Published on Dec 14, 2025 Updated 0 Hours ago

একটি স্বতন্ত্র লিঙ্গ অধ্যায়সহ ভারতের প্রথম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাণিজ্য নীতির দিকে একটি নীরব পরিবর্তনের এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

শুল্কের বাইরে: মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে লিঙ্গ সমতার উত্থান

এমন এক সময়ে যখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ক্রমশই জটিল হয়ে উঠছে, তখন বাণিজ্য নীতিতে একটি নীরব পরিবর্তন প্রায় অলক্ষ্যে হয়ে গিয়েছেআর তা হল মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিগুলিতে (এফটিএ) লিঙ্গ সংক্রান্ত বিষয়কে ক্রমবর্ধমানভাবে অন্তর্ভুক্ত করা। ভারত যুক্তরাজ্যের (ইউকে) মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ব্যাপক অর্থনৈতিক বাণিজ্য চুক্তিটি (সিইটিএ) ভারতের প্রথম এফটিএ, যেখানে লিঙ্গ সমতার উপর একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় রয়েছে এই অধ্যায়টি নারীদের জন্য বাণিজ্যের সুবিধা বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি দৃঢ় অঙ্গীকারের ওপর জোর দেয়, এবং এটি আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের অগ্রগতি পরিমাপের জন্য একটি পর্যবেক্ষণ মূল্যায়ন ব্যবস্থাসহ একটি বাণিজ্য লিঙ্গ সমতা কার্যনির্বাহী গোষ্ঠী (টিজিইডব্লিউজি) প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেয়।


উন্নয়ন নীতির মতো নীতিসমূহের অন্যান্য ক্ষেত্রের বিপরীতে, বাণিজ্য নীতি লিঙ্গ সংক্রান্ত বিষয়কে মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে বহুলাংশে উদাসীন ছিল। অথচ যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে যে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উন্নত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মজুরি বৃদ্ধি, উচ্চ-দক্ষ কাজ উদ্যোক্তা হওয়ার পথ খুলে দেওয়া এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস করার মাধ্যমে নারীদের জীবনযাত্রার উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটাতে পারে।



এক দশক আগেও বহুপাক্ষিক পর্যায়ে বাণিজ্য লিঙ্গ সম্পর্কিত কোনো বিধান ছিল না। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বাণিজ্য লিঙ্গ বিষয়ক প্রথম কর্মপরিকল্পনাটি ২০১৭ সালে চালু করা হয় এবং পরে তা ২০২১-২০২৬ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। বাণিজ্য লিঙ্গ সমতা প্রসারের জন্য চারটি উদ্দেশ্যের উপর ভিত্তি করে এটি তৈরি করা হয়েছিল: সচেতনতা বৃদ্ধি; সদস্য দেশগুলির কার্যক্রম সহজতর করা, সরকারি কর্মকর্তা নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান, এবং তথ্য সংগ্রহ বিশ্লেষণ করা। উন্নয়ন নীতির মতো নীতিসমূহের অন্যান্য ক্ষেত্রের বিপরীতে, বাণিজ্য নীতি লিঙ্গ সংক্রান্ত বিষয়কে মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে বহুলাংশে উদাসীন ছিল। অথচ যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে যে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উন্নত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মজুরি বৃদ্ধি, উচ্চ-দক্ষ কাজ উদ্যোক্তা হওয়ার পথ খুলে দেওয়া এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস করার মাধ্যমে নারীদের জীবনযাত্রার উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটাতে পারে। লিঙ্গ সমতার উপর বাণিজ্যের প্রভাব সুদূরপ্রসারীএটি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রযুক্তিতে নারীদের প্রবেশাধিকার বাড়ায়

ডব্লিউটিও- ২০২০ সালের  একটি প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলিতে নারীদের নিয়োগের হার বেশি। উন্নয়নশীল দেশগুলিতে, শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায়, বাণিজ্যকারী প্রতিষ্ঠানগুলিতে কর্মীবাহিনীর ৩৩ শতাংশই নারী, যেখানে অভ্যন্তরীণ বাজারে কর্মরত প্রতিষ্ঠানে এই হার ২৪ শতাংশ। অধিকন্তু, যে দেশগুলো বাণিজ্যের জন্য বেশি উন্মুক্ত, সেখানে লিঙ্গ সমতার স্তরও বেশি। তা সত্ত্বেও, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নারীদের প্রতিনিধিত্ব কম এবং তাঁরা একাধিক বাধার সম্মুখীন হন, যার মধ্যে রয়েছে নেটওয়ার্ক, সিদ্ধান্ত গ্রহণ পুঁজি প্রাপ্তিতে সীমিত সুযোগ, বাণিজ্য প্রচারমূলক উদ্যোগে (যেমন বাণিজ্য মিশন) অংশগ্রহণে বাধা, বিনিয়োগ পদ্ধতিতে লিঙ্গ বৈষম্য এবং অবৈতনিক পরিচর্যার কাজের অসম দায়িত্ব।

ভারত-যুক্তরাজ্য চুক্তিটি কেন গুরুত্বপূর্ণ

উৎসর্গীকৃত অধ্যায় এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার মাধ্যমে বাণিজ্য চুক্তিতে লক্ষ্যভিত্তিক নীতি অন্তর্ভুক্ত করা হলে তা আঞ্চলিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নারীদের সমান সক্রিয় অংশগ্রহণকে সমর্থন করতে পারে। চিলি, কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মতো দেশগুলি বাণিজ্য চুক্তিতে লিঙ্গ সম্পর্কিত বিধান অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। বেশ কয়েকটি আফ্রিকান লাতিন আমেরিকান দেশও বিভিন্ন গভীরতা প্রয়োগযোগ্যতার লিঙ্গ-সংবেদনশীল বিধানসহ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছে। তা ছাড়া, যুক্তরাজ্যও পূর্বে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের সঙ্গেবাণিজ্য লিঙ্গ সমতা অধ্যায়নিয়ে আলোচনা করেছে, এবং যুক্তরাজ্য-জাপান ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তিতেবাণিজ্যে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নশীর্ষক একটি অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।

ইউকে-ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিরবাণিজ্য লিঙ্গ সমতাঅধ্যায়টি লিঙ্গ সমতাকে বাণিজ্য সম্পর্কের একটি কেন্দ্রীয় স্তম্ভে উন্নীত করার জন্য কয়েকটি বিধান প্রবর্তন করেছে, যা লিঙ্গ সমতার ফলাফলের জন্য ধারাবাহিক রাজনৈতিক মনোযোগ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।

বাণিজ্য লিঙ্গ সমতা কার্যনির্বাহী গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা: এই কার্যনির্বাহী গোষ্ঠীটিকে উভয় দেশের সরকারি প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি নিবেদিত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে। এর কাজ হল লিঙ্গ সমতার জন্য কর্মপরিকল্পনা লক্ষ্যমাত্রা প্রণয়ন করা, অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য নিয়মিত বৈঠক মূল্যায়ন পরিচালনা করা, এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির অধীনে প্রতিষ্ঠিত কার্যক্রমের সহযোগিতার বিষয়ে ইউকে-ভারত যৌথ কমিটিকে সুপারিশ করা।

লিঙ্গ-নির্দিষ্ট কাঠামোগত বাধাগুলির স্বীকৃতি: এই অধ্যায়টি নারী উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ীদের সামনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাধাগুলিকে দক্ষতার সঙ্গে চিহ্নিত  করেছেবিশেষ করে বাজার প্রবেশাধিকার, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, বাণিজ্য অর্থায়ন এবং ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে। এটি এই বাধাগুলি মোকাবিলার  জন্য সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের সুপারিশ করে, যেমন নারী ব্যবসায়ীদের জন্য বাণিজ্য মিশনকে উৎসাহিত করা, নারী-নেতৃত্বাধীন ক্ষুদ্র মাঝারি উদ্যোগগুলোর (এসএমই) প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে তাদের একীভূতকরণকে সহজতর করা।

প্রমাণ-ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ: এই অধ্যায়ে লিঙ্গ-ভিত্তিক বিভাজিত তথ্য সংগ্রহ এবং বাণিজ্য নীতিগুলোর লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণ করার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে উভয় সরকারকে বাণিজ্য উদারীকরণের ফলে নারী পুরুষের উপর সৃষ্ট ভিন্ন ভিন্ন প্রভাবগুলো পর্যবেক্ষণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যা অভিযোজনযোগ্য নীতিগত পদক্ষেপ এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে পরিমাপযোগ্য অগ্রগতি অর্জনে সহায়ক হবে।

বাণিজ্যে লিঙ্গ সমতা প্রচারে ভারতের কৌশল

ভারত তার বাণিজ্য সরবরাহ ব্যবস্থার সর্বত্র লিঙ্গ সমতাকে মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একটি ব্যাপক কৌশল গ্রহণ করেছে। ভারত সরকারের জাতীয় বাণিজ্য সহজীকরণ কর্মপরিকল্পনা (এনটিএফএপি) ২০২০-২৩ লিঙ্গ অন্তর্ভুক্তিকরণকে একটি মৌলিক নীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে, যেখানে অ্যাকশন পয়েন্ট ২৭- সক্ষমতা বৃদ্ধি কর্মসূচি, নারী ব্যবসায়ীদের জন্য পরামর্শদান নেটওয়ার্ক এবং লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। জাতীয় লজিস্টিক নীতি এবং প্রধানমন্ত্রী গতি শক্তি জাতীয় মহাপরিকল্পনা উভয়ই লিঙ্গ অন্তর্ভুক্তিকরণকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃক্ষেত্রীয় অগ্রাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

কৌশলগত মন্ত্রকগুলি তিনটি স্বতন্ত্র চ্যানেলের মাধ্যমে নারীদের অংশগ্রহণকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা, শিল্প সমিতি এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্ব স্থাপন করেছে: ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা হিসেবে, লজিস্টিক পরিষেবা প্রদানকারী হিসেবে এবং বন্দর লজিস্টিক কেন্দ্রে অপারেশনাল কর্মী হিসেবে।

বাণিজ্য শিল্প মন্ত্রকের অধীন লজিস্টিক বিভাগ লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠার জন্য একটি বিশেষ রূপরেখা তৈরি করেছে। সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ইনডায়রেক্ট ট্যাক্সেস অ্যান্ড কাস্টমস (সিবিআইসি) শুল্ক কার্যক্রমে লিঙ্গ সংহতি জোরদার করার জন্য ব্যাপক নির্দেশিকা চালু করেছে, যা বর্ডার ক্রসিংগুলিতে নারীদের জন্য নীতি কাঠামো এবং কাজের পরিবেশ উভয়কেই রূপান্তরিত করেছে। ল্যান্ড পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (এলপিএআই) সুনির্দিষ্ট উন্নতির জন্য একটি পদ্ধতিগত মডেল রিভিউ চেকলিস্ট বাস্তবায়ন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে নারীদের জন্য নির্দিষ্ট শৌচাগার, স্তন্যপান করানোর সুবিধা এবং উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এছাড়াও বন্দর, নৌ-‌পরিবহণ জলপথ মন্ত্রক ভারতীয় বন্দরগুলিতে নারীদের মুখোমুখি হওয়া বাধাগুলি পদ্ধতিগতভাবে বিশ্লেষণ করেছে এবং লিঙ্গ-সংবেদনশীল পরিকাঠামোর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সুপারিশ তৈরি করে সমুদ্রবন্দরগুলিতে নারীদের অংশগ্রহণকে সমর্থন জুগিয়েছে।


পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং শুল্ক বাধার ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে বস্ত্র, চামড়া, রত্ন গয়না এবং রাসায়নিক দ্রব্যের মতো রপ্তানিমুখী উৎপাদন ক্ষেত্রে কর্মরত বা ব্যবসা পরিচালনাকারী নারীরা অনেক বেশি ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছেন।



তা সত্ত্বেও, উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হওয়া সত্ত্বেওযার মধ্যে সম্পূর্ণরূপে নারীদের দ্বারা পরিচালিত গুদামজাতকরণ সুবিধা এবং অভ্যন্তরীণ কন্টেনার ডিপো, পরামর্শদাতা নেটওয়ার্ক, ডেডিকেটেড হেল্প ডেস্ক এবং সুনির্দিষ্ট অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যমাত্রা অন্তর্ভুক্তভারতের একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা দ্বারা সীমাবদ্ধ রয়েছেন, যার প্রধান কারণ হল ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল বাণিজ্য প্রক্রিয়া, লিঙ্গ-সংবেদনশীল পরিকাঠামোর অভাব এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি। এছাড়াও, পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং শুল্ক বাধার ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে বস্ত্র, চামড়া, রত্ন গয়না এবং রাসায়নিক দ্রব্যের মতো রপ্তানিমুখী উৎপাদন ক্ষেত্রে কর্মরত বা ব্যবসা পরিচালনাকারী নারীরা অনেক বেশি ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছেন।

এই চুক্তিকে সফল করাভবিষ্যতের পথরেখা অঙ্কন

নারী ব্যবসায়ী, কাস্টমস ব্রোকার, ফ্রেট ফরোয়ার্ডার, ক্রেন অপারেটর, বন্দর কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন মূল্য শৃঙ্খলে পরিব্যাপ্ত নারীদের জীবনে প্রকৃত পরিবর্তন আনা এবং একটি বাস্তব পার্থক্য তৈরি করা নির্ভর করবে ভারত যুক্তরাজ্যের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে (এফটিএ) বর্ণিত দৃষ্টিভঙ্গিটি কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় তার উপর। এর জন্য তিনটি মূল উপাদান প্রয়োজন: অর্থায়ন, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

১। রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং লিঙ্গ সমতার সমর্থন: ওয়ার্কিং গ্রুপকে অবশ্যই সর্বোচ্চ পদাধিকারী কর্মকর্তাদের এমন নেতৃত্বের মাধ্যমে ক্ষমতায়ন করতে হবে যাঁদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা রয়েছে এবং যাঁরা আন্তরিকভাবে লিঙ্গ সমতাকে মূলধারায় আনার পক্ষে কাজ করেন। উচ্চ-পর্যায়ের রাজনৈতিক সমর্থন ছাড়া, গ্রুপটি অর্থপূর্ণ পরিবর্তনের অনুঘটক না হয়ে একটি প্রতীকী সংস্থায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে।

২। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্থায়ন: উভয় সরকারকেই ওয়ার্কিং গ্রুপকে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানের জন্য নিবেদিত তহবিল ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য লিঙ্গ বিশেষজ্ঞদের নিযুক্ত করা, ব্যাপক বার্ষিক লিঙ্গ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা, এবং শক্তিশালী পর্যবেক্ষণ কাঠামো তৈরি করা। নীতি প্রণয়নে আঞ্চলিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রকৃত বাস্তব পর্যায়ের জ্ঞান নিশ্চিত করার জন্য প্রতিনিধিত্বে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের বিশেষজ্ঞদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

৩। তৃণমূল পর্যায়ে নেতৃত্ব নেটওয়ার্ক তৈরি করা: ওয়ার্কিং গ্রুপকে অবশ্যই ভারতের বিশাল বাণিজ্য পরিকাঠামো জুড়ে মহিলা ব্যবসায়ী, লজিস্টিক পরিষেবা প্রদানকারী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবেযার মধ্যে শুধু মুম্বই, কলকাতা, আহমেদাবাদ এবং চেন্নাইয়ের মতো প্রধান শহরগুলিই নয়, বরং টুটিকোরিন, ভাইজ্যাগ, কোচি, গোয়া এবং আরও অনেক স্থান অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বেসরকারি ক্ষেত্রের সংস্থা, শিল্প সমিতি (বিশেষ করে তাদের মহিলা শাখা) এবং জনসম্প্রদায়-ভিত্তিক সংস্থাগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্বের গুরুত্বপূর্ণ বাস্তব পর্যায়ের অন্তর্দৃষ্টি এবং বাস্তবায়নের পথ সরবরাহ করার সম্ভাবনা বেশি।

৪। বাস্তবায়নের ঘাটতি মোকাবিলা: বর্তমানে মহিলা লজিস্টিক পরিষেবা প্রদানকারী এবং বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের উপর সীমিত মনোযোগ একটি উল্লেখযোগ্য ত্রুটি। ওয়ার্কিং গ্রুপকে অবশ্যই এই উপেক্ষিত অথচ অপরিহার্য অংশীদারদের অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং বন্দর কার্যক্রম, শুল্ক সুবিধা এবং লজিস্টিক নেটওয়ার্কগুলিতে তাদের নির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলার জন্য লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

উপসংহার

লিঙ্গ সমতা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভারত-যুক্তরাজ্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সাফল্য নির্ভর করবে শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং তৃণমূল পর্যায়ের অংশীদারদের অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণের মাধ্যমে এর জোরালো বাস্তবায়নের উপর। ধারাবাহিক প্রচেষ্টা সমগ্র মূল্য শৃঙ্খলজুড়ে নারীর ক্ষমতায়নের পথ অবশ্যই প্রশস্ত করতে পারে, যা লিঙ্গ-সংবেদনশীল বাণিজ্য চুক্তির জন্য একটি মডেল স্থাপন করবে এবং সকলের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃদ্ধি সুযোগ তৈরি করবে।



সুনয়না কুমার সেন্টার ফর নিউ ইকনমিক ডিপ্লোম্যাসি, অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের পরিচালক এবং সিনিয়র ফেলো।

মিতালি নিকোরে একজন অর্থনীতিবিদ এবং নিকোরে অ্যাসোসিয়েটসের প্রতিষ্ঠাতা, যা একটি যুব-নেতৃত্বাধীন নীতি অর্থনীতি বিষয়ক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.