দুর্বল অবকাঠামো, ত্রুটিপূর্ণ নিরীক্ষা এবং নিম্নমানের সংযোগের কারণে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ডিজিটাল প্রয়াস বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা দেশের ডিজিটাল অগ্রগতিতে এর অন্তর্ভুক্তিতে বাধা সৃষ্টি করছে।
দ্রুত বিকাশমান ডিজিটাল যুগে ভারত যখন একটি ডিজিটাল ভাবে ক্ষমতায়িত সমাজ এবং জ্ঞান-ভিত্তিক অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার জন্য উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করছে, তখন দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চল (এনইআর) একটি হতাশাজনক বৈপরীত্য তুলে ধরে। যেখানে ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’র ধারণাটি দেশের বেশির ভাগ অংশে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, সেখানে কৌশলগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলের আটটি রাজ্য একটি ডিজিটাল বিভাজনের সঙ্গে লড়াই করছে, যা এক নতুন ধরনের অনুন্নয়ন— ডিজিটাল বিচ্ছিন্নতা— সৃষ্টির হুমকি দিচ্ছে। অসংখ্য নীতি, পরিকল্পনা এবং কর্মসূচি থাকা সত্ত্বেও, দুর্গম ভূখণ্ড, ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা এবং পদ্ধতিগত প্রতিবন্ধকতার সম্মিলিত প্রভাবে এই অঞ্চলটি তাল মিলিয়ে চলতে হিমশিম খাচ্ছে। তাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ডিজিটাল সংযোগের বর্তমান অবস্থা, চলমান উদ্যোগগুলির কার্যকারিতা বোঝা এবং দেশের ডিজিটাল রূপান্তরে এই অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নীতিগত সুপারিশ প্রদান করা প্রয়োজন।
সংযোগের ব্যবধান: ডিজিটাল বিভাজন চিহ্নিতকরণ
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ডিজিটাল বিভাজন কেবল ধীরগতির ইন্টারনেটের বিষয় নয়; এটি এমন একটি ব্যবধান যা সংযোগের সুযোগ, সহজলভ্যতা, ক্রয়ক্ষমতা এবং গুণমান পর্যন্ত বিস্তৃত। বন্ধুর, পাহাড়ি ভূখণ্ড এবং ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ভৌত অবকাঠামো স্থাপনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলস্বরূপ একটি কঠোর বাস্তবতা হল, বিপুল সংখ্যক গ্রাম মোবাইল নেটওয়ার্ক থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে; উদাহরণস্বরূপ, অরুণাচল প্রদেশের প্রায় ৪৯.২৪ শতাংশ এবং সিকিমের ৬৫.৯৪ শতাংশ গ্রামে মোবাইল সংযোগ নেই। এই অবকাঠামোগত ঘাটতিই একটি প্রধান কারণ যার জন্য উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বেশির ভাগ রাজ্য প্রতি ১০০ জনে ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যার ক্ষেত্রে জাতীয় গড়ের চেয়ে পিছিয়ে আছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ডিজিটাল বিভাজন কেবল ধীরগতির ইন্টারনেটের বিষয় নয়; এটি এমন একটি ব্যবধান যা সংযোগের সুযোগ, সহজলভ্যতা, ক্রয়ক্ষমতা এবং গুণমান পর্যন্ত বিস্তৃত।
মৌলিক সংযোগের সমস্যার বাইরেও পরিষেবার মানের একটি গুরুতর সমস্যা রয়েছে। যেখানে সংযোগ বিদ্যমান, সেখানেও এর নির্ভরযোগ্যতা এবং গতি জাতীয় মানের চেয়ে অনেক নীচে। ভারতের টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি (ট্রাই) দ্বারা আসাম এবং মেঘালয়ের মতো রাজ্যগুলিতে পরিচালিত স্বাধীন ড্রাইভ টেস্ট রিপোর্টগুলি একটি কঠিন চিত্র তুলে ধরেছে। উদাহরণস্বরূপ, মেঘালয়ের কিছু অংশে ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড-এর (বিএসএনএল) ২জি নেটওয়ার্কে কল ড্রপের হার ছিল ৮.৭৫ শতাংশ এবং এর ৩জি নেটওয়ার্কে এই হার ছিল ১০.৬০ শতাংশ, যা ২ শতাংশ পরিষেবার মানের (কিউওএস) মানদণ্ডকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। একই ভাবে, অসমের কিছু অংশে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অপারেটরটির ২জি নেটওয়ার্কে কল সংযোগ সফলতার হার ছিল মাত্র ৭৬.০২ শতাংশ, যা ৯৮ শতাংশ মানদণ্ডের চেয়ে কম। ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি হিসেবে পরিচিত ডেটা পরিষেবাগুলির অবস্থাও সমান ভাবে অসন্তোষজনক। মেঘালয়ে বিএসএনএল-এর ৩জি নেটওয়ার্কে গড় ডাউনলোড গতি ছিল মাত্র ০.৩১৫ এমবিপিএস, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। এটি কেবল একটি অসুবিধাই নয়, বরং ই-গভর্ন্যান্স, অনলাইন শিক্ষা, টেলিমেডিসিন এবং ডিজিটাল বাণিজ্যে প্রবেশের ক্ষেত্রে একটি মৌলিক বাধা, যা কার্যকর ভাবে জনসংখ্যার একটি বড় অংশকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। এই অঞ্চল জুড়ে পরিষেবার মানের জন্য একটি শক্তিশালী, রিয়েল-টাইম ডেটা সংগ্রহের ব্যবস্থার অভাব সমস্যাটিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে, যার ফলে নীতিনির্ধারকরা সঠিক ব্যবধান চিহ্নিতকরণ এবং লক্ষ্যভিত্তিক হস্তক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় বিগ ডেটা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সরকারি উদ্যোগ: ঘাটতি এবং নিরীক্ষার অপরিহার্যতা
কেন্দ্রীয় সরকার এই চ্যালেঞ্জগুলি সম্পর্কে উদাসীন নয়। এই ব্যবধান পূরণের ঘোষিত লক্ষ্য নিয়ে ‘ডিজিটাল নর্থ ইস্ট ভিশন ২০২২’ এবং উচ্চাভিলাষী ভারতনেট প্রকল্পের মতো উদ্যোগ চালু করা হয়েছে। ‘ডিজিটাল নর্থ ইস্ট’ উদ্যোগটি কৃষি, ভিন্নভাবে সক্ষমদের শিক্ষা এবং চিরাচরিত কারুশিল্প-সহ বিভিন্ন খাতে নাগরিকদের ক্ষমতায়নের জন্য ডিজিটাল সমাধানগুলিকে কাস্টমাইজ এবং প্রয়োগ করার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। সম্প্রতি ‘ইন্টিগ্রেটেড ফিজিক্যাল সার্ভিসেস’-এর পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে ‘সমৃদ্ধ গ্রাম’ উদ্যোগটি ভারতনেট অবকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে একটি প্রাণবন্ত ডিজিটাল গ্রামের বাস্তুতন্ত্র তৈরি করার পরিকল্পনা করছে। এই পরিকল্পনাগুলি দেশের পাশাপাশি উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলের জন্য বিশাল সম্ভাবনা ধারণ করে।
কী প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল এবং তার বিপরীতে কী প্রদান করা হয়েছে, তার কঠোর, স্বাধীন এবং স্বচ্ছ মূল্যায়ন ছাড়া এই সদিচ্ছা-প্রণোদিত প্রকল্পগুলো নিছক বড় বড় ঘোষণায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে এবং জনগণের অর্থ একটি ডিজিটাল অতল গহ্বরে বিনিয়োগ করা হয়।
তবে প্রকল্পের বাস্তবায়ন বিলম্ব এবং অদক্ষতায় জর্জরিত হয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিতে ভারতনেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে লজিস্টিক প্রতিবন্ধকতাগুলি তুলে ধরায় এই অঞ্চলে এর অগ্রগতি ধীর হয়েছে। ‘সমৃদ্ধ গ্রাম’ সম্পর্কে দেশের যে স্বপ্ন— অর্থাৎ উচ্চ-গতির ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন পরিষেবা প্রদানকারী একটি ডিজিটালভাবে ক্ষমতায়িত গ্রাম— তা এই অঞ্চলে বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে, যখন এর মৌলিক পরিকাঠামোই অসম্পূর্ণ এবং অবিশ্বস্ত। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করে: এই ডিজিটাল সংযোগ পরিকল্পনা এবং কর্মসূচিগুলি কী ভাবে মূল্যায়ন, পর্যালোচনা এবং নিরীক্ষণ করা হয়েছে? এই প্রকল্পগুলির নিরীক্ষার ক্ষেত্রে আরও পেশাদারিত্ব, অগ্রাধিকার এবং আন্তরিকতার জরুরি প্রয়োজন রয়েছে। যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তার তুলনায় কী সরবরাহ করা হয়েছে, তার কঠোর, স্বাধীন এবং স্বচ্ছ মূল্যায়ন ছাড়া, এই সদিচ্ছাপূর্ণ প্রকল্পগুলি কেবল বড় ঘোষণায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে এবং দূরবর্তী অঞ্চলের প্রতিটি পঞ্চায়েত/গ্রামে শেষ ব্যবহারকারীর জন্য বাস্তব, মানসম্মত ফলাফলের দিক থেকে তেমন কিছু অর্জন ছাড়াই জনগণের অর্থ একটি ডিজিটাল অতল গহ্বরে বিনিয়োগ করা হবে।
সংযোগ থেকে অর্থপূর্ণ সংযোগে উত্তরণ
ডিজিটাল বিভাজন নিয়ে আলোচনাকেও কেবল অঞ্চলটিকে ‘সংযুক্ত’ করার সঙ্কীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে এসে ‘অর্থপূর্ণ সংযোগ’ নিশ্চিত করার দিকে বিকশিত হতে হবে। এই ধারণাটি সংযোগের গুণমানকে অন্তর্ভুক্ত করে, যার মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত গতি, পর্যাপ্ত ডেটা এবং একটি উপযুক্ত ডিভাইস। ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসের রেকর্ড অনুযায়ী, অসম ছাড়া (২২.৫৫ এমবিপিএস) উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রতিটি রাজ্যের শহরাঞ্চলে গড় ওয়্যারলেস ডাউনলোড গতি বাফারিংয়ের মতো সমস্যা এড়াতে প্রয়োজনীয় প্রস্তাবিত ২০ এমবিপিএস-এর নীচে ছিল।
ডিজিটাল বিভাজন নিয়ে আলোচনাকেও কেবল অঞ্চলটিকে ‘সংযুক্ত’ করার সঙ্কীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে এসে ‘অর্থপূর্ণ সংযোগ’ নিশ্চিত করার দিকে বিকশিত হতে হবে।
এ ছাড়াও, সাশ্রয়ী মূল্যের অভাব একটি প্রধান বাধা হিসেবে রয়ে গিয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের (ইউএন) ব্রডব্যান্ড কমিশনের সংজ্ঞা অনুসারে, ইন্টারনেট তখনই সাশ্রয়ী বলে বিবেচিত হয় যখন এন্ট্রি-লেভেলের ডেটা প্ল্যানের খরচ গড় মাসিক আয়ের ২ শতাংশের কম হয়। এই মানদণ্ড অনুযায়ী, অসম, মণিপুর, মেঘালয় এবং ত্রিপুরার গড় ব্যবহারকারী মৌলিক প্ল্যান ব্যবহারের জন্য এই সীমার চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেন। লিঙ্গ বৈষম্য এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তোলে; অসম এবং মেঘালয়ে ৪০ শতাংশেরও কম নারী কখনও ইন্টারনেট ব্যবহার করেছেন। আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল প্রাসঙ্গিক স্থানীয় বিষয়বস্তুর অভাব। উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভারতের সবচেয়ে ভাষাগত ভাবে বৈচিত্র্যময় অঞ্চল, যেখানে ৬৩টি অ-তালিকাভুক্ত ভাষার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বক্তা রয়েছেন। এই অবিশ্বাস্য বৈচিত্র্য এমন একটি ডিজিটাল বাস্তুতন্ত্র তৈরি করার ক্ষেত্রে একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করে, যেখানে বিষয়বস্তু সকলের জন্য প্রাসঙ্গিক এবং সহজলভ্য হবে, যা ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত উত্তর-পূর্বাঞ্চল নির্মাণ: এআই, ডিপিআই এবং দক্ষতা উন্নয়ন
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ডিজিটাল উন্নয়ন নিয়ে আলোচনায় ডিজিটাল রূপান্তরের পরবর্তী পর্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) এবং দক্ষতার রূপান্তর; এই সবকিছুর ক্ষেত্রেই মৌলিক সংযোগ অবকাঠামোই মূল চাবিকাঠি। কাজের ভবিষ্যৎ এআই এবং অটোমেশন দ্বারা ব্যাপক ভাবে প্রভাবিত হবে, যা ডিজিটাল সাক্ষরতা এবং উন্নত দক্ষতাকে অপরিহার্য করে তুলবে। তবে এই অঞ্চল একটি দুর্বল ইন্টারনেট ভিত্তির উপর একটি শক্তিশালী এআই বাস্তুতন্ত্র গড়ে তুলতে পারে না। শিক্ষাক্ষেত্রে সক্ষমতার ঘাটতি স্পষ্ট; অসমে মাত্র ১৬.২৭ শতাংশ স্কুলে কার্যকরী কম্পিউটার এবং মাত্র ১১.৭১ শতাংশ স্কুলে ইন্টারনেট সুবিধা রয়েছে, যা গুজরাতের মতো রাজ্যগুলির তুলনায় উল্লেখযোগ্য ভাবে কম, যেখানে এই সংখ্যা যথাক্রমে ৯৭.৮ শতাংশ এবং ৯২ শতাংশ।
ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের (এমইআইটিওয়াই) সক্ষমতা-বৃদ্ধি কর্মসূচির মতো উদ্যোগগুলি সঠিক লক্ষ্যে একটি পদক্ষেপ। তবে এটিকে ব্যাপক ভাবে প্রসারিত করতে হবে। একটি শক্তিশালী ডিপিআই - যার মধ্যে ডিজিটাল পরিচয় এবং অর্থপ্রদান অন্তর্ভুক্ত - একটি আধুনিক ডিজিটাল রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড। তবে উচ্চ নেটওয়ার্ক বিভ্রাট এবং ৫০ শতাংশ ধীর গতির ইন্টারনেটের কারণে এই অঞ্চলে ডিজিটাল পেমেন্ট লেনদেনের ব্যর্থতার হার জাতীয় গড়ের চেয়ে ১.৫ থেকে ২ গুণ বেশি। এই অস্থিতিশীলতা আস্থাকে ক্ষুণ্ণ করে এবং ডিজিটাল পরিষেবা গ্রহণে বাধা দেয়। উদীয়মান প্রযুক্তি দ্বারা চালিত ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে এই বৈচিত্র্যময়, স্থলবেষ্টিত অঞ্চলের প্রতিটি রাজ্যে একটি স্থিতিস্থাপক, উচ্চ-মানের এবং নির্ভরযোগ্য নেটওয়ার্ক অবকাঠামো তৈরি করাই হতে হবে তাৎক্ষণিক এবং প্রধান অগ্রাধিকার।
একটি নিরীক্ষিত পদক্ষেপের আহ্বান
উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের বাকি অংশের মধ্যে ডিজিটাল ব্যবধানটি কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি মানব সম্ভাবনার একটি ‘বিশাল ক্ষতি’কে নির্দেশ করতে পারে। এর অর্থ হল, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ডিজিটাল সমাজ ও অর্থনীতির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। ডিজিটাল অনুন্নয়নের এই ভবিষ্যৎ এড়াতে একটি আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। সংযোগ স্থাপনের এই প্রচেষ্টাকে অবশ্যই ভাল ভাবে সংযোগ স্থাপনের প্রতিশ্রুতির দ্বারাও পরিচালিত হতে হবে। এর জন্য একটি বহু-অংশীজনভিত্তিক পদ্ধতির প্রয়োজন, যা কেবল নীতি ঘোষণা এবং ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী (আইএসপি) প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর জন্য প্রয়োজন সময়াবদ্ধ বাস্তবায়ন, প্রকল্পগুলোর পেশাদার নিরীক্ষা, পরিষেবার মানের রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ এবং একটি ভবিষ্যৎ-উপযোগী বাস্তুতন্ত্র গড়ে তোলার উপর মনোযোগ দেওয়া, যা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক দক্ষতা উন্নয়ন, সুযোগ সৃষ্টি এবং স্থানীয় ডিজিটাল সমাজ ও অর্থনীতিকে চালিত করার জন্য স্থানীয় বিষয়বস্তুর প্রসারের পথ প্রশস্ত করবে। ডিজিটাল বিভাজন মোকাবিলা করা একটি চ্যালেঞ্জিং কিন্তু জরুরি পদক্ষেপ হবে, যার জন্য দৃঢ় প্রতিশ্রুতির প্রয়োজন। ডিজিটাল যুগে ‘দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রবেশদ্বার’ হিসেবে পরিচিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রাণবন্ত সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণ রূপে উপলব্ধি করার জন্য এই প্রচেষ্টা অপরিহার্য।
সৈয়দ সুলতান কাজি কাউন্সিল ফর সোশ্যাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডেভেলপমেন্টের (সিএসএসডি) ডিরেক্টর এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাংশের জন্য কর্মরত আইসিটিডি পেশাদার।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Syed is an ICTD professional for over 20 years now. He specialises in digital for development and has worked pan India and now focuses in ...
Read More +