সর্বশেষ শ্বেতপত্রে এটি স্পষ্ট করা হয়েছে যে, হংকংকে আর কোনও আধা-স্বায়ত্তশাসিত ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করা হবে না, বরং চিনের কেন্দ্রীভূত জাতীয় নিরাপত্তা রাষ্ট্রের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
হংকং বিষয়ে চিনের সাম্প্রতিক শ্বেতপত্র (হোয়াইট পেপার) - যার শিরোনাম ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’র (ওয়ান কান্ট্রি, টু সিস্টেমস) কাঠামোর অধীনে চিনের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা - কেবল একটি নীতিগত স্পষ্টীকরণ নয়, বরং একটি মতাদর্শগত সংহতকরণও বটে। ২০২১ সালের শ্বেতপত্রের পাশাপাশি নতুন পত্রটিকে পড়লে দেখা যাবে, এটি ২০২০ সালের জাতীয় নিরাপত্তা আইনের (ন্যাশনাল সিকিউরিটি ল বা এনএসএল) পর থেকে একটি ব্যাপক পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে। এই দলিলটি হংকং-এ একটি নতুন রাজনৈতিক ভারসাম্যকে আনুষ্ঠানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য চিনের অভিপ্রায়কে নির্দেশ করে, যেখানে স্বায়ত্তশাসনকে কেন্দ্রীভূত সার্বভৌমত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করা হয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা শাসনের মূল চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে। সমালোচনামূলক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, এই শ্বেতপত্রগুলি চারটি আন্তঃসংযুক্ত উদ্দেশ্য পূরণ করে: নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণকে সুসংহত করা, ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’র নতুন সংজ্ঞা দেওয়া, দেশীয় ও বৈশ্বিক আখ্যানকে রূপদান করা এবং হংকং-এর অর্থনীতিকে মূল ভূখণ্ডের অগ্রাধিকারের সঙ্গে কৌশলগত ভাবে সংযুক্ত করা। হংকং একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত বাফার অঞ্চল থেকে চিনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) অধীনে শি জিনপিংকে কেন্দ্র করে চিনের জাতীয় নিরাপত্তা রাষ্ট্রের একটি নিবিড় ভাবে সমন্বিত কেন্দ্রে রূপান্তরিত হচ্ছে।
পরবর্তী কালে ২০২৪ সালে পাস হওয়া জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষা অধ্যাদেশ (ধারা ২৩) রাষ্ট্রদ্রোহিতা, রাজদ্রোহ, গুপ্তচরবৃত্তি এবং ষড়যন্ত্রের মতো বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে আইনি কাঠামোকে প্রসারিত করেছে।
শাসনের মতবাদ হিসেবে জাতীয় নিরাপত্তার বিধিবদ্ধকরণ
সর্বশেষ শ্বেতপত্রটি হংকংয়ের উপর বেজিংয়ের ‘ব্যাপক এক্তিয়ার’কেই দর্শায়। এই একই ভাষা এর আগে ২০১৪ সালের শ্বেতপত্রে এবং ২০২১ সালের দলিলে দেখা গেলেও এর পুনরাবৃত্তি একটি পরিবর্তিত সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক করে তুলতে সাহায্য করে। ২০২০ সালের হংকং জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে, একটি সমান্তরাল প্রয়োগকারী কাঠামো ইতিমধ্যেই চালু করা হয়েছে, যার মধ্যে শহরে কর্মরত মূল ভূখণ্ডের নিরাপত্তা সংস্থাগুলিও অন্তর্ভুক্ত। পরবর্তী কালে ২০২৪ সালে পাস হওয়া জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষা অধ্যাদেশ (ধারা ২৩) রাষ্ট্রদ্রোহিতা, রাজদ্রোহ, গুপ্তচরবৃত্তি এবং ষড়যন্ত্রের মতো বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে আইনি কাঠামোকে প্রসারিত করেছে। এর প্রধান লক্ষ্য হল রাজনৈতিক ব্যবস্থা থেকে চিন-বিরোধী শক্তিগুলির অপসারণ এবং আর একটি রঙিন বিপ্লবের সম্ভাবনা হ্রাস করা, যার মাধ্যমে হংকংয়ের ওপর চিনের ক্ষমতা আরও সুসংহত হয়। ২০২৬ সালের শ্বেতপত্রটিকে বেজিংয়ের ভাষায় চিন-বিরোধী আন্দোলনকারী এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে একটি আইনি ঢাল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে এটি জাতীয় নিরাপত্তা নীতিকে একটি প্রতিক্রিয়াশীল থেকে সক্রিয় শাসন কাঠামোতে রূপান্তরিত করে। গুরুত্বপূর্ণ ভাবে, এই পদক্ষেপটি হংকং এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যকার সম্পর্ককে নতুন ভাবে সংজ্ঞায়িত করে, যেখানে বেজিং নিজেকে ১৯৮৪ সালের চিন-ব্রিটিশ যৌথ ঘোষণাপত্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে উচ্চ স্বায়ত্তশাসনের কেন্দ্রীয় ভাবে পরিচালিত নিরাপত্তা কাঠামোর অধীনে দ্বীপটির স্থিতিশীলতার প্রধান স্থপতি এবং নিশ্চয়তাকারী হিসেবে উপস্থাপন করে। সুতরাং, এই পরিবর্তনটি কেবল আইনগত নয়, বরং একটি কৌশলগত কাঠামোগত পরিবর্তন, যার মাধ্যমে হংকং-এর বিচার সংক্রান্ত স্বাধীনতা, রাজনৈতিক বহুত্ববাদ এবং উদারনৈতিক আদর্শগুলি জাতীয় নিরাপত্তা আইনের কড়া নজরদারির অধীনে পরিচালিত হবে।
‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’-র পুনর্গঠন
চিন হংকং-এর ক্ষেত্রে ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা (一国两制)’ নীতি অনুসরণ করে। এই সাংবিধানিক সূত্রটি সর্বপ্রথম ১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে দেং জিয়াওপিং ‘সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ’-এর (রিফর্ম অ্যান্ড ওপেনিং আপ) পর প্রস্তাব করেছিলেন এবং গণপ্রজাতন্ত্রী চিনের সংবিধানের ৩১ নং অনুচ্ছেদের অধীনে এটিকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যা ১৯৮২ সালে ‘বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল (স্পেশ্যাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিজিয়ন বা এসএআর)’ তৈরির অনুমতি দেয়। প্রাথমিক ভাবে এর উদ্দেশ্য ছিল হংকংকে এই আশ্বাস দেওয়া যে, পুনর্মিলনের পর সার্বভৌমত্ব ও স্বায়ত্তশাসনের মধ্যে একটি কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রেখে পুঁজিবাদ এবং নাগরিক স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ থাকবে। তবে বর্তমান ব্যাখ্যাটি ‘দুই ব্যবস্থা’-কে উপেক্ষা করে ‘এক দেশ’-এর দিকেই চূড়ান্ত ভাবে ঝুঁকে আছে। ‘সার্বিক এক্তিয়ার
(全面管治權)’ সংক্রান্ত মতবাদটি এই বিষয়ের উপরই জোর দেয় যে, হংকং কর্তৃক প্রয়োগকৃত সমস্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের কর্তৃত্ব থেকে উদ্ভূত, যেখানে স্বায়ত্তশাসন সহজাত নয়, বরং শর্তসাপেক্ষ। এটি ‘দুই ব্যবস্থা’ নীতিকে এমন ভাবে উপস্থাপন করে, যাতে তা জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের উপর চিনা সরকারের প্রাধান্য ও নিয়ন্ত্রণকে চ্যালেঞ্জ না করে। যারা এই ব্যবস্থার (গণতন্ত্রপন্থী) সঙ্গে একমত নন, চিনা সরকার ২০২১ সাল থেকে নির্বাচনী সংস্কারের মাধ্যমে তাদেরকে শাসনব্যবস্থায় অংশগ্রহণ থেকে কার্যকর ভাবে বাদ দিয়েছে এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতা প্রতিরোধের জন্য একটি প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে হংকং শাসনের জন্য একজন স্বদেশি শাসক প্রতিষ্ঠা করেছে। ফলস্বরূপ, এটি একটি প্রতিযোগিতামূলক আধা-গণতান্ত্রিক বহুত্ববাদী ব্যবস্থা থেকে নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক অংশগ্রহণের দিকে উত্তরণকেই চিহ্নিত করে, যেখানে রাজনৈতিক বৈধতার জন্য রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এই অর্থে দেখতে গেলে, শ্বেতপত্রটি তার মনোযোগ ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ থেকে ‘এক দেশ, এক ব্যবস্থা’-র (ওয়ান কান্ট্রি, ওয়ান সিস্টেম) দিকে সরিয়ে নিয়েছে।
‘সার্বিক এক্তিয়ার’ সংক্রান্ত মতবাদটি এই বিষয়ের উপরই জোর দেয় যে, হংকং কর্তৃক প্রয়োগকৃত সমস্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের কর্তৃত্ব থেকে উদ্ভূত, যেখানে স্বায়ত্তশাসন সহজাত নয়, বরং শর্তসাপেক্ষ। এটি ‘দুই ব্যবস্থা’ নীতিকে এমন ভাবে উপস্থাপন করে, যাতে তা জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের উপর চিনা সরকারের প্রাধান্য ও নিয়ন্ত্রণকে চ্যালেঞ্জ না করে।
আখ্যান ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক সঙ্কেত প্রদান
বড় ধরনের জাতীয় নিরাপত্তা বিচার, শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন অভিযান এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণের ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমালোচনা চলছে। উদাহরণস্বরূপ, জিমি লাই-এর দণ্ডাদেশ পশ্চিমি সরকার এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলির কাছ থেকে ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণের জন্ম দিয়েছে। তবে এই ধারাবাহিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বেজিং আখ্যান ব্যবস্থাপনাও করছে। এই আখ্যান কৌশলটি দু’টি স্তরে কাজ করে; অভ্যন্তরীণ ভাবে, এটি মূল ভূখণ্ডের জনগণকে আশ্বস্ত করে যে, কেন্দ্রীয় সরকার চিন-বিরোধী শক্তিগুলিকে চূড়ান্ত ভাবে নিষ্ক্রিয় করেছে এবং সিপিসি-র আধিপত্য বজায় রেখেছে। আন্তর্জাতিক ভাবে, আবার এটি ইঙ্গিত দেয় যে, ২০১৯-পরবর্তী পুনর্গঠন অপরিবর্তনীয় এবং এটি চিনা রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে কোনও চাপের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করবে না। সুতরাং, চিন ‘উচ্চ-মানের নিরাপত্তা কাঠামো’ (হাই স্ট্যান্ডার্ড সিকিউরিটি ফ্রেমওয়ার্ক) শিরোনাম ব্যবহার করে দেখাচ্ছে যে, এই কাঠামোটি কোনও দমনমূলক ব্যবস্থা নয়, বরং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য একটি পূর্বশর্ত। এ ভাবে চিন অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার আড়ালে জাতীয় নিরাপত্তাকে ছদ্মবেশে ঢেকে রাখছে। তবে এই আখ্যানটি উত্তেজনার সম্মুখীন। একটি বৈশ্বিক আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে হংকং-এর ঐতিহাসিক ভূমিকা কেবল স্থিতিশীলতার উপরই নয়, বরং আইনের শাসনের স্বচ্ছতা, তথ্যের প্রবাহ এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার উপর ভিত্তি করেও নির্মিত হয়েছিল। শাসনব্যবস্থার নিরাপত্তায় রূপান্তর সেই ধারণাটিকে বদলে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে, বিশেষ করে বহুজাতিক সংস্থা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে।
কৌশলগত একীকরণ এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা
জাতীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য ১৫তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (২০২৬-৩০) প্রণয়নে সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, হংকং-এর উচিত দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও ভাল ভাবে একীভূত হওয়াকে সমর্থন করা। এই বক্তব্যটি গ্রেটার বে ইনিশিয়েটিভের (গুয়াংদং-হংকং-ম্যাকাও) অধীনে হংকং, ম্যাকাও এবং মূল ভূখণ্ডের শহরগুলির মধ্যে সমন্বিতকরণ গভীর করার বিষয়ে বেজিংয়ের বৃহত্তর কৌশলের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই সমন্বিতকরণ অর্থনৈতিক সমন্বয়ের প্রতিশ্রুতি দিলেও এটি হংকংয়ের কার্যকরী স্বায়ত্তশাসনকেও খর্ব করে। চিরাচরিত ভাবে হংকং ডলার লেনদেন, মূলধন সংগ্রহ এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট বা এফডিআই) সহজতর করার মাধ্যমে চিন ও পশ্চিমের মধ্যে একটি আর্থিক প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করেছে। সংস্কার ও উন্মুক্তকরণের পর অধিকাংশ এফডিআই হংকং থেকে এসেছিল, যা চিনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে উদ্দীপিত করেছিল এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার পথ প্রশস্ত করেছিল।
তবে বহির্মুখী মূলধন প্রবাহ এবং বাণিজ্য শৃঙ্খলগুলির নিবিড় পর্যবেক্ষণ মূলত মার্কিন-চিন প্রতিযোগিতা এবং নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার উপর নির্ভর করছে। বিদেশি নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা এবং ‘লং-আর্ম জুরিসডিকশন’ বা দূরপাল্লার আইনি হস্তক্ষেপ প্রতিরোধ করতে বেজিং হংকং-কে ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটি সম্মুখ অর্থনৈতিক ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করে। সমালোচনামূলক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, বেজিং জানে যে, হংকং একটি ‘চোক পয়েন্ট’ বা কৌশলগত বাধা হতে পারে। তাই তারা অর্থনৈতিক পুনর্বিন্যাস ও রাজনৈতিক কৌশলের মাধ্যমে এই শহরটিকে কৌশলগত ভাবে নিজের সঙ্গে একীভূত করতে চায়। ফলে এই সমন্বিতকরণ সুযোগ ও ঝুঁকি… দুই-ই বহন করে: মূল ভূখণ্ডের অর্থনৈতিক কৌশলের সঙ্গে গভীরতর সমন্বয় রাজনৈতিক সমর্থন নিশ্চিত করতে পারে। তবে এটি হংকং-এর স্বায়ত্তশাসিত প্রাতিষ্ঠানিক পরিচিতিকেও ম্লান করে দিতে পারে।
চিন তার অর্থনৈতিক স্বার্থের উপর গুরুত্ব আরোপ করারও চেষ্টা করেছে। শ্বেতপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অর্থায়ন, জাহাজ চলাচল, বাণিজ্য এবং বিদেশি স্বার্থ রক্ষার মতো অপ্রচলিত ক্ষেত্রগুলির সুরক্ষায় আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত। প্রতিকূল বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ এবং নাশকতার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে এবং বিদেশি নিষেধাজ্ঞা, হস্তক্ষেপ ও দূরপাল্লার আইনি এক্তিয়ার মোকাবিলার ব্যবস্থা ও পদ্ধতিগুলিকে আরও উন্নত করতে হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা আসার পর তাঁর প্রথম বক্তৃতায় পানামা খালের উপর বেজিংয়ের প্রভাব নিয়ে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যকার প্রাথমিক শিপিং সংযোগটি ‘চিন পরিচালনা করছিল’। হংকং-ভিত্তিক সংস্থা ‘সিকে হাচিসন হোল্ডিং’ তাদের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘পানামা পোর্টস কোম্পানি’র মাধ্যমে ১৯৯০-এর দশক থেকে পাঁচটি কন্টেনার পোর্টের মধ্যে দু’টি পরিচালনা করে আসছে। মার্কিন-চিন সম্পর্কের অবনতির প্রেক্ষাপটে, সিকে হাচিসনের প্রতিষ্ঠাতা লি কা-শিং বন্দর পরিচালনার অধিকার বিক্রির পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে পানামার সুপ্রিম কোর্ট হংকং-ভিত্তিক সংস্থাটির পানামা খালের কন্টেনার পোর্ট পরিচালনার অনুমতি প্রদানকারী চুক্তিগুলি বাতিল করে দেয়। উপরন্তু, ২০২৫ সালের শেষের দিকে উন্মোচিত ট্রাম্প প্রশাসনের ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি’তে ঘোষণা করা হয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ‘পশ্চিম গোলার্ধে মার্কিন আধিপত্য পুনরুদ্ধার’ করতে চায় এবং এই অঞ্চলের প্রধান ভৌগোলিক অবস্থানগুলিতে প্রবেশাধিকার রক্ষা করতে, সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণ করতে এবং ‘কৌশলগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে’ প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ করতে চায়। বেজিং এই ঘটনাপ্রবাহকে তার স্বার্থের পরিপন্থী হিসেবে দেখছে।
হংকং-ভিত্তিক সংস্থা ‘সিকে হাচিসন হোল্ডিং’ তাদের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘পানামা পোর্টস কোম্পানি’র মাধ্যমে ১৯৯০-এর দশক থেকে পাঁচটি কন্টেনার পোর্টের মধ্যে দু’টি পরিচালনা করে আসছে।
অ্যাপল ডেইলি পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা, গণতন্ত্রপন্থী কর্মী এবং মিডিয়া টাইকুন জিমি লাই-কে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার পরপরই এই শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। এটি হংকং-এর আইনি ব্যবস্থা এবং সংবাদপত্রের প্রাণবন্ত স্বাধীনতার উপর চিনের কঠোর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণেরই প্রতিফলন। ব্যাপক বিচারিক এক্তিয়ারকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ নীতিকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করা, আন্তর্জাতিক আখ্যান তৈরি করা এবং শহরটিকে মূল ভূখণ্ডের কৌশলগত অগ্রাধিকারের সঙ্গে সারিবদ্ধ করার মাধ্যমে বেজিং মূলত নিরাপত্তা আধিপত্যের উপর ভিত্তি করে ২০১৯-পরবর্তী একটি নতুন শৃঙ্খলা সুসংহত করছে। এটি একটি মৌলিক পরিবর্তনকেও উন্মোচিত করে, যেখানে হংকং-কে আর চিনের ব্যবস্থার মধ্যে একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে না, বরং একটি কেন্দ্রীভূত জাতীয় নিরাপত্তা রাষ্ট্রের একীভূত অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কল্পিত এ মানকিকর অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের ফেলো।
অমিত রঞ্জন আলোক অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের রিসার্চ ইন্টার্ন।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Kalpit A Mankikar is a Fellow with Strategic Studies programme and is based out of ORFs Delhi centre. His research focusses on China specifically looking ...
Read More +
Amit Ranjan Alok is a Research Intern at ORF. He is a second-year PhD candidate in Chinese political economy at the Centre for East Asian ...
Read More +