বিভাজনের আবহে অস্ট্রেলিয়া–কানাডা–ভারত (এসিআইটিআই) ত্রিপাক্ষিক জোট জলবায়ু প্রযুক্তির বিকল্প পথে স্থিতিস্থাপকতা ও স্থিতিশীলতা তৈরিতে সচেষ্ট।
শুল্ক, নিষেধাজ্ঞা এবং রফতানি নিয়ন্ত্রণের কারণে এখনও বিপর্যস্ত বিশ্ব অর্থনীতিতে সরবরাহ শৃঙ্খলগুলি ফাটলের রেখায় পরিণত হচ্ছে এবং পারস্পরিক নির্ভরশীলতাকে এখন যৌথ সমৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি বয়ে আনার পরিবর্তে ক্রমবর্ধমান ভাবে নতুন দুর্বলতা সৃষ্টিকারী হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৫ সালে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে বৈশ্বিক ঐকমত্য আরও ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। কারণ অপরিবর্তনীয় সঙ্কটময় মুহূর্তগুলি ইতিমধ্যেই অতিক্রম করা হয়েছে। এটি পরাশক্তিগুলি দ্বারা গৃহীত আকস্মিক একতরফা সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভঙ্গুরতাকেও তুলে ধরেছে। এর শুরু মার্কিন সংরক্ষণবাদের নতুন ঢেউ দিয়ে হয়নি; এটি কেবল বিদ্যমান ভয় এবং অনিশ্চয়তাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আধুনিক আলোচনার শব্দকোষে ‘শুল্ক’ শব্দটি পুনরায় প্রবেশের অনেক আগেই এই ঝুঁকিগুলি একটি বড় উদ্বেগের কারণ ছিল, যা মূলত রফতানি নিয়ন্ত্রণের দ্বারা চালিত হয়েছিল এবং যা একক-দেশের উপর নির্ভরশীলতার ক্ষতিকর দুর্বলতাগুলিকে উন্মোচিত করেছিল।
লিথিয়াম, কোবাল্ট, গ্রাফাইট এবং বিরল মৃত্তিকা-সহ বেশির ভাগ গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের প্রক্রিয়াকরণ ও পরিশোধনে চিনের আধিপত্য রয়েছে। এই খনিজগুলি সবুজ শক্তিতে রূপান্তরের জন্য বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যা উইন্ড টারবাইন, সোলার প্যানেল এবং ইভি ব্যাটারির মতো সংশ্লিষ্ট জলবায়ু প্রযুক্তির অপরিহার্য উপাদান গঠন করে। সবুজ হাইড্রোজেনের প্রতিযোগিতায় চিন বিশ্বব্যাপী ইলেক্ট্রোলাইজার সরবরাহেও আধিপত্য বিস্তার করে। স্বাভাবিক ভাবেই এই কারণগুলি অন্যান্য দেশকে আরও স্থিতিশীল ও বৈচিত্র্যময় ব্যবস্থার জন্য জরুরি ভাবে অনুসন্ধান করতে চালিত করেছে।
শুল্ক, নিষেধাজ্ঞা এবং রফতানি নিয়ন্ত্রণের কারণে এখনও বিপর্যস্ত বিশ্ব অর্থনীতিতে সরবরাহ শৃঙ্খলগুলি ফাটলের রেখায় পরিণত হচ্ছে এবং পারস্পরিক নির্ভরশীলতাকে এখন যৌথ সমৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি বয়ে আনার পরিবর্তে ক্রমবর্ধমান ভাবে নতুন দুর্বলতা সৃষ্টিকারী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়া-কানাডা-ভারত প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন (এসিআইটিআই) ত্রিপাক্ষিক জোটের ঘোষণা এই বিশ্বাসকেই তুলে ধরে যে, বাণিজ্যের অস্থিরতার সময়েও যৌথ সমৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি পূরণ করা সম্ভব। এই ত্রিপাক্ষিক জোটটি চিন বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনও পদক্ষেপের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে গঠিত হয়নি। তবে এই অংশীদারিত্ব আন্তঃরাষ্ট্রীয় সহযোগিতার একটি বিকল্প পথ দেখাচ্ছে, যা পরিবেশবান্ধব সরবরাহ শৃঙ্খলের ঝুঁকি কমাতে এবং প্রযুক্তির অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করতে পারে। সত্যিকারের প্রভাব ফেলতে হলে, সকল অংশীদারকে অবশ্যই স্বল্পমেয়াদি লাভের চেয়ে জলবায়ু প্রযুক্তি এবং নবায়নযোগ্য শক্তিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এসিআইটিআই ত্রিপাক্ষিক জোট তার প্রধান কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে দূষণহীন শক্তি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে চিহ্নিত করেছে এবং এর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেও (এআই) অন্তর্ভুক্ত করেছে। অতীতে অনেক ক্ষুদ্র ও বহুপাক্ষিক অংশীদারিত্ব বড় পরিসরে উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রায়শই সেই অঙ্গীকার পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এই অংশীদারিত্বটি পূর্ববর্তী প্রচেষ্টাগুলো থেকে ভিন্ন হবে কি না, তা এখনও দেখার বিষয়। এটি যেন প্রভাব ফেলে এবং কয়েকটি চিত্তাকর্ষক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির পর বিস্মৃত না হয়ে যায়, তা নিশ্চিত করার জন্য কী কী পদক্ষেপ প্রয়োজন?
অগ্রাধিকার নির্ধারণ
এই প্রশ্নগুলির উত্তর এ বছরই পাওয়া যাবে, যখন কর্মকর্তারা বৈঠকে বসবেন এবং প্রথম কার্যকরী দলগুলি গঠিত হবে। কিন্তু এটুকু স্পষ্ট যে, এর সাফল্য নির্ভর করবে এর পরিধি ও লক্ষ্যমাত্রাগুলিকে স্থিতিশীল করার জন্য যথেষ্ট সীমিত রাখার ওপর এবং স্বল্পমেয়াদি লাভের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষ ও পৃথিবীকে কেন্দ্র করে এমন প্রযুক্তির দিকে সম্পদকে অগ্রাধিকার দেওয়ার উপর।
শুধুমাত্র লাভের জন্য প্রযুক্তি উৎপাদনের উপর এই সঙ্কীর্ণ দৃষ্টি কেবল অপরিহার্য প্রযুক্তির ক্ষতিই করে না; এটি সরাসরি পরিবেশের আরও ক্ষতিসাধনেও অবদান রাখে।
এআইসিআইটিআই অংশীদারিত্বকে একটি প্রযুক্তি-ভিত্তিক ত্রিপাক্ষিক জোট হিসেবে সুনির্দিষ্টভাবে গঠন করার মাধ্যমে একটি সুস্পষ্ট লক্ষ্য স্থির রাখা এবং এর প্রভাবকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সুবিধাগুলি পরোক্ষ ভাবে স্বীকৃত হয়। একটি বিচক্ষণ পরিকল্পনা একটি সঙ্কীর্ণ, সুস্পষ্ট ভাবে জলবায়ু-কেন্দ্রিক ম্যান্ডেট দিয়ে শুরু হবে: সবুজ প্রযুক্তির জন্য সরবরাহ শৃঙ্খল, যৌথ পরিচ্ছন্ন শক্তি পাইলট প্রকল্প এবং আন্তঃকার্যকরী মানদণ্ডের মাধ্যমে এর সম্প্রসারণ। সুতরাং, কৌশলগত ভাবে এআইসিআইটিআই ত্রিপাক্ষিক জোটের পরিধি ও মনোযোগকে এমন প্রযুক্তির দিকে সঙ্কুচিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা সর্বোপরি জলবায়ু সংক্রান্ত জরুরি উদ্বেগগুলির সমাধান করে। যদিও স্বল্প মেয়াদে আরও বেশি স্মার্টফোন তৈরি করা বা আরও একটি জেনারেটিভ এআই (জেন-এআই) মডেল তৈরি করা লাভজনক মনে হতে পারে, তা হলেও এই পণ্যগুলি জলবায়ু ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে, যা একই দুষ্প্রাপ্য সম্পদের উপর নির্ভরশীল। শুধুমাত্র লাভের জন্য প্রযুক্তি উৎপাদনের উপর এই সঙ্কীর্ণ দৃষ্টি কেবল অপরিহার্য প্রযুক্তির ক্ষতিই করে না; এটি সরাসরি পরিবেশের আরও ক্ষতিসাধনেও অবদান রাখে।
সবুজ রূপান্তরের জন্য সম্মিলিত শক্তির সদ্ব্যবহার
অতএব, এআইসিআইটিআই ত্রিপাক্ষিকের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ পথ সুরক্ষিত করা এবং এমন প্রযুক্তির অগ্রগতি সাধন করা, যার অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য হবে সমগ্র মূল্যশৃঙ্খল জুড়ে ইতিবাচক পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব বৃদ্ধি করা। ‘টেক-ফর-গুড’-এর মতো শব্দবন্ধগুলি বহুব্যবহৃত চটকদার শব্দ হলেও এগুলির মধ্যে প্রায়শই সারবত্তার অভাব থাকে। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে তিনটি দেশের কাছে জলবায়ু প্রযুক্তির জন্য একটি নতুন, অনুসরণযোগ্য পথ তৈরি করার সুযোগ রয়েছে, যা আমাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এসিআইটিআই ত্রিপাক্ষিকের জলবায়ু বিষয়ক এই সম্মিলিত মনোযোগ তিনটি অংশীদার দেশেরই একই ধরনের উদ্দেশ্যকে প্রতিফলিত করে। লিথিয়াম উৎপাদনে অস্ট্রেলিয়া এখনও বিশ্বের শীর্ষস্থানে রয়েছে। অন্য দিকে কানাডা বিশেষ তহবিল এবং নীতিগত ব্যবস্থার মাধ্যমে সবুজ প্রযুক্তিতে ব্যাপক ভাবে বিনিয়োগ করছে। ভারত বৃহৎ পরিসরে সবুজ প্রযুক্তির একটি উল্লেখযোগ্য চাহিদা তৈরি করতে পারে। ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ গিগাওয়াট (জিডব্লিউ) নবায়নযোগ্য শক্তির উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জনের জন্য ভারত যখন সচেষ্ট, তখন এই সম্মিলিত শক্তিগুলিকে কাজে লাগানো অমূল্য প্রমাণিত হবে।
এই অংশীদারিত্বের মধ্যে স্থিতিস্থাপকতা ও দায়িত্বশীলতাকে দৃঢ় ভাবে স্থাপন করতে হবে, যা নিশ্চিত করবে যে, পরিবেশগত উদ্বেগ এবং দীর্ঘমেয়াদি সুবিধার কথা মাথায় রেখে সম্পদ বরাদ্দ করা হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং সবুজ হাইড্রোজেন হল সবচেয়ে তাৎক্ষণিক সুযোগ। এসিআইটিআই গুরুত্বপূর্ণ খনিজ শৃঙ্খলকে কেবল প্রসারিত না করে, এর প্রতিটি পর্যায়ে দায়িত্বশীলতা প্রতিষ্ঠা করতে পারে। এই ত্রিপাক্ষিক জোট স্বল্প-প্রভাবী উত্তোলন, জল পুনরুদ্ধার এবং আরবান মাইনিং-এর উপর যৌথ গবেষণা ও পরীক্ষামূলক প্রকল্পকে সমর্থন করতে পারে। সকল অংশীদারকে অবশ্যই লিথিয়াম, কোবাল্ট, নিকেল, তামা এবং বিরল মৃত্তিকার পুনর্ব্যবহার ও পুনরুদ্ধারকে কোনও পরবর্তী চিন্তা হিসেবে নয়, বরং একটি সুচিন্তিত শিল্প স্তম্ভ হিসেবে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বাজার প্রবেশাধিকার, অর্থায়ন এবং প্রযুক্তিকে যৌথ পরিবেশগত, সামাজিক ও শাসনতান্ত্রিক (ইএসজি) কাঠামো এবং চক্রাকার অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সংযুক্ত করা হলে সবুজ রূপান্তরকে চালিতকারী খনিজগুলো দায়িত্বশীলভাবে সংগ্রহ, ব্যবহার এবং পুনর্ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।
এসিআইটিআই ত্রিপাক্ষিক জোট সহযোগিতা ও কর্মের মাধ্যমে অত্যাবশ্যকীয় জলবায়ু প্রযুক্তির অগ্রগতি সাধনে সফল হলে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এই অংশীদারিত্বের মধ্যে স্থিতিস্থাপকতা ও দায়িত্বশীলতাকে দৃঢ় ভাবে স্থাপন করতে হবে, যা নিশ্চিত করবে যে, পরিবেশগত উদ্বেগ এবং দীর্ঘমেয়াদি সুবিধার কথা মাথায় রেখে সম্পদ বরাদ্দ করা হচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, অংশীদারদের অবশ্যই এমন প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যা জলবায়ু কার্যক্রম এবং সামাজিক কল্যাণকে অন্য সব কিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দেয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য বুদবুদ নিয়ে উঠে আসা উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত প্রযুক্তিতে অতিরিক্ত পুঁজি এবং দুষ্প্রাপ্য সম্পদের বিনিয়োগ সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। এগুলিকে উদ্ভাবনের একটি সাধারণ মাধ্যম হিসেবে না দেখে, বরং জলবায়ু ও স্বাস্থ্য সমাধানের জন্য সতর্ক ভাবে নিয়ন্ত্রিত ও সহায়ক স্তর হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত। এসিআইটিআই যদি তার লক্ষ্য স্থির রাখে, তবে এটি একটি পরিচ্ছন্নতর ও অধিক নির্ভরযোগ্য জ্বালানি ভবিষ্যতের কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ গঠন করতে পারে।
কৃষ্ণ ভোরা অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর ইকোনমি অ্যান্ড গ্রোথের জুনিয়র ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Krishna Vohra is a Junior Fellow in Climate and Energy at the Centre for Economy and Growth. His research spans across resource governance, circular economy, ...
Read More +