মার্কিন-ইরান যুদ্ধ যখন জ্বালানি প্রবাহে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে, তখন বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা এটাই তুলে ধরে যে, স্থিতিশীলতা কেবল বৈচিত্র্যময় আমদানির উপরই নয়, বরং স্থিতিশীল আঞ্চলিক অংশীদারিত্বের উপরেও নির্ভর করে।
মার্কিন-ইরান যুদ্ধের বহুবিধ পরিণতির মধ্যে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সঙ্কটই প্রধান। তেহরান পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী কৌশলগত সঙ্কীর্ণ পথ হরমুজ প্রণালীকে বন্ধ করে দেওয়ার ফলে বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি সঙ্কট ও মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। এই প্রণালীর মধ্য দিয়েই বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি বাণিজ্য চলাচল করে। দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলি - যাদের অধিকাংশই শিল্প ব্যবহার, বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহণ এবং রান্নার জন্য নবায়নযোগ্য নয় এমন জ্বালানির উপর ব্যাপক ভাবে নির্ভরশীল - গুরুতর চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতি বিশেষ ভাবে তীব্র, যে দেশটি সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিদ্যমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দরুন সৃষ্ট তীব্র জ্বালানি সঙ্কট-সহ বিভিন্ন কারণে ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। তাই এই জটিল জ্বালানি সঙ্কট থেকে উত্তরণ ঘটানো বাংলাদেশের নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ, যারা ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতায় এসেছে। তবে এটি দেশের পররাষ্ট্রনীতিকে নতুন করে ঢেলে সাজানো এবং অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে তিক্ত হয়ে ওঠা সম্পর্কগুলিকে সহজতর করে তোলার একটি সুযোগও বটে।
বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতি বিশেষ ভাবে তীব্র, যে দেশটি সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিদ্যমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দরুন সৃষ্ট তীব্র জ্বালানি সঙ্কট-সহ বিভিন্ন কারণে ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে।
বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি এবং সঙ্কটের প্রভাব
বাংলাদেশ তার তেলের চাহিদার ৯৫ শতাংশ এবং গ্যাসের চাহিদার ৩০ শতাংশের জন্য আমদানির উপর নির্ভরশীল। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশ প্রায় ২০.৬৯ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে, যার মধ্যে প্রায় ১৩ লাখ টন বা মোট পরিমাণের ৬৩ শতাংশ সরবরাহ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ইরাক এবং সৌদি আরব। বাকি ৩৭ শতাংশ অন্যান্য দেশ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। ব্যবহারের আগে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেল রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে পরিশোধন করে ডিজেল ও পেট্রোল-সহ ১৩টি পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যে রূপান্তরিত করা হত। ফলস্বরূপ, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলে বিধিনিষেধ ঢাকার জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলেছে এবং দেশের সীমিত মজুত ও সংগ্রহের সক্ষমতা এই ঘাটতিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফিনান্সিয়াল অ্যানালাইসিস-এর মতে, ঢাকায় প্রতিদিন ১৩ কোটি ঘনফুটেরও বেশি জ্বালানির ঘাটতি রয়েছে। তীব্র গ্যাস সঙ্কটের কারণে বাংলাদেশ তার পাঁচটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সার কারখানার মধ্যে চারটির কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে এবং ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট এড়াতে অবশিষ্ট গ্যাস বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে সরবরাহ করা হয়েছে। সঙ্কট মোকাবিলায় বিএনপি সরকার ইতিমধ্যে সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ আবাসিক হল, শ্রেণিকক্ষ, গবেষণাগার এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণে প্রচুর বিদ্যুৎ খরচ হয়। বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং জ্বালানি অপচয়কারী যানজট কমাতে জরুরি পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ঈদ-উল ফিতরের ছুটিও এগিয়ে আনা হয়েছে। এ ছাড়াও, প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও দক্ষতার সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবহার, দিনের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনীয় আলো ও বিদ্যুৎ খরচ কমানোর জন্য নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। মজুত করা এবং আতঙ্কিত হয়ে কেনাকাটা রোধ করতে সরকার দৈনিক জ্বালানি বিক্রির উপরও সীমা আরোপ করেছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলে বিধিনিষেধ ঢাকার জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলেছে এবং দেশের সীমিত মজুত ও সংগ্রহের সক্ষমতা এই ঘাটতিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
তবে ঢাকায় পেট্রোল কেনার জন্য ফিলিং স্টেশনগুলির বাইরে ইতিমধ্যেই লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে। গ্রীষ্মকাল এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানির চাহিদা বাড়বে, যা দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতিকে আরও তীব্র করবে। জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, রেশনিং ব্যবস্থা বিদ্যুৎ খাতের জন্য কেবল স্বল্পমেয়াদি স্বস্তি দিতে পারে। সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং-এর (সানেম) একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, আমদানিকৃত জ্বালানি, উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে পাঠানো রেমিটেন্স এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য শৃঙ্খলের উপর বাংলাদেশের ব্যাপক নির্ভরশীলতা দেশটির অর্থনীতিকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক ধাক্কার ঝুঁকিতে ফেলেছে। সুতরাং, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েলের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ আগামী কয়েক বছরে দেশের জিডিপি ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে।
তাই কর্তৃপক্ষ জ্বালানি আমদানি স্থিতিশীল করতে এবং বণ্টন ব্যবস্থাপনার জন্য কাজ করছে। ২০২৬ সালের এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত ইরানের নিরাপত্তা পরিষদ হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা ছ’টি বাংলাদেশি জ্বালানিবাহী জাহাজের জন্য নিরাপদ পথের অনুমোদন দিয়েছে। তারেক রহমান প্রশাসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর ট্যাঙ্কার-সহ এই জাহাজগুলিকে একটি সুরক্ষিত ও নজরদারিতে থাকা করিডোর দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। ক্রমবর্ধমান তেলের দামের পরিপ্রেক্ষিতে আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক (এডিবি), এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্ক এবং ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফিন্যান্স কোঅপারেশন-সহ প্রধান উন্নয়ন ঋণদাতাদের সঙ্গেও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমির উল্লেখ করেছেন যে, ঢাকা ‘একটি বিদ্যমান কর্মসূচির অধীনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল থেকে ১.৩ বিলিয়ন ডলার এবং এডিবি থেকে বাজেটে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তার পাশাপাশি অতিরিক্ত আরও ২৫০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার’ পাওয়ার প্রত্যাশা করছে। বাংলাদেশ গ্রাহকদের অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ থেকে বিরত রাখতে আগ্রহী। এই সংস্থাগুলি থেকে ঋণ জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে।
ঢাকায় পেট্রোল কেনার জন্য ফিলিং স্টেশনগুলির বাইরে ইতিমধ্যেই লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে। গ্রীষ্মকাল এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানির চাহিদা বাড়বে, যা দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতিকে আরও তীব্র করবে।
দ্বিপাক্ষিক ভারসাম্য ও সরবরাহ সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা
মধ্যপ্রাচ্য থেকে সীমিত সরবরাহ এবং বহুপাক্ষিক তহবিল দেশের বর্তমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট নয়। তাই বিএনপি সরকার তার অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক উৎস, যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে পরিশোধিত জ্বালানির আমদানি বাড়িয়েছে। এটি সম্ভব হয়েছে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে, যেখানে বাংলাদেশের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস-সহ (এলএনজি) জ্বালানি পণ্যের আমদানি বাড়ানোর বিধান রয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরু পর্যন্ত ঢাকা ২৫.৮৬ লাখ টন এলএনজি আমদানি করেছে, যার মধ্যে ১৬.৫২ লাখ টন বা ৬৪ শতাংশ এসেছে কাতার থেকে। বাকি ৩৬ শতাংশের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৪.৩৬ লাখ টন বা ১৭ শতাংশ সরবরাহ করেছে। একই সময়ে বাংলাদেশ ১৫.৮৭ লাখ টন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি করেছে, যার মধ্যে ১১.০৭ লাখ টন বা ৬৯ শতাংশ এসেছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে এবং বাকি ৩১ শতাংশের মধ্যে ৩.৪০ লাখ টন বা ২২ শতাংশ বিক্রি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঢাকার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি উৎস। শুধু গত দু’মাসে বাংলাদেশের মোট ১.৭৩ লাখ টন এলপিজি আমদানির ৬২ শতাংশ এসেছে আমেরিকা থেকে। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের উপর ঢাকার নির্ভরশীলতা কমেছে।
তবে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তিটি বর্তমান সঙ্কটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সাহায্য করলেও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধির একটি মূল্য রয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান অস্থিরতার কারণে জাহাজ সংস্থাগুলি তাদের পূর্বগামী পণ্য সুয়েজ খাল ও লোহিত সাগরের পরিবর্তে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্তের কেপ অফ গুড হোপ হয়ে পাঠাচ্ছে। এতে পণ্য পৌঁছনোর সময় ১০-২০ দিন বেড়ে যায়, যা পরিবহণ খরচ বাড়ায় এবং আকাশছোঁয়া তেলের দামকে আরও বাড়িয়ে তোলে। সুতরাং, এটি কোনও স্থিতিশীল বিকল্প নয়। তাই বাংলাদেশ সরকার শুধু মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থেকে জ্বালানি আমদানি বাড়ানোর জন্যই কাজ করছে না, বরং একটিমাত্র অংশীদারের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এড়াতে উৎসগুলিকে বৈচিত্র্যময় করার জন্যও কাজ করছে। এলএনজির চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশকে স্পট মার্কেট থেকে চড়া দামে তিনটি কার্গো কিনতে হলেও প্রধানমন্ত্রী রহমান অন্যান্য পরিশোধিত তেল, বিশেষ করে ডিজেলের জন্য ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতে শুরু করেছেন, যা দেশটির বস্ত্রশিল্পকে শক্তি জোগায়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এই সম্পর্কটি তিক্ত হয়ে পড়েছিল।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে সীমিত সরবরাহ এবং বহুপাক্ষিক তহবিল দেশের বর্তমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট নয়।
২০২৪ সালের অগস্ট মাসে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে ফাটল ধরে, যা নয়াদিল্লিকে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের সম্প্রসারণ প্রকল্প স্থগিত করতে বাধ্য করে। এই পাইপলাইনটি অসমের নুমালিগড় শোধনাগার থেকে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করত। তবে কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এমনও বলা হয় যে, অন্তর্বর্তী সরকার ভারত থেকে ডিজেল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছিল, যদিও এই দাবির সপক্ষে কোনও প্রমাণ নেই। তা সত্ত্বেও, ভারতের মোদী সরকার এবং বর্তমান রহমান প্রশাসনের মধ্যে নতুন করে আলোচনার পর বাংলাদেশ ২০২৬ সালের মার্চ মাসের শেষ নাগাদ ভারত থেকে প্রায় ৪৫,০০০ টন ডিজেল পেতে চলেছে, যার মধ্যে প্রায় ২৭,০০০ টন ইতিমধ্যেই সরবরাহ করা হয়েছে বা পথে রয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এই বছর ভারত থেকে এক লক্ষ টনেরও বেশি আমদানি করার পরিকল্পনা করছে।
বিএনপি সরকার ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিটিও বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সংস্থাটি বাংলাদেশে দৈনিক প্রায় ১,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে, যা দেশের মোট ১৪,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রায় ১০ শতাংশ। ২০১৭ সালে সাবেক শেখ হাসিনা সরকারের আমলে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিটি পরবর্তী কালে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত একটি পর্যালোচনা কমিটির পর্যালোচনার আওতায় আসে। আন্তর্জাতিক সালিশি আইন ও পদ্ধতি অনুসারে চুক্তিটি ‘বাতিল বা পুনর্বিবেচনা’ করার মতো ‘ব্যাপক প্রমাণ’ থাকার কারণে কমিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখে। যেহেতু কমিটি দেখেছে যে, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় চুক্তিটি অস্বাভাবিক ভাবে উচ্চ মূল্যে সম্পাদিত হয়েছিল, তাই রহমান সরকার চুক্তিটিতে কিছু পরিবর্তন আনার কথা বিবেচনা করছে। তা সত্ত্বেও, এটি প্রতিবেশী দেশ দু’টির মধ্যে একটি পুনর্নবীকৃত কার্যকরী সম্পর্কের সূচনা করে।
জ্বালানি সঙ্কটকালে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা এটাই দেখায় যে, বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব প্রয়োজনীয় হলেও, ভৌগোলিক কৌশলগত সুবিধার কারণে নিকটতম প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক বিশেষ ভাবে অপরিহার্য।
কৌশলগত রক্ষাকবচ হিসেবে প্রতিবেশী সম্পর্ক
বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি সঙ্কট দেখিয়ে দিয়েছে, কী ভাবে বাহ্যিক সংঘাত জ্বালানি আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলির অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিএনপি সরকার বহুপাক্ষিক সমর্থন এবং দ্বিপাক্ষিক বৈচিত্র্যকরণের মাধ্যমে এই সঙ্কট থেকে মুক্তির চেষ্টা করলেও, এই ঘটনাটি প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্বকেও তুলে ধরে। ডিজেলের ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা প্রমাণ করেছে যে, বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে নিকটতম প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে নির্ভরযোগ্য সম্পর্ক সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করতে পারে। কোভিড-১৯ অতিমারির সময়েও এর প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল, যখন ভারত তার ‘ভ্যাকসিন মৈত্রী’ কর্মসূচির অধীনে বাংলাদেশে টিকা পাঠানোকে অগ্রাধিকার দিয়েছিল এবং ঢাকাও তার প্রতিদানে ওষুধ ও সরঞ্জাম সরবরাহ করেছিল। জ্বালানি সঙ্কটকালে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা এটাই দেখায় যে, বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব প্রয়োজনীয় হলেও, ভৌগোলিক কৌশলগত সুবিধার কারণে নিকটতম প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক বিশেষ ভাবে অপরিহার্য। দীর্ঘমেয়াদে, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা কেবল উৎসের বৈচিত্র্যের উপরই নির্ভর করবে না, বরং ভবিষ্যতের ধাক্কা সামাল দিতে সক্ষম এমন স্থিতিশীল আঞ্চলিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার উপরেও নির্ভর করবে।
সোহিনী বোস অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের অ্যাসোসিয়েট ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Sohini Bose is an Associate Fellow at Observer Research Foundation (ORF), Kolkata with the Strategic Studies Programme. Her area of research is India’s eastern maritime ...
Read More +