ। ভিশন বিবৃতিতে এই মূল্যবোধ-পূর্ণ পুনর্বিবেচনা ১৯৯৭ সালের ব্যাঙ্কক ঘোষণার উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যা সাধারণ স্বার্থের ক্ষেত্রে সহযোগিতার মাধ্যমে এই অঞ্চলে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন সামাজিক অগ্রগতির জন্য একটি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করার উদ্দেশ্যে বিমস্টেকের ভিত্তিগত আদেশ হিসেবে কাজ করে।

নতুন শ্রেণিবিভাগগুলিকে নিম্ন রূপে বিভক্ত করা যেতে পারে:

প্রসপারাস বা সমৃদ্ধ বিমস্টেক

‘প্রসপারাস বিমস্টেক’-এর দৃষ্টিভঙ্গি অর্থনৈতিক সমন্বিতকরণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের নীতির মধ্যে নিহিত। এই স্তম্ভটি দারিদ্র্য মোকাবিলা, আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সদস্য দেশগুলির মধ্যে বিদ্যমান উন্নয়নমূলক বৈষম্য হ্রাস করার প্রতিশ্রুতি দেয়। সমন্বিত বন্দর, সামুদ্রিক, স্থল জ্বালানি অবকাঠামোর মাধ্যমে ভৌত জ্বালানি সংযোগ ত্বরান্বিত করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালে পঞ্চম শীর্ষ সম্মেলনে গৃহীত পরিবহণ সংযোগের জন্য বিমস্টেক মাস্টার প্ল্যানের দ্রুত কার্যকর বাস্তবায়ন এই প্রচেষ্টার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। একই সঙ্গে সদস্য দেশগুলিকে দীর্ঘমেয়াদি বিমস্টেক মোটরযান চুক্তির চূড়ান্তকরণ দ্রুত করার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে সীমান্তে নির্বিঘ্নে চলাচল  সহজ হয়।

প্রস্তাবিত বিমস্টেক মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল যাতে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ন্যায়সঙ্গত থাকে, তা নিশ্চিত করার জন্য স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) এবং স্থলবেষ্টিত দেশগুলির উন্নয়নমূলক চাহিদা পূরণের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

যদিও জ্বালানি সহযোগিতা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে — বিশেষ করে ২০১৮ সালে বিমস্টেক গ্রিড ইন্টারকানেকশন উদ্যোগ গ্রহণের পর — সংশ্লিষ্ট গবেষণা ধীরে ধীরে এগিয়েছে। ২০২৪ সালের মধ্যে গ্রিড ইন্টারকানেকশনের জন্য একটি খসড়া মাস্টার প্ল্যান সদস্য দেশগুলির সঙ্গে ভাগ করা হয়েছিল, যার চূড়ান্ত সংস্করণ ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে প্রকাশের জন্য নির্ধারিত ছিল। একই সময়ে ডিজিটাল অর্থনীতি, নীল অর্থনীতি, পর্বত অর্থনীতি ও স্থিতিশীল পর্যটনের মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলিকে ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে স্থান দেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাবিত বিমস্টেক মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল যাতে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ন্যায়সঙ্গত থাকে, তা নিশ্চিত করার জন্য স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) এবং স্থলবেষ্টিত দেশগুলির উন্নয়নমূলক চাহিদা পূরণের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

খাদ্য ও জীবিকা নিরাপত্তাও কেন্দ্রীয় অবস্থানে রয়েছে এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষি, মৎস্য পশুপালনের সহযোগিতামূলক আধুনিকীকরণ উৎপাদনশীলতা এবং গ্রামীণ জীবিকা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উন্নত সরবরাহ শৃঙ্খলের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

রেজিলিয়েন্ট বা স্থিতিস্থাপক বিমস্টেক

‘রেজিলিয়েন্ট বিমস্টেক’ স্তম্ভটি স্থিতিশীলতা, প্রস্তুতি প্রাতিষ্ঠানিক দৃঢ়তার উপর ভিত্তি করে গঠিত কোভিড-১৯ অতিমারির অভিজ্ঞতা স্থিতিস্থাপক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা বিকাশের প্রয়োজনীয়তাকেই স্পষ্ট করেছে। বিমস্টেক সদস্যরা চিরাচরিত চিকিৎসা ক্ষেত্রে বর্ধিত সহযোগিতার দ্বারা পরিপূরক একটি বিস্তৃত আঞ্চলিক স্বাস্থ্য কৌশলের লক্ষ্যে কাজ করছে। জলবায়ু কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য ভাবে তুলে ধরা হয়েছেভারতে বিমস্টেক আবহাওয়া ও জলবায়ু কেন্দ্র এবং শক্তি কেন্দ্রের মতো প্রতিষ্ঠানের সূচনা পরিবেশগত স্থিতিশীলতা ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি গ্রহণের ক্রমবর্ধমান প্রতিশ্রুতিকেই দর্শায়।

মানব নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভিশনটিতে সাইবার অপরাধ, মাদক ও মানব পাচার এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক হুমকিকে গভীর সহযোগিতার মূল ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই অপ্রচলিত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলির সমন্বয়কে আনুষ্ঠানিক ভাবে আকার দিতে এবং যথাযথ ভাবে সাড়া দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের সভা স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের বৈঠকের মতো প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে।

ওপেন বা উন্মুক্ত বিমস্টেক

তৃতীয় স্তম্ভ অর্থাৎ ‘ওপেন বিমস্টেক’ অন্তর্ভুক্তি, আলোচনা এবং মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পৃক্ততার উপর ভিত্তি করে একটি অভিন্ন সাধারণ আঞ্চলিক পরিচয় গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা রাখে। সাংস্কৃতিক বিনিময়, যুব ও শিক্ষাগত সহযোগিতা এবং উদ্ভাবন এই পদ্ধতির ভিত্তি নির্মাণ করেছে। পর্যটন, বিশেষ করে বৌদ্ধধর্ম, মন্দির এবং ইকো-ট্যুরিজমের মতো বিষয়ভিত্তিক সার্কিটগুলিকে সাংস্কৃতিক কূটনীতি অর্থনৈতিক সংযোগের একটি চালিকাশক্তি হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে। সাংস্কৃতিক শিল্প পর্যবেক্ষণাগারের প্রাথমিক উদ্বোধন এই অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্য এবং কূটনৈতিক শক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তৃতীয় স্তম্ভ অর্থাৎ ‘ওপেন বিমস্টেক’ অন্তর্ভুক্তি, আলোচনা এবং মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পৃক্ততার উপর ভিত্তি করে একটি অভিন্ন সাধারণ আঞ্চলিক পরিচয় গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা রাখে।

বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিত (স্টেম) ক্ষেত্রে শিক্ষাগত সহযোগিতা, যুব উদ্যোক্তা সৃজনশীল শিল্পের জন্য সহায়তার পাশাপাশি জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে। সর্বোপরি, রাষ্ট্রপুঞ্জ (ইউএন) এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন-এর (ইউএনএফসিসিসি) মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে পর্যবেক্ষকের মর্যাদার মাধ্যমে বিমস্টেকের বিশ্বব্যাপী দৃশ্যমানতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা, জলবায়ু পরিবর্তন ও স্থিতিশীল উন্নয়ন নিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনা গঠন প্রতিক্রিয়া জানানোর আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। উন্মুক্ত বিমস্টেক কাঠামো কেবল সীমান্ত পেরিয়ে গতিশীলতা বৃদ্ধি করার বিষয়ে নয়, বরং একটি অংশগ্রহণমূলক, গণতান্ত্রিক বিশ্বব্যাপী সংযুক্ত আঞ্চলিক কাঠামো তৈরি করার বিষয়েও কথা বলে

প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ

প্রো’-এর জন্য বিমস্টেকের উচ্চাভিলাষী পথনির্দেশিকা সত্ত্বেও কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য এখনও বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রের শক্তিশালীকরণ প্রয়োজন। সর্বাগ্রে রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা অর্থায়ন ব্যবস্থাকে ঘিরে অস্পষ্টতা। পরিবহণ  সংযোগের জন্য বিমস্টেক মাস্টার প্ল্যান এবং গ্রিড ইন্টারকানেকশন মাস্টার প্ল্যানের মতো প্রধান উদ্যোগগুলি আশাব্যঞ্জক হলেও, একটি নিবেদিতপ্রাণ উন্নয়ন তহবিল বা স্পষ্ট অর্থায়ন কাঠামোর অনুপস্থিতি তাদের কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করে।

দ্বিতীয়ত, সদস্য দেশগুলির মধ্যে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত পার্থক্যগুলিকে অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। মায়ানমারে বিদ্যমান উত্তেজনা অস্থিতিশীলতা, মায়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে রোহিঙ্গা সঙ্কটের মতো অমীমাংসিত দ্বিপাক্ষিক সমস্যা পাশাপাশি পরবর্তীতে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের পর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন আঞ্চলিক সংহতির জন্য উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি তৈরি করে। তবে ভিশন এই উত্তেজনা প্রশমনের জন্য সংঘাত-সমাধান কাঠামো বা আস্থা-নির্মাণ ব্যবস্থা প্রস্তাব করতে ব্যর্থ হয়েছে।

বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি, সম্পদ সুরক্ষিত করা এবং ঘোষণামূলক উদ্দেশ্যের বাইরে গিয়ে কার্যকর কার্যকারিতার লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার জন্য বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠান, তহবিল সংস্থা এবং বহুপাক্ষিক মঞ্চের সঙ্গে অংশীদারিত্বের আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা অপরিহার্য।

মানব নিরাপত্তার উপর জোর দিয়ে নারী ও শিশুদের স্পষ্ট ভাবে অন্তর্ভুক্ত করলে এই দৃষ্টিভঙ্গি সমৃদ্ধ হবে এবং প্রকৃত অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। লিঙ্গ-প্রতিক্রিয়াশীল নীতি এবং ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায়ের জন্য লক্ষ্যনির্দিষ্ট হস্তক্ষেপ সামাজিক স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে।

সর্বোপরি, ডিজিটাল নীল অর্থনীতির মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলির উপর জোর দেওয়া কাঠামোগত বৈষম্যগুলিকে অপ্রতুল ভাবে মোকাবিলা করে - বিশেষ করে ডিজিটাল বিভাজন, পরিবেশগত ভঙ্গুরতা এবং নিয়ন্ত্রক অসঙ্গতি। পরিশেষে, বিমস্টেকের বহিরাগত সম্পৃক্ততা সংক্রান্ত কৌশলটি অস্পষ্ট রয়ে গিয়েছে। বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি, সম্পদ সুরক্ষিত করা এবং ঘোষণামূলক উদ্দেশ্যের বাইরে গিয়ে কার্যকর কার্যকারিতার লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার জন্য বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠান, তহবিল সংস্থা এবং বহুপাক্ষিক মঞ্চের সঙ্গে অংশীদারিত্বের আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা অপরিহার্য।

অস্থির প্রতিবেশ অঞ্চলে সাধারণ ভবিষ্যৎ গঠন

ভিশন বিবৃতি এমন একটি যুগান্তকারী দলিল, যা এখন স্পষ্ট ভাবে বর্ণিত লক্ষ্যগুলির মাধ্যমে কার্যকর করা উচিত। ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে গৃহীত অন্যান্য প্রশাসনিক সংস্কারের পাশাপাশি - যেমন ‘অ্যাডপশন রুলস অফ প্রসিডিওর ফর দ্য বিমস্টেক মেকানিজম’ এবং ‘রিপোর্ট অফ এমিনেন্ট পারসনস গ্রুপ অন দ্য ফিউচার ডিরেকশন’ - আঞ্চলিক ঐক্যের অনুভূতির সূচনা করে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক আবহাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এটি বিশেষ ভাবে প্রয়োজনীয়। সাউথ এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল কোঅপারেশনের (সার্ক) ভবিষ্যৎ আগের চেয়েও বেশি অন্ধকারাচ্ছন্ন বলে মনে হচ্ছে। ২০১৬ সালে পাকিস্তানে ব্যর্থ ১৯তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের পর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য রাষ্ট্রগুলি - ভারত, বাংলাদেশ এবং  মায়ানমার - পূর্ব দিকে মনোনিবেশ করতে শুরু করে এবং বিমস্টেকের কৌশলগত প্রাসঙ্গিকতাকে উন্নত করেছে

২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পহেলগাম সন্ত্রাসবাদী হামলা অপারেশন সিঁদুরে পর ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার কারণে সার্কের পুনরুজ্জীবনের সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য বিমস্টেকের উপর নির্ভরতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

রূপকল্পের সাফল্য চূড়ান্ত ভাবে কার্যকর দেখভাল প্রক্রিয়া, স্থিতিশীল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং অভিযোজিত শাসন কাঠামো প্রতিষ্ঠার উপর নির্ভর করবে।

তবে অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জগুলি অব্যাহত রয়েছে। গত গস্ট মাসে ঢাকায় শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের পর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি অব্যাহত রয়েছে এবং মায়ানমার এখনও গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে রয়েছে। একটি আঞ্চলিক সংগঠনের কার্যকর ভাবে কাজ করার জন্য সমস্ত সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে রাজনৈতিক সদিচ্ছার মিলন একটি প্রয়োজনীয় পূর্বশর্ত।

অতএব, এটি উল্লেখ করা উৎসাহজনক যে, তাদের পার্থক্য সত্ত্বেও বিমস্টেক সদস্য দেশগুলি আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার অনুসরণ করছে এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রূপরেখা তৈরি করেছে। তবুও কাগজ থেকে অনুশীলনে যাত্রা এখনও অব্যাহত রয়েছে। রূপকল্পের সাফল্য চূড়ান্ত ভাবে কার্যকর দেখভাল প্রক্রিয়া, স্থিতিশীল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং অভিযোজিত শাসন কাঠামো প্রতিষ্ঠার উপর নির্ভর করবে।

 


শ্রীপর্ণা ব্যানার্জি অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের অ্যাসোসিয়েট ফেলো।

সোহিনী বোস অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের অ্যাসোসিয়েট ফেলো।

অনসূয়া বসু রায়চৌধুরী অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের নেবারহুড ইনিশিয়েটিভের সিনিয়র ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Authors

Sreeparna Banerjee

Sreeparna Banerjee

Sreeparna Banerjee is an Associate Fellow in the Strategic Studies Programme. Her work focuses on the geopolitical and strategic affairs concerning two Southeast Asian countries, namely ...

Read More +
Sohini Bose

Sohini Bose

Sohini Bose is an Associate Fellow at Observer Research Foundation (ORF), Kolkata with the Strategic Studies Programme. Her area of research is India’s eastern maritime ...

Read More +
Anasua Basu Ray Chaudhury

Anasua Basu Ray Chaudhury

Anasua Basu Ray Chaudhury is Senior Fellow with ORF’s Neighbourhood Initiative. She is the Editor, ORF Bangla. She specialises in regional and sub-regional cooperation in ...

Read More +