-
CENTRES
Progammes & Centres
Location
শিক্ষা কূটনীতি ইন্দো-জার্মান সম্পর্ককে নতুন রূপ দিচ্ছে এবং গতিশীলতা, দক্ষতা ও সহযোগিতা ‘ব্রেন ড্রেনের’ মাধ্যমে ‘মস্তিষ্কের সঞ্চালনে’ রূপান্তরিত হচ্ছে।
একবিংশ শতাব্দী থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার দৃশ্যপট ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের গতিশীলতা এখন আর ক্ষতি বা ‘ব্রেন ড্রেন’ হিসেবে বিবেচিত হয় না, বরং জাতীয় সম্পদ গড়ে তোলার একটি হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হয়। এর ফলে জ্ঞান স্থানান্তর, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং পারস্পরিক আন্দোলন – অর্থাৎ মস্তিষ্কের সঞ্চালন - বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলাফলের মধ্যে রয়েছে বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্ক কিউরেশন, শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং বিদেশি অর্থ প্রবাহ।
ইন্দো-জার্মান সম্পর্ক বিশেষ ভাবে এই পরিবর্তনের উদাহরণ: জার্মানি কেবল ভারতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গন্তব্য নয়, বরং অভিবাসন এবং গতিশীলতা, শিক্ষাগত সংস্কার এবং দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অংশীদার। এই নিবন্ধটির লক্ষ্য হল ইন্দো-জার্মান শিক্ষা সহযোগিতার প্রবণতা, নীতি, সুযোগ ও চ্যালেঞ্জগুলি অন্বেষণ করা এবং ভারতের জন্য সম্ভাব্য নীতিগত দিকনির্দেশনার পরামর্শ দেওয়া।
জার্মানি কেবল ভারতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গন্তব্য নয়, বরং অভিবাসন এবং গতিশীলতা, শিক্ষাগত সংস্কার এবং দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অংশীদার।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং প্রবণতা
গত পাঁচ বছরে জার্মানিতে ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে, এমনকি অতিমারির বছরগুলিতেও অন্যথা হয়নি। ২০১৮-১৯ সালে প্রায় ২০,৮১০ জন ভারতীয় শিক্ষার্থী জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ভর্তি হয়েছিল। ২০২৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ৬০,০০০-এ পৌঁছেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ১১৪,০০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা এই প্রবণতার অব্যাহত অগ্রগতির উপর নির্ভরশীল (নিচের চিত্র ১ দেখুন)।

উৎস: লেখক দ্বারা প্রস্তুত: ডিএএডি, ২০২৩, টাইমস অফ ইন্ডিয়া এবং ইকোনমিক টাইমস থেকে প্রাপ্ত তথ্য ব্যবহার করে
ভারতীয় শিক্ষার্থীরা এখন জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ভর্তি হওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় দল। ইঞ্জিনিয়ারিং (৬০ শতাংশ); আইন, ব্যবস্থাপনা এবং সামাজিক অধ্যয়ন (২২ শতাংশ), গণিত (১৪ শতাংশ) এবং প্রাকৃতিক বিজ্ঞান (৪ শতাংশ) পড়াশোনা করছেন।
জার্মানির প্রতি এই ক্রমবর্ধমান প্রবণতার কারণ হল সাশ্রয়ী মূল্য, শক্তিশালী শিল্প সংযোগ, অনুকূল ভিসা ও আবাসিক নীতির পাশাপাশি জার্মানির বয়স্ক জনসংখ্যার কারণে দক্ষ শ্রমিকের তীব্র চাহিদা। একটি গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণের বিষয় হল, জার্মানির বেশির ভাগ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য খুব কম টিউশন ফি নেওয়া হয় বা অনেক ক্ষেত্রে তা নেওয়াও হয় না, যার ফলে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা অস্ট্রেলিয়ার তুলনায় অনেক বেশি সাশ্রয় হয়। অনেক শিক্ষার্থী আইনত অনুমোদিত খণ্ডকালীন কাজের সুযোগকেও মূল্য দেয়। আরও কিছু জনপ্রিয় শিক্ষা গন্তব্যে কঠোর ভিসা ব্যবস্থা, ক্রমবর্ধমান টিউশন ফি এবং কঠোর শিক্ষা-পরবর্তী কাজের নিয়মকানুনগুলির কারণে জার্মানির প্রতি পছন্দ বাড়ছে, যার পরিবর্তে ধীরগতির বৃদ্ধি ও নতুন ভর্তি হ্রাস পাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি তার ভিসার নিয়ম কঠোর করেছে; কানাডা শিক্ষার্থী ভিসার উপর সীমা ও বিধিনিষেধ চালু করেছে; এবং যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে থাকা নির্ভরশীলদের জন্য নিয়ম কঠোর করেছে, যার ফলে শিক্ষার্থীরা অন্যান্য গন্তব্য বিবেচনা করতে বাধ্য হচ্ছেন।
২০০৬ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে জার্মানিতে পড়াশোনা করতে আসা অ-ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) শিক্ষার্থীদের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি এক দশক পরেও দেশেই ছিলেন। যাঁদের জার্মানিতে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে, তাঁদের প্রায় ৩২ শতাংশ ভারতীয় ছিলেন।
জার্মানি ভারতীয় শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি কর্মসূচিও শুরু করেছে, যার মধ্যে রয়েছে বৃত্তি এবং ১৮ মাস পর্যন্ত মেয়াদি পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসা। এটি স্নাতকদের চাকরি খোঁজার সুযোগ করে দেয় এবং শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থান ও আবাসনের জন্য একটি স্পষ্ট পথ তৈরি করে।
এ ছাড়াও, জার্মানি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দক্ষতা/শ্রমিকের ঘাটতির সম্মুখীন হচ্ছে। ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সির ‘বাটলনেক অকুপেশনস’ রিপোর্ট অনুসারে, নার্সিং ও স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ ট্রেড ও দক্ষ ট্রেডগুলি সাধারণত বিশেষ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উপরন্তু, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আইটি/এসটিইএম ক্ষেত্রে বিপুল সংখ্যক অপূর্ণ শূন্যপদ মূল্য সংযোজন আউটপুটে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির কারণ হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে কোলন ইনস্টিটিউট জার্মানিতে দক্ষ পেশাদারদের জন্য ৬৩০,০০০-এরও বেশি চাকরির শূন্যপদের কথা তুলে ধরেছে, যা অবিলম্বে পূরণ করা প্রয়োজন। এই ঘাটতি ইঙ্গিত দেয় যে, জার্মানিতে স্নাতকদের শক্তিশালী কেরিয়ারের সম্ভাবনা রয়েছে এবং থাকার জন্য ক্রমবর্ধমান প্রণোদনাও রয়েছে। পড়াশোনা-পরবর্তী থাকার হার বহু বছর ধরে উচ্চ, বেশ কিছু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী জার্মান শ্রমবাজারে সমন্বিত হচ্ছে। ডেস্টাটিস-এর (জার্মান ফেডারেল স্ট্যাটিস্টিকস অফিস) একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, ২০০৬ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে জার্মানিতে পড়াশোনা করতে আসা অ-ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) শিক্ষার্থীদের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি এক দশক পরেও দেশেই ছিলেন। যাঁদের জার্মানিতে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে, তাঁদের প্রায় ৩২ শতাংশ ভারতীয় ছিলেন।
নীতি কাঠামো এবং এর প্রভাব
দক্ষ অভিবাসনকে সমর্থন করে ভারত ও জার্মানির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হল ২০২২ সালের ব্যাপক অভিবাসন ও গতিশীলতা অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিএমএমপিএ)। এটি দক্ষ কর্মীদের জন্য অভিবাসন পথের বিধান তৈরি করে, যার মাধ্যমে বছরে ৩০,০০০ কাজের ভিসা পাওয়া যায়। সর্বোপরি, নির্দিষ্ট কিছু বিভাগের জন্য বর্ধিত, স্বল্প-স্থায়ী, একাধিক-প্রবেশ ভিসা, যেমন শিক্ষার্থী, বৃত্তিমূলক শিক্ষা, প্রশিক্ষণে সহযোগিতা ও অভিবাসন, প্রত্যাবর্তন ও গতিশীলতার সমস্যা বাস্তবায়নের জন্য যৌথ কর্মী গোষ্ঠী, চুক্তিতে অতিরিক্ত অবদান রাখে। ‘বিনামূল্যে ভিসা’ চুক্তি - যা বিনামূল্যে স্বল্পমেয়াদি স্কুল ও কলেজ ভ্রমণ প্রদান করে - বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্য, বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত পিছিয়ে পড়া শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য সাংস্কৃতিক ভ্রমণ ও গবেষণা প্রকল্পের মতো অভিজ্ঞতা উপলব্ধ করার সুযোগ করে দেয়।
এই চুক্তিগুলি উভয় দেশের জন্যই তাৎপর্যপূর্ণ। জার্মানির জন্য, এটি অনেক ক্ষেত্রে দক্ষতার ঘাটতি পূরণ করে (যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে) এবং ভারত থেকে যোগ্য প্রতিভার একটি আইনি, পূর্বাভাসযোগ্য পাইপলাইন তৈরি করতে সহায়তা করে। সংজ্ঞায়িত পথ ও স্পষ্ট পুনর্বাসন পদ্ধতির মাধ্যমে জার্মানি অভিবাসন প্রবাহকে আরও ভাল ভাবে পরিচালনা করতে পারে, অনিয়মিত অবস্থান হ্রাস করতে পারে এবং ভারত থেকে পারস্পরিক সহযোগিতা কামনা করতে পারে।
ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, ক্রমবর্ধমান ইন্দো-জার্মান শিক্ষা অভিবাসনের একাধিক ইতিবাচক দিক রয়েছে। প্রথমত, জার্মানিতে ইঞ্জিনিয়ারিং, ব্যবস্থাপনা এবং প্রাকৃতিক বিজ্ঞান অধ্যয়নরত বিপুল সংখ্যক ভারতীয় শিক্ষার্থী ইঙ্গিত দেয় যে, ভারত বিদেশে উল্লেখযোগ্য মানব পুঁজি তৈরি করছে। এমনকি যখন শিক্ষার্থীরা আংশিক ভাবে জার্মানিতে থাকেন, তাঁদের অনেকেই পরে ফিরে আসেন অথবা গবেষণা, স্টার্টআপ, সহযোগিতা বা ভারতের প্রবাসী নেটওয়ার্কগুলিতে অবদানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংযোগ বজায় রাখেন। জ্ঞান এবং দক্ষতার এই প্রবাহ ভারতীয় উচ্চশিক্ষা, শিল্প এবং এর উদ্যোক্তা চেতনায় ফিরে আসতে পারে।
সর্বোপরি, সিএমএমপিএ-র মতো আইনি কাঠামো অনিয়মিত অভিবাসন কমাতে, শংসাপত্রের স্বীকৃতি মানসম্মত করতে এবং বিদেশে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। এটি ইন্দো-জার্মান গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অফ অ্যাকাডেমিক নেটওয়ার্কস (জিআইএএন), ভিজিটিং অ্যাডভান্সড জয়েন্ট রিসার্চ (ভিএজেআরএ) এবং স্কিম ফর প্রমোশন অফ অ্যাকাডেমিক অ্যান্ড রিসার্চ কোলাবোরেশন-সহ (স্পার্ক) বেশ কয়েকটি উদ্যোগের মাধ্যমে সহযোগিতা সক্ষম করে, যা অনুষদ ও গবেষকদের বিনিময়কে সহজতর করে এবং প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতাকে সমর্থন করে। এই সহযোগিতাগুলি প্রযুক্তি, জলবায়ু এবং বাণিজ্য-সহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও দ্বিপাক্ষিক আস্থা জোরদার করে - বিশ্বব্যাপী দক্ষ অভিবাসন নেটওয়ার্কগুলিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা প্রদর্শন করে। এগুলি জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক বৃদ্ধি, গবেষণা, শিক্ষাগত সহযোগিতা উন্নত করে এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে তার গতিশীলতার বিকল্পগুলি নিয়ে আলোচনা করার সুযোগকে শক্তিশালী করে অবদান রাখে। সর্বোপরি, এটি ধারণারও পরিবর্তন করে: ভারত কেবল শ্রম বা শিক্ষার্থীদের উৎস নয়, বরং প্রতিভা বাস্তুতন্ত্রের সহ-সৃষ্টিতে অংশীদার।
জার্মানির সঙ্গে ভারতের শিক্ষা কূটনীতি জোরদার করার সুপারিশ
অভিবাসন ও গতিশীলতা অংশীদারিত্ব থেকে কূটনৈতিক ও দক্ষতা অর্জন সর্বাধিক করার জন্য এবং ঝুঁকি হ্রাস করার জন্য ভারত নিম্নলিখিত নীতিগত পদক্ষেপগুলি বিবেচনা করতে পারে:
১. জাতীয় দক্ষতা যোগ্যতা কাঠামো (এনএসকিউএফ) তৈরির অংশ হিসাবে, ভারতের উচিত শিক্ষাগত যোগ্যতা, বৃত্তিমূলক দক্ষতা এবং প্রয়োগিক দক্ষতাগুলিকে ভারতীয় ছাত্র ও দক্ষ কর্মীদের জন্য বিশ্বব্যাপী গন্তব্যস্থলগুলির চাহিদার সঙ্গে সমন্বয় করা, যেমন জার্মানির সঙ্গে করা উচিত। এটি মসৃণ ক্রেডিট স্থানান্তর এবং ডিগ্রির পারস্পরিক স্বীকৃতি সক্ষম করবে।
২. ভারতীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় সামাজিক-মানসিক দক্ষতা এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত দক্ষতাগুলিকে সমন্বিত করার ফলে শিক্ষার্থীরা কেবল জার্মানির দক্ষতার ঘাটতি পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত দক্ষতাই পাবে না, বরং একটি নতুন সামাজিক-পেশাদার পরিবেশে উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় অভিযোজনযোগ্যতা, সাংস্কৃতিক বুদ্ধিমত্তা এবং স্থিতিস্থাপকতাও পাবে।
৩. ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলিতে, বিশেষ করে বৃত্তিমূলক ট্রেডের জন্য, ইন্দো-জার্মান যৌথ ডিগ্রি, ডিপ্লোমা এবং দ্বৈত-ট্র্যাক (শিক্ষা + শিক্ষানবিশ) প্রোগ্রামগুলির মাত্রায়ন করে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষানবিশতায় জার্মানির শক্তিকে পুঁজি করা উচিত। এর ফলে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা অভিবাসনের আগে স্বীকৃত জার্মান-ধাঁচের যোগ্যতা অর্জন করতে পারে, যা জার্মান শ্রমবাজারে তাদের উত্তরণকে সহজ করে তোলে।
৪. বিশ্ববিদ্যালয়-স্তরের অ্যাকাডেমিক অংশীদারিত্বের জন্য, জার্মানি দেশে আন্তর্জাতিকীকরণ প্রচারের লক্ষ্যে ভারতের মূল অংশীদার হতে পারে। অফশোর ক্যাম্পাস, টুইনিং প্রোগ্রাম, সহযোগিতামূলক গবেষণা উদ্যোগ এবং ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি ও ভার্চুয়াল বিনিময়ের জন্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ভারতের জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সঙ্গে সক্রিয় ভাবে অংশীদারিত্ব করা উচিত।
বৃত্তিমূলক ও আনুষ্ঠানিক শিক্ষায় এই অংশীদারিত্ব ভারতীয় শিক্ষার্থীদের একটি বৃহত্তর অংশকে - যাঁরা বিদেশে পড়াশোনা করতে অক্ষম - বিশ্বব্যাপী মানদণ্ড অনুযায়ী শিক্ষা পেতে, আন্তঃসাংস্কৃতিক দক্ষতা অর্জন করতে এবং আন্তর্জাতিক শ্রম বাজারের জন্য কাজের প্রস্তুতি তৈরি করতে সক্ষম করবে, বিশেষ করে জার্মানিতে। একই সঙ্গে তারা ভারতের মধ্যে প্রতিভা ধরে রাখতে, স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে শক্তিশালী করতে এবং জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্যগুলিকে সমর্থন করতে অবদান রাখে।
১. ভারত সরকারের উচিত অভিবাসন, প্রত্যাবর্তন এবং ধরে রাখার পথগুলি নির্মাণ করার জন্য একটি কাঠামোগত জাতীয় প্রক্রিয়া তৈরি করা, প্রত্যাবর্তনকারী বা দীর্ঘমেয়াদি বাসিন্দাদের কথা মাথায় রেখেই এমনটা করতে হবে। নীতিগুলিতে গবেষণা সহযোগিতা, স্টার্টআপ ইনকিউবেশন বা ভিজিটিং ফ্যাকাল্টির ভূমিকার জন্য প্রণোদনা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে এবং এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসীদের ভারতের জ্ঞান অর্থনীতিতে অবদানকারীতে রূপান্তর করাও রয়েছে।
২. জার্মানিতে ভারতীয় প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ভারতীয় সংস্থা, স্টার্টআপ এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত করতে ডিজিটাল মঞ্চগুলি বিপরীত জ্ঞান প্রবাহ, যৌথ উদ্যোগ এবং এমনকি প্রত্যাবর্তনকে সমর্থন করবে - রেমিট্যান্সের বাইরে কৌশলগত সহযোগিতার দিকে এগিয়ে যাওয়া জরুরি।
৩. ভারতের উচিত ভারত-জার্মানি সিএমএমপিএকে একটি প্রধান কাঠামো হিসেবে বিবেচনা করা এবং জনসংখ্যাগত পরিবর্তন ও দক্ষতার ঘাটতির সম্মুখীন অন্যান্য দেশের (যেমন জাপান, ফ্রান্স এবং দক্ষিণ কোরিয়া) সঙ্গে অনুরূপ চুক্তি তৈরি করা এবং অন্যত্র পারস্পরিক সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য সেগুলিকে কাজে লাগানো।
ইন্দো-জার্মান শিক্ষা গতিশীলতা মস্তিষ্ক নিষ্কাশন বা ব্রেন ড্রেনের ধারণা থেকে মস্তিষ্ক সঞ্চালনের ধারণায় পরিবর্তনকে চিহ্নিত করে, যা ভারতকে দক্ষতা, কূটনীতি এবং বিশ্বব্যাপী প্রভাবে কৌশলগত লাভ প্রদান করে। তবে এই সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণ রূপে উপলব্ধি করার জন্য, নীতিগুলিকে নিশ্চিত করতে হবে যে, গতিশীলতা লব্ধ, ফলাফল ন্যায়সঙ্গত এবং ভারতে শক্তিশালী সংযোগ বজায় রাখা হয়েছে। সুচিন্তিত বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষা কূটনীতি ভারতের মানব মূলধন কৌশল এবং আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার ভিত্তিপ্রস্তর হয়ে উঠতে পারে।
অর্পণ তুলসিয়ান অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর নিউ ইকোনমিক ডিপ্লোমেসির সিনিয়র ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Arpan Tulsyan is a Senior Fellow at ORF’s Centre for New Economic Diplomacy (CNED). With 16 years of experience in development research and policy advocacy, Arpan ...
Read More +