Author : Abhishek Sharma

Published on Sep 08, 2025 Updated 0 Hours ago

ডেস্ট্রয়ার বিপর্যয় সত্ত্বেও, উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর — স্থল, সমুদ্র, সাইবার ও মহাকাশ — আধুনিকীকরণের জন্য কিম জং উনের প্রচেষ্টা নিরলসভাবে অব্যাহত রয়েছে।

জাহাজডুবির পর: উত্তর কোরিয়ার বিস্তৃততর সামরিক আধুনিকীকরণ উদ্যোগ

২০২৫ সালের ২১ মে, উত্তর কোরিয়ার ৫,০০০ টনের নতুন ডেস্ট্রয়ারের উদ্বোধন উদযাপনের মুহূর্ত বিপর্যয়ে পরিণত হয় যখন জাহাজটি চংজিন বন্দরে ডুবে যায়। এই ঘটনা উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের জন্য উল্লেখযোগ্য বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে, এবং এর ফলে ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স  পার্টির অস্ত্র শিল্প বিভাগের ভাইস ডিপার্টমেন্ট ডিরেক্টর রি হিয়ং-সো সহ চার কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। যদিও এই ঘটনা উত্তর কোরিয়ার জাহাজ তৈরি করে জলে ভাসানো এবং সামরিক জাহাজ পরিচালনার ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল, তবুও এটি কিম জং উনের নেতৃত্বে উত্তর কোরিয়ায় চলমান একটি বৃহত্তর প্রবণতাকে উপেক্ষা করেছিল — মূলত সামরিক আধুনিকীকরণ সম্পর্কিত নির্মাণ, পরীক্ষা ও উদ্বোধনের চলমান কর্মসূচি।


কিম জং উনের সামরিক আধুনিকীকরণ পরিকল্পনা

কোভিড-১৯ অতিমারির পর থেকে উত্তর কোরিয়া স্থল, আকাশ, সামুদ্রিক, সাইবার এবং এমনকি মহাকাশ-‌সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার সামরিক আধুনিকীকরণ ত্বরান্বিত করেছে। উত্তর কোরিয়া তার বিয়ংজিন নীতির মাধ্যমে কিম জং উনের দ্বারা নির্ধারিত একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য অর্জনের পর এই ঘটনা ঘটেছে — পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হওয়া। এই লক্ষ্য অর্জনের পর, কিম তাঁর সামরিক সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ এবং ক্ষেপণাস্ত্র অস্ত্র কর্মসূচি আধুনিকীকরণের উপর মনোনিবেশ করেছেন। এই সক্ষমতার মধ্যে রয়েছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদন, জাহাজ  নির্মাণ উন্নয়ন, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং সামরিক শিক্ষা। দেশের সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণে বিনিয়োগ কিম জং উনের দক্ষিণ কোরিয়াকে শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে চিত্রিত করার বর্ণনকে আরও শক্তিশালী করে, এবং দেশের সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তাকে ন্যায্যতা দেয়।


বিভিন্ন ক্ষেত্র জুড়ে পুরনো সামরিক সরঞ্জামের কারণে ক্রমাগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কিম বিশেষভাবে তাঁর সামরিক বাহিনীর আধুনিকীকরণ ও তাকে উন্নততর করার উপর জোর দিয়েছেন।



সামরিক আধুনিকীকরণের এই পুনর্নবীকরণের পিছনে দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, কিম জং উন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (ইউএস) সঙ্গে একটি চুক্তির সম্ভাবনা খুব কমই দেখতে পাচ্ছেন, বিশেষ করে ট্রাম্প-কিমের কূটনৈতিক বিপর্যয়ের পরে, যা তার জন্য বিশাল বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল। এর পরে, তিনি প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রস্তাবকে 'প্রহসন' বলে
উড়িয়ে দিয়েছিলেন, এমনকি ট্রাম্পের সম্প্রতি করা পদক্ষেপগুলিকেও। দ্বিতীয়ত, আধুনিক যুদ্ধের পরিবর্তনশীল প্রকৃতি, উত্তর কোরিয়ার দুর্বল প্রচলিত ক্ষমতা এবং ভৌগোলিক দুর্বলতার পরিপ্রেক্ষিতে, কিম বিশ্বাস করেন যে তাঁর সামরিক বাহিনীর আধুনিকীকরণ এবং তাদের ক্রমাগত যুদ্ধ প্রস্তুতির জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


আধুনিক যুদ্ধের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে কিম
জোর দিয়ে বলেন, "আধুনিক যুদ্ধের নতুন দিকগুলি এবং শত্রুদের যুদ্ধ কৌশলগুলির  পরিপ্রেক্ষিতে... আমাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও আক্রমণাত্মক এবং সীমাহীনভাবে উন্নত করা উচিত, একই সঙ্গে আমাদের সেনাবাহিনীর প্রযুক্তিগত আধুনিকীকরণ এবং তাকে আরও শক্তিশালী উপায়ে সজ্জিত করা উচিত।" ২০২৪ সালের সামরিক হার্ডওয়্যার প্রদর্শনী প্রতিরক্ষা উন্নয়ন অনুষ্ঠানে, কিম বলেন যে তাঁদের দল প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিকে "দেশপ্রেম ও বিপ্লবের চেতনার সর্বোচ্চ প্রকাশ" হিসেবে দেখে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে, ওয়ার্কার্স পার্টি অফ কোরিয়া (ডবলিউপিকে)-‌র সামনে ভাষণ দেওয়ার সময়, কিম "যুদ্ধ প্রস্তুতি আরও ত্বরান্বিত করার জন্য পিপলস আর্মি ও গোলাবারুদ শিল্প, পারমাণবিক অস্ত্র এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের জন্য জঙ্গি কার্যাবলি তুলে ধরেন।"


সামরিক আধুনিকীকরণ প্রচেষ্টা

বিভিন্ন ক্ষেত্র জুড়ে পুরনো সামরিক সরঞ্জামের কারণে ক্রমাগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কিম বিশেষভাবে তাঁর সামরিক বাহিনীর আধুনিকীকরণ ও তাকে উন্নততর করার উপর জোর দিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, তিনি "সাঁজোয়া বাহিনীতে দ্বিতীয় বিপ্লব" করার
আহ্বান জানিয়েছেন, এবং পুরনো সাঁজোয়া অস্ত্রের পরিবর্তে সর্বশেষ অস্ত্র ব্যবহার করার উপর জোর দিয়েছেন। তার উপর, তিনি এর সামগ্রিক সাঁজোয়া বাস্তুতন্ত্রকে উন্নত করার জন্য বৃহৎ আকারের সক্ষমতা তৈরির প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেছেন। একইভাবে, ফ্লাইং গ্রুপ অফ গার্ডস ফার্স্ট’‌স এয়ার উইংয়ের সাম্প্রতিক পরিদর্শনের সময়, তিনি "আধুনিক বিমান যুদ্ধ পদ্ধতিতে অভিজ্ঞ পাইলটদের তৈরি করার জন্য" বিমান মহড়ার গুরুত্বের উপরও জোর দিয়েছেন । তাঁর অসংখ্য পরিদর্শন সফর - টেবিল ১-এ তালিকাভুক্ত - কিমের  সামরিক আধুনিকীকরণের উপর জোর দেয়।


টেবিল ১: কিম জং উনের সাম্প্রতিক সামরিক পরিদর্শন সফর

তারিখ

কিম জং উনের সফর

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা পরিদর্শন করেন এবং পারমাণবিক অস্ত্র ভান্ডার বৃদ্ধির জন্য আরও সেন্ট্রিফিউজের আহ্বান জানান  

১০ জানুয়ারি, ২০২৫

অস্ত্র কারখানা পরিদর্শন করেন  এবং মোবাইল স্বল্প-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ যান পরিদর্শন করেন

২৯ জানুয়ারি, ২০২৫

পারমাণবিক পদার্থ উৎপাদন স্থাপনা  পরিদর্শন করেন এবং এর পারমাণবিক অস্ত্রাগার বৃদ্ধির উপর জোর দেন

৮ মার্চ, ২০২৫

পারমাণবিক শক্তি সাবমেরিন নির্মাণ স্থান পরিদর্শন করেন এবং পারমাণবিক শক্তিচালিত কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র সাবমেরিনের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন  

২১ মার্চ, ২০২৫

সামরিক ডকইয়ার্ড তদারকি করেন এবং দেশের জাহাজ নির্মাণ ক্ষমতা বৃদ্ধির উপর জোর দেন

৪ মে, ২০২৫

ট্যাঙ্ক কারখানা পরিদর্শন করেন এবং কোরিয়ান ট্যাঙ্কের মূল প্রযুক্তির অগ্রগতির প্রশংসা করেন

৭ মে, ২০২৫

যুদ্ধাস্ত্র ও মেশিন কারখানা পরিদর্শন করেন এবং আর্টিলারি শেলের উৎপাদন বৃদ্ধির উপর জোর দেন

১৫ মে, ২০২৫

কিম জং উন লাইভ ফায়ার ড্রিলসে যোগ দেন

১৭ মে, ২০২৫

 কিম জং উন বৃহৎ আকারের বিমান বাহিনীর ড্রিল তদারকি করেন  এবং সেনাবাহিনীকে ক্রমাগত প্রস্তুতি বজায় রাখার নির্দেশ দেন

সূত্র: লেখক কর্তৃক সংকলিত

এসবের
একটি মূল লক্ষ্য হল দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সক্ষমতা জোরদার করা এবং সামুদ্রিক সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। এই লক্ষ্যে, কিম উত্তর কোরিয়াকে একটি সামুদ্রিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য বড় বড় পারমাণবিক ও জাহাজ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করেছেন। ২০২৩ সালে, দেশটি তার কৌশলগত পারমাণবিক আক্রমণকারী সাবমেরিন নং ৮৪১ হিরো কিম কুন ওকে উন্মোচন করেছে। ২০২৫ সালে, কিম জং উনের একটি অজ্ঞাত স্থানে সফরের সময় একটি নতুন কৌশলগত পারমাণবিক সাবমেরিনের ছবি — যার ওজন ৫,০০০ থেকে ৮,০০০ টন এবং এর পূর্ববর্তী রূপের চেয়ে অনেক বড় — প্রকাশ্যে আসে। তিনি বারবার দেশের জাহাজ নির্মাণ ক্ষমতা আধুনিকীকরণের উপর জোর দিয়েছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা সংবেদনশীল নৌপ্রযুক্তি অর্জন এবং উত্তর কোরিয়ার নৌসক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান জাহাজ নির্মাতাদের লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে জানা গিয়েছে।


আধুনিক যুদ্ধে অন্যান্য সামরিক প্রযুক্তির প্রয়োগ — যেমন মানবহীন বিমানবাহী যানবাহন (ইউএভি), সাইবার ও মহাকাশ — বিবেচনা করে সরকার অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বিকাশের প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করেছে। কোরিয়া সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি অনুসারে, কিম
বলেছেন, "সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে মনুষ্যবিহীন সরঞ্জাম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত এবং বিকশিত করা উচিত।" তিনি মহাকাশ উন্নয়নের উপরও মনোনিবেশ করেছেন, এটিকে 'জাতীয় উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য প্রকল্প' বলে অভিহিত করেছেন, এবং  একইসঙ্গে বিদেশি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ বৃদ্ধির জন্য সাইবার হ্যাকিং প্রযুক্তি তৈরির দিকে পদক্ষেপ করেছেন



প্রতিবেদন অনুসারে, রাশিয়া অস্ত্র এবং সৈন্য মোতায়েনের বিনিময়ে স্বল্প-পাল্লার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উন্নত ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, জ্যামিং সরঞ্জাম এবং অভিযানগত জ্ঞান রপ্তানি করেছে।



হার্ডওয়্যার আপগ্রেডের পাশাপাশি, কিম জং উন আধুনিক যুদ্ধের জন্য তাঁর সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়টিকেও অগ্রাধিকার দিয়েছেন। দেশের একটি মর্যাদাপূর্ণ কমান্ডিং অফিসার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র কাং কন মিলিটারি অ্যাকাডেমি পরিদর্শন করার সময় তিনি আধুনিক যুদ্ধের জন্য সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত করার উপর জোর দিয়েছিলেন। কিম
বলেন, 'তাঁদের [কর্মকর্তাদের] আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের প্রকৃত অভিজ্ঞতা সম্পর্কে শিখিয়ে' এবং 'দ্রুত বিকাশমান অস্ত্র এবং ... প্রযুক্তিগত সরঞ্জামগুলিতে দক্ষতা অর্জন করে' এবং 'আধুনিক যুদ্ধের জন্য কমান্ডিং ক্ষমতা অর্জন করে' আমরা আধুনিক যুদ্ধের জন্য সামরিক কর্মকর্তাদের আরও ভালভাবে প্রস্তুত করতে পারি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রের সম্মুখভাগে উত্তর কোরিয়ার সৈন্য মোতায়েনের একটি সম্ভাব্য প্রেরণা ছিল তাঁর বাহিনীকে যুদ্ধের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করা।


সামরিক আধুনিকীকরণ এবং রাশিয়ার সমর্থন

২০২৩ সাল থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ রপ্তানির বিনিময়ে রাশিয়ার সহায়তা এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জনবল মোতায়েনের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার সামরিক আধুনিকীকরণকে সমর্থন করা হচ্ছে। বহুপাক্ষিক নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ দল (এমএসএমটি)-এর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন — যা ২০২৪ সালে উত্তর কোরিয়ার উপর রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন পর্যবেক্ষণের জন্য গঠিত একটি বহুপাক্ষিক প্রক্রিয়া — দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার স্তর সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছে। এই প্রতিবেদন অনুসারে, রাশিয়া অস্ত্র এবং সৈন্য মোতায়েনের বিনিময়ে
স্বল্প-পাল্লার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উন্নত ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, জ্যামিং সরঞ্জাম এবং অভিযানগত জ্ঞান রপ্তানি করেছে। নিরাপত্তা পরিষদের সচিব সের্গেই শোইগু ও কিমের মধ্যে সাম্প্রতিক বৈঠকে, দুই দেশ 'ডিপিআরকে-রাশিয়া সম্পর্ককে গতিশীলভাবে সম্প্রসারিত এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের শক্তিশালী ও ব্যাপক সম্পর্কে পরিণত করার অভিপ্রায় পুনর্ব্যক্ত করেছে, যা উভয় দেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে সঙ্গতিপূর্ণ।'



ফ্রিডরিখ নওম্যান ফাউন্ডেশনের একটি সমীক্ষায় অনুমান করা হয়েছে যে, উত্তর কোরিয়া রাশিয়ায় ৬০ লক্ষ রাউন্ড ১৫২ মিমি, ১২২ মিমি গোলাবারুদ এবং ১০০ কেএন-২৩/কেএন-২৪ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রপ্তানি করে ১.৭২-৫.৫২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে।

কিমের নিয়মিত সফর, পরিদর্শন, গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য জোর দেওয়া, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সামরিক প্রস্তুতি শক্তিশালী করা, সবই জাতীয় নিরাপত্তার কারণে পরিচালিত হলেও, কিমের সামরিক তৎপরতার পিছনে একটি অর্থনৈতিক যুক্তিও রয়েছে। প্রতিরক্ষা শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য কিমের প্রচেষ্টা রাশিয়ার অস্ত্র ও গোলাবারুদের চাহিদাও পূরণ করে, যা তার দ্বিতীয় অর্থনীতির জন্য তহবিলের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস, যা আবার তার সামরিক আধুনিকীকরণ পরিকল্পনার জন্য অর্থায়ন করে। ফ্রেডরিখ নওম্যান ফাউন্ডেশনের একটি সমীক্ষায়, অনুমান করা হয়েছে যে, উত্তর কোরিয়া রাশিয়ায় ৬০ লক্ষ রাউন্ড ১৫২ মিমি, ১২২ মিমি গোলাবারুদ এবং ১০০ কেএন-২৩/কেএন-২৪ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রপ্তানি করে ১.৭২-৫.৫২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে। এছাড়াও, সৈন্য মোতায়েনের ফলে শাসকগোষ্ঠী ১৪৩-৫৭২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে বলে জানা গিয়েছে।


উপসংহার

উত্তর কোরিয়ার নতুন ডেস্ট্রয়ার ডুবে যাওয়ার ঘটনা দেশটির সীমিত সক্ষমতার প্রমাণ হলেও, এর দ্রুত পুনরুদ্ধার সামরিক আধুনিকীকরণে শাসকগোষ্ঠীর অধ্যবসায় এবং সম্পদশালীতারও প্রমাণ। অব্যাহত সামরিক, প্রযুক্তিগত এবং অর্থনৈতিক সহায়তার মাধ্যমে, বিশেষ করে রাশিয়ার, পিয়ংইয়ংয়ের সামরিক আধুনিকীকরণ আরও এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। অতএব, প্রতিপক্ষেরা ভিন্ন ভিন্ন বিষয় দেখতে গিয়ে সামগ্রিক ছবি ভুলে না গেলেই ভাল করবে।



অভিষেক শর্মা অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের গবেষণা সহকারী।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.