২০২৬-২৭ সালের বাজেটে এভিজিসি-কে (অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস, গেমিং এবং কমিকস) জাতীয় দক্ষতা অর্জনের মানচিত্রে স্থান দেওয়া হলেও ফলাফল নির্ভর করবে পরিমাপযোগ্য শিক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পক্ষেত্র দ্বারা স্বীকৃত প্রতিভা সরবরাহ ব্যবস্থার উপর।
২০২৬-২৭ সালের বাজেটে এভিজিসি-কে (অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস, গেমিং এবং কমিকস) জাতীয় দক্ষতা অর্জনের মানচিত্রে স্থান দেওয়া হলেও ফলাফল নির্ভর করবে পরিমাপযোগ্য শিক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পক্ষেত্র দ্বারা স্বীকৃত প্রতিভা সরবরাহ ব্যবস্থার উপর।
শিল্প এবং নিউ মিডিয়া ক্ষেত্র-সহ সৃজনশীল শিল্পগুলিও অন্তর্ভুক্ত - শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধির কর্মসূচির আওতায় দৃঢ় ভাবে স্থাপন করেছে। এর অংশ হিসেবে মুম্বইয়ের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ক্রিয়েটিভ টেকনোলজিস-এর (আইআইসিটি) সহায়তায় ১৫,০০০ মাধ্যমিক স্তরের বিদ্যালয় এবং ৫,০০০ কলেজে অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস, গেমিং এবং কমিকস (এভিজিসি) কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব স্থাপনের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন তাঁর ভাষণে স্পষ্ট ভাবে এভিজিসি-কে একটি ক্রমবর্ধমান শিল্প হিসেবে তুলে ধরেছেন, যেখানে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ লক্ষ পেশাদার কর্মীর প্রয়োজন হবে এবং যা কেবল কয়েকটি বিশেষ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে পূরণ করা সম্ভব নয়।
অরেঞ্জ ইকোনমিতে স্থিতিশীল জীবিকার বেশির ভাগই অ্যানিমেশন পাইপলাইন, গেম ডেভেলপমেন্ট, ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস, সাউন্ড ডিজাইন, অ্যাসেট তৈরি এবং পোস্ট-প্রোডাকশনের মতো দক্ষতা-নিবিড় উৎপাদনমূলক ভূমিকায় নিহিত, যার জন্য সুশৃঙ্খল দক্ষতা বিকাশ এবং পেশাদার অনুশীলনের প্রয়োজন।
২০২৫-২৬ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষায় অরেঞ্জ ইকোনমিকে অপ্রচলিত প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যা ভারতে অপরিণত হলেও এর বিপুল তরুণ জনসংখ্যা, শহুরে কেন্দ্রগুলির বিকাশ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও স্ট্রিমিং পরিষেবাগুলির উত্থানের কারণে প্রসারের ব্যাপক সম্ভাবনা বহন করে। কন্টেন্ট-ক্রিয়েটর ল্যাবগুলিতে এই সরকারি বিনিয়োগের উদ্দেশ্য তরুণদের জন্য প্রধান পথ হিসেবে সাধারণ গেমিং, প্ল্যাটফর্ম-চালিত ভাইরাল হওয়া বা ইনফ্লুয়েন্সার-শৈলীর সাফল্যকে উৎসাহিত করা নয়। অরেঞ্জ ইকোনমিতে স্থিতিশীল জীবিকার বেশির ভাগই অ্যানিমেশন পাইপলাইন, গেম ডেভেলপমেন্ট, ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস, সাউন্ড ডিজাইন, অ্যাসেট তৈরি এবং পোস্ট-প্রোডাকশনের মতো দক্ষতা-নিবিড় উৎপাদনমূলক ভূমিকায় নিহিত, যার জন্য সুশৃঙ্খল দক্ষতা বিকাশ এবং পেশাদার অনুশীলনের প্রয়োজন। তাই নীতিটির উদ্দেশ্য হল শিক্ষার্থীদের অ্যালগরিদম-নির্ভর বা অত্যন্ত ঝুঁকিসম্পন্ন আয়ের মডেলের দিকে নয়, বরং উৎপাদন সক্ষমতা, পোর্টফোলিও এবং বাজার-সংশ্লিষ্ট দক্ষতার দিকে পরিচালিত করা।
ভারতের অরেঞ্জ ইকোনমির কৌশলগত গুরুত্ব
বিশ্বব্যাপী, সৃজনশীল অর্থনীতি একটি ‘নরম’ (সফট) খাত থেকে সরে এসে চাকরি, রফতানি এবং পরিষেবা খাতের প্রবৃদ্ধির একটি পরিমাপযোগ্য চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। ইউনাইটেড নেশনস কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ইউএনসিটিএডি) দ্বিবার্ষিক প্রতিবেদন ক্রিয়েটিভ ইকোনমি আউটলুক ২০২৪-এ উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২২ সালে সৃজনশীল পরিষেবা রফতানি প্রায় ১.৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। অন্য দিকে সৃজনশীল পণ্য রফতানির ছিল প্রায় ৭১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দর্শায় যে, এই ক্ষেত্রটি কেবল সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তির সঙ্গেই নয়, বাণিজ্য এবং উৎপাদনশীলতার সঙ্গেও নিবিড় ভাবে সম্পৃক্ত। ইউনাইটেড নেশনস এডুকেশনাল, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশনের (ইউনেসকো) অনুমান অনুযায়ী, সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল শিল্প (সিসিআই) বিশ্বব্যাপী কর্মসংস্থানের ৬.২ শতাংশে অবদান রাখে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলিতে এর উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে, যা এটিকে তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য বিশেষ ভাবে প্রাসঙ্গিক করে তোলে।
ভারতে সৃজনশীল শিল্পের আকার আনুমানিক ৩,০১,২৪৫ কোটি টাকা (৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) এবং শুধু মাত্র ২০২৩ সালে সৃজনশীল রফতানি থেকে ৯৪,৬৭৭ কোটি টাকারও বেশি (১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) আয় হয়েছে। এটি দেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮ শতাংশে অবদান রাখে, তুলনামূলক ভাবে ভাল বেতনের চাকরির সুযোগ দেয় এবং দেশের মোট মূল্য সংযোজনের (গ্লোবাল ভ্যালু অ্যাডেড বা জিভিএ) ২০ শতাংশের জন্য দায়বদ্ধ। অরেঞ্জ ইকোনমি খাতগুলি নারী, প্রান্তিক গোষ্ঠী এবং অনানুষ্ঠানিক কর্মীদের মতো সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর বেশি মানুষকে কর্মসংস্থান দেয়। সর্বোপরি, এটি প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার না করেই তাদের গতিশীল বৌদ্ধিক সম্পদের মাধ্যমে দেশগুলিকে স্থিতিশীল ভাবে তাদের অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করতে সহায়তা করে। সৃজনশীল শিল্পগুলি ধাক্কা সামলাতে অনেক বেশি সক্ষম, যা কোভিড-১৯ অতিমারির লকডাউনের সময় দেখা গেছে, যখন বিচ্ছিন্নতার দিনগুলিতে সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে সৃজনশীল প্ল্যাটফর্ম এবং পরিষেবাগুলি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছিল।
তাই অরেঞ্জ জীবিকা হল দ্রুত বর্ধনশীল ক্ষেত্রগুলির মধ্যে অন্যতম এবং ভবিষ্যতের কাজের একটি উদীয়মান গতিশীল অংশ।
তাই অরেঞ্জ জীবিকা হল দ্রুত বর্ধনশীল ক্ষেত্রগুলির মধ্যে অন্যতম এবং ভবিষ্যতের কাজের একটি উদীয়মান গতিশীল অংশ। এই বিষয়টিকে স্বীকৃতি দিয়ে বাজেটে এভিজিসি-কে একটি বিশেষ ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ না করে, বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী শিক্ষায় বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি বৃহত্তর মানব-সম্পদ কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
২০২৬-২৭ বাজেটে এভিজিসি-র জন্য মূল বিধানসমূহ
সরকার একটি পিপিপি মডেলের অধীনে আইআইসিটি-কে সৃজনশীল প্রযুক্তির একটি জাতীয় কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে, যার জন্য নির্দিষ্ট বরাদ্দ ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্দেশ্য রয়েছে। ১৫,০০০ স্কুলে এটি চালু করার লক্ষ্যমাত্রা দর্শায় যে, সরকার একটি বিস্তৃত ভিত্তি স্তর তৈরি করার চেষ্টা করছে, যার লক্ষ্য হল:
১. সৃজনশীল-ডিজিটাল উৎপাদন দক্ষতার (গেম ডিজাইন, বেসিক অ্যানিমেশন, অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রোডাকশন ইত্যাদি) সঙ্গে প্রাথমিক পরিচিতি ঘটানো।
২. প্রচলিত শিক্ষাগত পথের পাশাপাশি সৃজনশীল পেশাকেও স্বাভাবিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
৩. শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষা সীমিত হওয়ার আগেই তাদের কাছে পৌঁছনো, বিশেষ করে মফসসল এবং গ্রামীণ এলাকায়।
এটি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণও। কারণ অনেক তরুণ সৃজনশীল ক্ষেত্রগুলিতে আগ্রহী হলেও এভিজিসি-তে কাঠামোগত, পরিমাপযোগ্য দক্ষতা গঠনের অভাবে তারা সীমাবদ্ধ।
উন্নততর এভিজিসি দক্ষতা তৈরির জন্য ৫,০০০ কলেজকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভবত আরও বেশি ফলপ্রসূ পদক্ষেপ, যা পরিচিতি ও কর্মসংস্থানের মধ্যে একটি সেতু তৈরি করবে। কলেজগুলিকে চিহ্নিত করার মাধ্যমে বাজেট পরোক্ষ ভাবে স্বীকার করে নেয় যে, সৃজনশীল দক্ষতাকে শিল্প-প্রস্তুত যোগ্যতায় রূপান্তরিত করতে হবে এবং উন্নততর দক্ষতার শিক্ষা, পোর্টফোলিও তৈরি করা এবং ইন্টার্নশিপ ও শিক্ষানবিশ কর্মসূচির মাধ্যমে সেই দক্ষতা প্রয়োগ করার জন্য কলেজগুলিই হল আদর্শ পরিসর। ৫,০০০ কলেজের এই বিশাল পরিসর আঞ্চলিক সৃজনশীলতার গুচ্ছ তৈরির সুযোগ করে দেয়, যা সমবয়সিদের মধ্যে শিক্ষা, শিল্প সংযোগ এবং অভিন্ন সাধারণ অবকাঠামোকে সম্ভব করে তোলে এবং যা কয়েকটি সেন্টার অফ এক্সেলেন্স বা উৎকর্ষ-কেন্দ্রের পক্ষে অর্জন করা সম্ভব নয়।
উন্নততর এভিজিসি দক্ষতা তৈরির জন্য ৫,০০০ কলেজকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভবত আরও বেশি ফলপ্রসূ পদক্ষেপ, যা পরিচিতি ও কর্মসংস্থানের মধ্যে একটি সেতু তৈরি করবে।
তবে এই স্কুল ও কলেজগুলি প্রাণবন্ত মেধা বিকাশের কেন্দ্রে পরিণত হবে না কি অব্যবহৃত পরীক্ষাগার হয়েই থাকবে, তা নির্ভর করবে পাঠ্যক্রমের স্পষ্টতা, শিক্ষকদের সক্ষমতা, শিল্প ক্ষেত্রের প্রণোদনা এবং প্রাথমিক কেন্দ্রের ঊর্ধ্বে উঠে স্থিতিশীল তহবিলের উপর। পরবর্তী অংশে কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি মানবসম্পদ সংস্কারের জন্য বাজেট বরাদ্দকে সমর্থন জোগাতে পারে।
বাজেটের প্রতিশ্রুতিকে এভিজিসি দক্ষতার বাস্তবে রূপান্তর করার পথ
যদি বাজেটের এভিজিসি উদ্যোগটি অর্থপূর্ণ ভাবে মানবসম্পদ গড়ে তুলতে চায়, তবে নিম্নলিখিত তিনটি পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
১. পরিমাপযোগ্যতা-ভিত্তিক একটি জাতীয় এভিজিসি পাঠ্যক্রম নির্ধারণ করা: ভারতে ইতিমধ্যেই সমগ্র শিক্ষার বৃত্তিমূলক শিক্ষা উপাদানের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষায় দক্ষতা সংক্রান্ত বিষয়গুলিকে অন্তর্ভুক্ত করার একটি আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে, যা ন্যাশনাল স্কিলস কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক বা জাতীয় দক্ষতা যোগ্যতা কাঠামোর (এনএসকিউএফ) সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যদি এভিজিসি ল্যাবের শিক্ষাকে এনএসকিউএফ-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মাইক্রো-ক্রেডেনশিয়ালের মতো স্বীকৃত ফলাফলের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়, তবে এই ল্যাবগুলি কেবল ‘পরিচিতি’র মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং প্রবেশ-স্তরের চাকরির একটি পথ হিসেবে কাজ করতে পারে।
এটি পাঠ্যক্রমের স্পষ্টতাও নিশ্চিত করবে, যেখানে এভিজিসি কেবল বেসিক এডিটিং বা সোশ্যাল-মিডিয়া-শৈলীর উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এই ক্ষেত্রের উচ্চ-মূল্যের চাহিদা যেমন থ্রিডি, রিয়েল-টাইম ইঞ্জিন, কম্পোজিটিং, রিগিং, প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট এবং ইন্টারেক্টিভ ডিজাইনের চাহিদা পূরণের একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। তাই ক্রিয়েটর ল্যাবগুলিতে মৌলিক স্তর থেকে শিল্প খাতের জন্য প্রস্তুত স্তর পর্যন্ত… দক্ষতার নানা স্তরবিন্যাস থাকতে হবে, যেখানে সুস্পষ্ট কাজের ভূমিকা নির্দিষ্ট থাকবে।
২. শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি: এভিজিসি কন্টেন্ট-ক্রিয়েটর ল্যাবগুলির কার্যকারিতা শিক্ষকদের দক্ষতার উপর ব্যাপক ভাবে নির্ভর করবে। অরেঞ্জ ইকোনমি সংস্কৃতি ও উন্নত প্রযুক্তির সংযোগস্থলে কাজ করে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইমারসিভ মিডিয়া, রিয়েল-টাইম ইঞ্জিন এবং ডিজিটাল উৎপাদন সংক্রান্ত সাধনীগুলি ক্রমাগত সৃজনশীল কাজের উৎপাদন, বণ্টন ও বাণিজ্যিকীকরণকে নতুন ভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। এর জন্য শিক্ষকদের একাধিক ভূমিকায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন, যেমন বিষয়বস্তু সরবরাহ থেকে প্রকল্প-ভিত্তিক সহায়তা, পরামর্শদান এবং পোর্টফোলিও-ভিত্তিক মূল্যায়ন ইত্যাদি। শিক্ষকদের কেবল সৃজনশীল সাধনী ও কর্মপ্রক্রিয়াতেই নয়, বরং মেধা সম্পত্তি সাক্ষরতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক ব্যবহার, সহযোগিতামূলক উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং আন্তঃবিভাগীয় সমস্যা সমাধানেও দক্ষতা থাকতে হবে। অতএব, পদ্ধতিগত শিক্ষক উন্নয়ন কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যার মধ্যে থাকবে ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন, শিল্প ক্ষেত্রের পেশাদারদের সঙ্গে যৌথ ভাবে শিক্ষাদান এবং সৃজনশীল ও ডিজিটাল শিক্ষার পরিবেশের জন্য তৈরি কাঠামোগত শিক্ষাগত নির্দেশনা।
৩. ল্যাবগুলিকে স্থানীয় অর্থনৈতিক বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করা: স্কুল ও কলেজের এভিজিসি ল্যাবগুলির সাফল্য নির্ভর করবে শক্তিশালী শিল্প সংযোগ এবং বিশ্বাসযোগ্য, প্রয়োগ-ভিত্তিক শিক্ষার উপর, যা বাস্তব উৎপাদন কর্মপ্রবাহ জুড়ে দক্ষতা প্রদর্শন করবে। তাই প্রতিটি এভিজিসি ল্যাবকে সচেতন ভাবে স্থানীয় অর্থনৈতিক বাস্তুতন্ত্রের মধ্যে স্থাপন করা উচিত এবং প্রতিটি ল্যাবকে অন্তত একটি কার্যকরী অংশীদারের সঙ্গে যুক্ত রাখা জরুরি। যেমন অ্যানিমেশন বা ভিএফএক্স স্টুডিও, বিজ্ঞাপন ও ব্র্যান্ডিং সংস্থা, পর্যটন বোর্ড, রাজ্যের মিডিয়া ইউনিট বা সাংস্কৃতিক ডকুমেন্টেশন উদ্যোগ। এর ফলে শিক্ষার্থীরা ইন্টার্নশিপ ও প্রতিক্রিয়া পেতে সমর্থ হবে এবং একই সঙ্গে বাস্তব অর্থনৈতিক ও সামাজিক উৎপাদনেও অবদান রাখতে পারে। যদি কার্যকর ভাবে এটি বাস্তবায়ন করা হয়, তবে এই পদ্ধতিটি একই সঙ্গে প্রতিভার সরবরাহ ধারাকে শক্তিশালী করতে পারে এবং ঐতিহ্য সম্পর্কিত পর্যটন, আঞ্চলিক গল্প বলা এবং স্থানীয় সৃজনশীল উদ্যোগকেও সমর্থন জোগাতে পারবে।
সরবরাহ-কেন্দ্রিক কৌশল হিসেবে প্রতিভার সরবরাহ ধারা অপরিহার্য। কিন্তু এভিজিসি-এর মতো মেধা সম্পত্তি (আইপি) নির্ভর ক্ষেত্রগুলির জন্য চাহিদা এবং ঝুঁকি-কেন্দ্রিক উপকরণেরও প্রয়োজন রয়েছে। বাজেটটিতে বেসিক কন্টেন্ট স্টুডিওগুলির জন্য কোনও লক্ষ্যযুক্ত কর ছাড়, প্রাথমিক পর্যায়ের আইপি উন্নয়নের জন্য অনুদান কাঠামো, প্ল্যাটফর্ম-সম্পর্কিত করের বোঝায় সীমিত ছাড় এবং ভারত-কেন্দ্রিক বিষয়বস্তুর জন্য বণ্টন সম্পর্কিত সামান্য সমর্থনের কথাও ঘোষণা করা হয়নি। যে দেশগুলি সফল ভাবে সৃজনশীল আইপি বাস্তুতন্ত্র গড়ে তুলেছে - যেমন গেমিং ও অ্যানিমেশনে দক্ষিণ কোরিয়া, আনিমে ও চরিত্র-ভিত্তিক বিষয়বস্তুতে জাপান এবং স্ক্রিন-ভিত্তিক শিল্পে কানাডা - তারা দক্ষতা উন্নয়নকে সরকারি তহবিল, কর প্রণোদনা এবং রফতানি সমর্থনের সঙ্গে একত্রিত করেছে, যা প্রাথমিক পর্যায়ের ঝুঁকি কমায় এবং মালিকানাকে পুরস্কৃত করে। যদি সৃজনশীল দক্ষতাকে স্থিতিশীল অর্থনৈতিক মূল্য এবং বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক উপস্থিতিতে রূপান্তরিত করতে হয়, তবে ভারতের এভিজিসি কৌশলকেও একই ভাবে বিকশিত হতে হবে, যাতে মানব-পুঁজি সরবরাহ পদ্ধতির সঙ্গে একটি আইপি-নির্ভর বৃদ্ধির কাঠামোকে একত্রিত করা যায়।
উপসংহার
২০২৬-২৭ সালের বাজেটের প্রস্তাবটি অরেঞ্জ ইকোনমিকে নিছক একটি স্বার্থ-ভিত্তিক খণ্ডকালীন কাজ বা স্টার্টআপের আখ্যান হিসেবে না দেখে, বরং একটি ব্যাপক মানব-সম্পদ প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনকেই দর্শায়। কিন্তু এই কর্মসূচির পরিধি তখনই অর্থবহ হবে, যদি এটি বাস্তব সীমাবদ্ধতাগুলির কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনা করা হয়: যেমন শিক্ষক, পাঠ্যক্রমের নির্দিষ্টতা, পোর্টফোলিও-ভিত্তিক মূল্যায়ন এবং শিল্পের সঙ্গে সংযুক্ত কর্মপথ।
জাতীয় শিক্ষানীতির অভিজ্ঞতাভিত্তিক ও বহুবিষয়ক শিক্ষণ পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে তৈরি সুপরিকল্পিত সৃজনশীল-প্রযুক্তি মডিউলগুলি অনেক শিক্ষার্থীর জন্যই স্কুলের প্রাসঙ্গিকতা বাড়াতে পারে, বিশেষ করে যখন এটিকে স্থানীয় শিল্প এবং ফ্রিল্যান্স কাজের সুযোগের সঙ্গে সমন্বিত করা হয়। যদি সঠিক ভাবে এর বাস্তবায়ন করা হয়, তবে এভিজিসি (অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস, গেমিং এবং কমিকস) খাতের এই উদ্যোগটি একটি মডেল হয়ে উঠতে পারে যে, কী ভাবে উদীয়মান ক্ষেত্রগুলিকে মূলধারার শিক্ষা এবং মানব-সম্পদ নীতির সঙ্গে একীভূত করা যায়।
অর্পণ তুলসিয়ান অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর নিউ ইকোনমিক ডিপ্লোমেসির সিনিয়র ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Arpan Tulsyan is a Senior Fellow at ORF’s Centre for New Economic Diplomacy (CNED). With 16 years of experience in development research and policy advocacy, Arpan ...
Read More +