ক্যানবেরার চলমান সামরিক আধুনিকীকরণ এবং অগ্রবর্তী প্রতিরক্ষা কৌশল তার আঞ্চলিক দৃষ্টিভঙ্গিতে একটি কৌশলগত পরিবর্তনের প্রতিফলন ঘটায়, যা এই অঞ্চলে ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্নের মুখে ভারতের ইন্দো-প্যাসিফিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে নিবিড় ভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
২০২৫ সালের ৯-১০ অক্টোবর ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের অস্ট্রেলিয়া সফর - যা ২০১৩ সালের পর কোনও ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর প্রথম সফর - এমন এক সময়ে ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়েছিল, যখন উভয় দেশই ইন্দো-প্যাসিফিক প্রকল্প সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব নিয়ে অনিশ্চয়তার সম্মুখীন। উল্লেখ্য, ২৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর টোকিয়ো সফরের সময় ভারত জাপানের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়ে একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছিল।
অস্ট্রেলিয়ায় রাজনাথ সিং তিনটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, যা দুই দেশের মধ্যে ‘কৌশলগত অভিন্নতা’কে তুলে ধরে। চুক্তিগুলি গোপন তথ্যের আদান-প্রদান, পারস্পরিক ডুবোজাহাজের অনুসন্ধান ও উদ্ধার সহযোগিতা এবং যৌথ স্টাফ আলোচনা প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। ভারতের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার ২০২০ সাল থেকে একটি সামরিক সরবরাহ সহায়তা চুক্তি কার্যকর রয়েছে এবং উভয় পক্ষ দুই দেশের আকাশ-পরিসর সংক্রান্ত জ্বালানি সরবরাহের চুক্তিও কার্যকর করেছে।
দুই পক্ষ ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কের সমগ্র দিক পর্যালোচনা করেছে এবং গভীরতর প্রতিরক্ষা শিল্প অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে। উভয় দেশই ‘একটি অবাধ, উন্মুক্ত এবং স্থিতিস্থাপক ইন্দো-প্যাসিফিকের জন্য’ সহযোগিতা করার যৌথ সংকল্পও ব্যক্ত করেছে।
২৫ ফেব্রুয়ারি তাসমানিয়ার কাছে অস্ট্রেলিয়ার একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে একটি করে ফ্রিগেট, ক্রুজার এবং সরবরাহকারী জাহাজ নিয়ে গঠিত পিএলএ নৌবাহিনীর একটি টাস্ক গ্রুপের প্রবেশের ঘটনায় অস্ট্রেলিয়া তীব্র ভাবে ধাক্কা খায়। এর পর ৯ মার্চের মধ্যে এটি অস্ট্রেলিয়াকে প্রদক্ষিণ করে ভারত মহাসাগরে প্রবেশ করে এবং ইন্দোনেশিয়ার সুন্দা প্রণালী দিয়ে বেরিয়ে যায়। টাস্ক গ্রুপটি নিয়মিত টহল এবং সরাসরি গোলাবর্ষণের মহড়া পরিচালনা করে, যা ছিল স্পষ্টতই চিনা শক্তির একটি প্রদর্শন।
আনুষ্ঠানিক ভাবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার কোয়াড্রিল্যাটেরাল সিকিউরিটি ডায়লগের (কোয়াড) উপর ভিত্তি করে ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে, যেখানে তার দু’টি দ্বিপাক্ষিক জোট অংশীদার অর্থাৎ জাপান ও অস্ট্রেলিয়া এবং ভারত মহাসাগরের অংশীদার ভারত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিন্তু কোয়াড - যা কূটনৈতিক শক্তির কৌশলের উপর নির্ভরশীল - চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউএসএআইডি-র মতো তার কূটনৈতিক শক্তিভিত্তিক কাঠামো ভেঙে ফেলছে এবং শুল্ক আরোপ করে বন্ধু দেশগুলিকে বিচ্ছিন্ন করছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতিতে কি টালমাটাল অবস্থা?
মার্চ মাসে সেক্রেটারি অফ ডিফেন্স (যিনি বর্তমানে সেক্রেটারি অফ ওয়ার পদে নিযুক্ত) পিট হেগসেথ এই অঞ্চল সফর করেন এবং কোয়াড অংশীদারদের প্রতি আমেরিকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিওর আসিয়ান বিদেশমন্ত্রীদের সম্মেলনে যোগ দিতে মালয়েশিয়া সফরকে বিশ্লেষক ডেরেক গ্রসম্যান ‘সম্পূর্ণ ভুলে যাওয়ার মতো, দুঃখজনক ঘটনা’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও এবং এখন সম্ভবত এরই কারণে অস্ট্রেলিয়া সাম্প্রতিক সময়ে তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক রূপান্তর করছে। এর মধ্যে রয়েছে তার বাহিনীকে আধুনিকীকরণের জন্য প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি, অউকাস-এর মাধ্যমে জোটগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ ও ভারত মহাসাগরের প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করা।
শুল্ক আরোপের ধাক্কা সামলানোর পাশাপাশি এশিয়ার মিত্র দেশগুলি — জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপিন্স এবং অস্ট্রেলিয়া — এমন একটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্মুখীন হয়েছিল, যারা প্রতিরক্ষা খাতে আরও বেশি ব্যয়ের জন্য ক্রমাগত দাবি জানিয়ে যাচ্ছিল। অথচ স্পষ্ট প্রমাণ ছিল যে, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলি এই বার্তা শুনেছে এবং প্রকৃতপক্ষে তাদের প্রতিরক্ষা প্রচেষ্টা জোরদার করছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরও বেশি ব্যয়ের ওপর জোর দেওয়ার ফলে জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলির মধ্যে প্রকাশ্যে অসন্তোষ স্পষ্ট হয়ে যায়।
গত বছরের জুন মাসের শুরুতে শাংরি-লা সংলাপে হেগসেথ দাবি করেন যে, অস্ট্রেলিয়াকে তার প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ৩.৫ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। অস্ট্রেলিয়ার প্রাইম মিনিস্টার অ্যান্থনি আলবানিজ দ্রুত এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। কয়েক দিন পর পেন্টাগন বহু বিলিয়ন ডলারের অউকাস ডুবোজাহাজ চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা পর্যালোচনার ঘোষণা দেয়।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে, ২০২৫ সালের মে মাসে পেন্টাগনের একজন কর্মকর্তা জানান যে, হেগসেথ একটি নতুন মার্কিন প্রতিরক্ষা কৌশল প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন, যা ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ভূখণ্ড - যার মধ্যে আমেরিকার আকাশসীমা ও সীমান্ত অন্তর্ভুক্ত - তার প্রতিরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেবে এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনকে প্রতিরোধ করবে।’ পরবর্তীতে সেপ্টেম্বর মাসে পলিটিকো প্রকাশ করে যে, সর্বশেষ খসড়াটিতে ‘বেজিং ও মস্কোর মতো প্রতিপক্ষকে মোকাবিলার চেয়ে অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক মিশনগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।’
অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও এবং এখন সম্ভবত এরই কারণে অস্ট্রেলিয়া সাম্প্রতিক সময়ে তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক রূপান্তর করছে। এর মধ্যে রয়েছে তার বাহিনীকে আধুনিকীকরণের জন্য প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি, অউকাস-এর মাধ্যমে জোটগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ ও ভারত মহাসাগরের প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করা।
২০২৪ সালের জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল (এনডিএস) এবং সংস্কারকৃত সমন্বিত বিনিয়োগ কর্মসূচি (আইআইপি) থেকে এটি স্পষ্ট যে, অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য হল ‘প্রতিরোধের মাধ্যমে জাতীয় প্রতিরক্ষা’ — অর্থাৎ দেশটি তার উপকূলে পৌঁছনোর অনেক আগেই হুমকিগুলি প্রতিরোধ ও মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাজেট দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে এর বার্ষিক প্রতিরক্ষা ব্যয় প্রায় ৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা জিডিপির ২ শতাংশ। ২০৩৩-৩৪ সালের মধ্যে এটি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে আনুমানিক ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা জিডিপির ২.৪ শতাংশে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে। সমন্বিত বিনিয়োগ কর্মসূচি আগামী দশকে প্রায় ৩৩০ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলার বরাদ্দ করেছে এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশলের অধীনে অতিরিক্ত ৫০.৩ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারের ‘বৃদ্ধি’ ঘটানো হয়েছে।
দৃষ্টিভঙ্গিতেও একটি পরিবর্তন এসেছে — ‘অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা’ মতবাদ থেকে সরে এসে দেশটি আরও আগ্রাসী প্রতিরোধ এবং আঞ্চলিক সম্পৃক্ততার নীতির দিকে ঝুঁকেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাজেট দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে এর বার্ষিক প্রতিরক্ষা ব্যয় প্রায় ৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা জিডিপির ২ শতাংশ। ২০৩৩-৩৪ সালের মধ্যে এটি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে আনুমানিক ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা জিডিপির ২.৪ শতাংশে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে। সমন্বিত বিনিয়োগ কর্মসূচি আগামী দশকে প্রায় ৩৩০ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলার বরাদ্দ করেছে এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশলের অধীনে অতিরিক্ত ৫০.৩ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারের ‘বৃদ্ধি’ ঘটানো হয়েছে।
এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে দেশের প্রতিরক্ষা কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উত্তর অস্ট্রেলিয়ার পুনঃআবির্ভাব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এর ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে উত্তর অংশটি এক ধরনের সম্মুখসারির এলাকা, যা সামুদ্রিক কৌশলগত সংকীর্ণ পথ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থলভাগের কাছাকাছি অবস্থিত।
এই পদ্ধতির দ্বিতীয় উপাদানটি হল অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা পরিধিকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ অঞ্চলে প্রসারিত করার প্রচেষ্টা। এই অঞ্চলে চিনের সক্রিয় কূটনীতির পরিপ্রেক্ষিতে ক্যানবেরা জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এবং এই প্রচেষ্টায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সীমিত পরিসরে ভারতকে যুক্ত করেছে। লক্ষ্য হল, অস্ট্রেলিয়াকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ দেশগুলির প্রধান অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা, তাদের সার্বভৌমত্ব, স্থিতিস্থাপকতা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়তা করা। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া ও পাপুয়া নিউ গিনি একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে; পিএনজি হল প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ দেশগুলির মধ্যে বৃহত্তম ও সবচেয়ে জনবহুল। ভারত ২০১৪ সালে এই অঞ্চলের সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও উন্নয়নমূলক সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ সহযোগিতা ফোরাম (এফআইপিআইসি বা ফিপিক) প্রতিষ্ঠা করে। সর্বশেষ ফিপিক শীর্ষ সম্মেলন ২০২৩ সালে পাপুয়া নিউ গিনিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
অস্ট্রেলিয়ার অগ্রবর্তী প্রতিরক্ষার জন্য আর একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হল ভারত মহাসাগর। ১৯৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়া এই অঞ্চলের উপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করার জন্য পার্থের কাছে এইচএমএএস স্টার্লিং নামে একটি নৌঘাঁটি স্থাপন করে। এখন অউকাস-এর অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার পারমাণবিক শক্তিচালিত ডুবোজাহাজগুলিকে স্থান দেওয়ার জন্য সেই ঘাঁটিটি সম্প্রসারিত করা হচ্ছে।
কোয়াডের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে সামুদ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা, সমুদ্রের তলদেশের নজরদারি এবং অউস-ইন্ড-এক্স ও মালাবারের মতো যৌথ নৌ মহড়ার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। কোকোস দ্বীপপুঞ্জও গুরুত্ব লাভ করছে, যেখানে উত্তর-পূর্ব ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল পর্যবেক্ষণ করার জন্য দূরপাল্লার সামুদ্রিক টহল বিমান এবং ড্রোনগুলির জন্য বিমানঘাঁটি উন্নত করা হচ্ছে। ২০২০ সালের পারস্পরিক লজিস্টিক সহায়তা চুক্তির অংশ হিসেবে ভারতীয় নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর বিমানগুলো এই দ্বীপপুঞ্জ পরিদর্শন করে। দু’টি দেশ তাদের নিজ নিজ পি-৮ সামুদ্রিক গোয়েন্দা ও ডুবোজাহাজ-বিধ্বংসী বিমানগুলি একে অপরের ঘাঁটিতে মোতায়েন করেছে এবং তাদের যৌথ মহড়ার অংশ হিসেবে সমন্বিত টহল পরিচালনা করেছে। ভারত সহজেই মালাক্কা প্রণালীর উপর নজরদারি করতে পারলেও ওম্বাই-ওয়েতার, সুন্দা এবং লোমবক প্রণালীর নৌচলাচল সংক্রান্ত তথ্যের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা অমূল্য।
সক্ষমতা বৃদ্ধি
অউকাস র্মসূচির মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া তার সামুদ্রিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়াতে শুরু করেছে। এই কর্মসূচিটি দু’টি পথের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়াকে পারমাণবিক শক্তিচালিত ডুবোজাহাজ সরবরাহ করবে: প্রথমত, মার্কিন ভার্জিনিয়া-শ্রেণির ডুবোজাহাজে প্রবেশাধিকার এবং একটি ব্রিটিশ নকশার উপর ভিত্তি করে একটি নতুন অউকাস-শ্রেণির ডুবোজাহাজের চূড়ান্ত নকশা ও নির্মাণ; এবং দ্বিতীয়ত, জলের নীচের রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কোয়ান্টাম প্রযুক্তি থেকে শুরু করে হাইপারসনিক, সাইবার এবং ইলেকট্রনিক্স পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়াকে উন্নত সামরিক সক্ষমতায় প্রবেশাধিকার প্রদান করা।
অস্ট্রেলিয়ার অগ্রবর্তী প্রতিরক্ষার জন্য আর একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হল ভারত মহাসাগর। ১৯৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়া এই অঞ্চলের উপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করার জন্য পার্থের কাছে এইচএমএএস স্টার্লিং নামে একটি নৌঘাঁটি স্থাপন করে। এখন অউকাস-এর অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার পারমাণবিক শক্তিচালিত ডুবোজাহাজগুলিকে স্থান দেওয়ার জন্য সেই ঘাঁটিটি সম্প্রসারিত করা হচ্ছে।
তবে বর্তমানে অউকাস কর্মসূচি নিয়ে কিছু প্রশ্নচিহ্ন রয়েছে। জুন মাসে - যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে - মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই কর্মসূচিটির একটি পর্যালোচনা শুরু করে, যা এখনও চলছে।
অগস্ট মাসে অস্ট্রেলিয়া জাপানের মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজকে ৬.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি চুক্তিতে ১১টি উন্নত মোগামি-শ্রেণির ফ্রিগেট তৈরির জন্য একটি চুক্তি প্রদান করে। প্রথম তিনটি জাপানে এবং বাকিগুলি অস্ট্রেলিয়ায় নির্মিত হবে। এই যুদ্ধজাহাজগুলি ক্যানবেরার সামুদ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।
উপসংহার
অস্ট্রেলিয়ার সামরিক শক্তি বৃদ্ধি জাতীয় প্রতিরক্ষার একটি উল্লেখযোগ্য পুনঃসংজ্ঞায়নকে তুলে ধরে— অর্থাৎ মহাদেশীয় বিচ্ছিন্নতার ধারণা থেকে আঞ্চলিক অংশগ্রহণের অনুভূত প্রয়োজনের দিকে। ক্রমবর্ধমান বাজেট, আধুনিক বাহিনী এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ক্যানবেরা তার উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত সুরক্ষিত করতে, প্রশান্ত মহাসাগরে তার সম্পর্ক জোরদার করতে এবং ভারত মহাসাগরে তার উপস্থিতি সুসংহত করতে চাইছে। এটি এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার দীর্ঘ পরীক্ষিত সম্পর্ক ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে বিকশিত হচ্ছে এবং জাপান, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলির সঙ্গে তার সম্পর্ক গভীর হচ্ছে।
ভারতের জন্য অস্ট্রেলিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি নির্বিশেষে ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার। সাধারণ মূল্যবোধ এবং স্বার্থের উপর ভিত্তি করে একটি আঞ্চলিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার জন্য অস্ট্রেলিয়া একটি উপযুক্ত দেশ। জাপান, ভারত এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলিকে অবশ্যই এমন একটি কৌশলের মাধ্যমে তাদের নিজস্ব প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখার জন্য এগিয়ে আসতে হবে, যা আঞ্চলিক আস্থা বাড়াতে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কূটনৈতিক সম্পৃক্ততাকে একত্রিত করে।
মনোজ জোশি অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ডিস্টিঙ্গুইশড ফেলো।
নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখক(দের) ব্যক্তিগত।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Manoj Joshi is a Distinguished Fellow at the ORF. He has been a journalist specialising on national and international politics and is a commentator and ...
Read More +