বায়ু দূষণ নিয়ে সাম্প্রতিক সংসদীয় জবাবগুলি থেকে বোঝা যায়, প্রমাণের অনুপস্থিতির চেয়ে বরং প্রমাণ উপস্থাপনের ধরনই কী ভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতাকে প্রভাবিত করতে পারে এবং ঝুঁকি সংক্রান্ত যোগাযোগকে দুর্বল করে দিতে পারে।
প্রতি শীতে উত্তর ভারতের তীব্র বায়ুদূষণ একই প্রাতিষ্ঠানিক প্রশ্ন উত্থাপন করে: ব্যবস্থাটি কি স্বাস্থ্যঝুঁকি স্পষ্ট ভাবে বর্ণনা করতে এবং ধারাবাহিক ভাবে সাড়া দিতে পারে? পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক (মিনিস্ট্রি অফ এনভায়রনমেন্ট, ফরেস্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ বা এমওইএফসিসি) কর্তৃক ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাজ্যসভায় উত্তর দেওয়া দু’টি প্রশ্ন - যা গণমাধ্যমে আলোচিত হয়েছে – বায়ুদূষণকে জনসাধারণের পর্যালোচনার আওতায় এনেছে। বায়ুদূষণ দেশের বিশাল অংশের দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করে। বিরোধী দলের একজন সাংসদের করা প্রথম প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়েছিল, সরকার গত পাঁচ বছরে দেশব্যাপী বায়ুদূষণের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বছরভিত্তিক এবং রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলভিত্তিক বিশদ বিবরণ-সহ মূল্যায়ন করেছে কি না এবং এর প্রভাব সম্পর্কে একটি বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক মূল্যায়নের বিষয়ে সরকারের প্রতিক্রিয়াও জানতে চাওয়া হয়েছিল।
শাসক দলের একজন সাংসদের করা দ্বিতীয় প্রশ্নটি দিল্লি-এনসিআর-কে কেন্দ্র করে করা হয়েছিল। এতে দাবি করা হয় যে, বিভিন্ন গবেষণা ও চিকিৎসা পরীক্ষায় ফুসফুসের ফাইব্রোসিস এবং দীর্ঘস্থায়ী বিপজ্জনক বায়ু গুণমান সূচক (একিউআই) স্তরের সঙ্গে সম্পর্কিত ফুসফুসের কার্যক্ষমতার অপরিবর্তনীয় হ্রাস নিশ্চিত হয়েছে। প্রশ্নটিতে আরও জানতে চাওয়া হয়, ভাল একিউআই আছে এমন শহরগুলির তুলনায় দিল্লি-এনসিআর-এ ফুসফুসের স্থিতিস্থাপকতা প্রায় ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে কি না। একত্রে, প্রশ্ন দু’টির মাধ্যমে সরকারের কাছ থেকে বায়ু দূষণের স্বাস্থ্যগত প্রভাবের পরিমাণ সম্পর্কে তাদের জানা তথ্য এবং নীতি নির্ধারণে সেই তথ্য কী ভাবে ব্যবহৃত হয়, তার জবাবই চাওয়া হয়েছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক (মিনিস্ট্রি অফ এনভায়রনমেন্ট, ফরেস্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ বা এমওইএফসিসি) কর্তৃক ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাজ্যসভায় উত্তর দেওয়া দু’টি প্রশ্ন - যা গণমাধ্যমে আলোচিত হয়েছে – বায়ুদূষণকে জনসাধারণের পর্যালোচনার আওতায় এনেছে। বায়ুদূষণ দেশের বিশাল অংশের দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করে।
এমওইএফসিসি-র উত্তরগুলি একটি মূল বাক্য দিয়ে শুরু হয়েছিল, যেখানে যুক্তি দেওয়া হয়, যদিও বায়ু দূষণ শ্বাসযন্ত্রের অসুস্থতার একটি কারণ, তবুও উচ্চ একিউআই এবং ফুসফুসের রোগের মধ্যে ‘সরাসরি সম্পর্ক’ স্থাপনকারী ‘কোনও চূড়ান্ত তথ্য’ নেই এবং ‘শুধুমাত্র’ বায়ু দূষণের কারণে মৃত্যুর সরাসরি সম্পর্ক স্থাপনের ‘কোনও চূড়ান্ত তথ্য’ নেই। উত্তরগুলির বাকি অংশে নিয়ন্ত্রক এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার বর্ণনা দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে রয়েছে জাতীয় রাজধানী অঞ্চল ও সংলগ্ন এলাকার বায়ুর গুণমান ব্যবস্থাপনা কমিশন (সিএকিউএম), গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান (জিআরএপি) এবং জাতীয় নির্মল বায়ু কর্মসূচি (এনসিএপি)। এই অবস্থানটি গণমাধ্যমে ব্যাপক ভাবে প্রচারিত হয়েছিল। কারণ এটি উচ্চ-দূষণ অঞ্চলের বাসিন্দা এবং চিকিৎসকদের শীতকালে নিয়মিত অভিজ্ঞতার সঙ্গে দ্বান্দ্বিক ছিল এবং এটি দ্রুত দেওয়া উত্তরগুলির প্রধান শিরোনামে পরিণত হয়।
উপস্থাপনার ভুলটি কোথায়
সমস্যাটি বিজ্ঞান বনাম সরকারের সংঘাতের চেয়ে বরং প্রশ্নগুলির উত্তর দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে। উদাহরণস্বরূপ, দ্বিতীয় প্রশ্নটিতে বৈধ উদ্বেগের সঙ্গে এমন কিছু নির্দিষ্ট দাবি জুড়ে দেওয়া হয়েছিল, যেগুলির কোনও প্রমাণযোগ্য সংজ্ঞা বা উৎস উপস্থাপন করা হয়নি: যেমন— চিকিৎসা পরীক্ষার মাধ্যমে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর ফাইব্রোসিসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া এবং বায়ুর গুণমানের কারণে ফুসফুসের স্থিতিস্থাপকতার পরিমাণগতভাবে ৫০ শতাংশ হ্রাস পাওয়া। তবে একটি সম্ভাব্য অতিরঞ্জিত দাবি প্রত্যাখ্যান করার অর্থ এই নয় যে, অন্তর্নিহিত সম্পর্কটি অপ্রমাণিত। এগুলি ভিন্ন ভিন্ন বিষয় এবং উত্তরগুলিতে সেগুলিকে স্পষ্ট ভাবে আলাদা করা হয়নি।
বায়ু দূষণজনিত মৃত্যু সংক্রান্ত প্রথম প্রশ্নটিতে একটি ভিন্ন অসামঞ্জস্যতা ছিল। বায়ু দূষণের কারণে হওয়া মৃত্যু সাধারণত ডেথ সার্টিফিকেটের মাধ্যমে যাচাইযোগ্য নয়, যেখানে মৃত্যুর কারণ হিসেবে বায়ু দূষণের উল্লেখ থাকে। এই সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হয় ‘অ্যাট্রিবিউটেবল মর্টালিটি’ পদ্ধতির মাধ্যমে, যা দূষণের সংস্পর্শের তথ্য এবং ঝুঁকির সম্পর্ককে একত্রিত করে। যদি উত্তরটি এই তথ্যের উপর নির্ভর করে যে, বায়ু দূষণকে একমাত্র কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না, তা হলে এটি সাংসদের আসল প্রশ্নটিকেই এড়িয়ে যায়: যখন একটি জনগোষ্ঠী-স্তরের ঝুঁকির বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়, তখন সরকার কী ধরনের প্রমাণ নথিভুক্ত করবে? এমন একটি পরিস্থিতিতে - যেখানে নাগরিকরা ক্রমবর্ধমান ভাবে সংসদীয় প্রশ্নের উত্তর সরাসরি পড়েন - সিদ্ধান্তটি আসলে সরকার কোনটিকে বাস্তব বলে মনে করে, সে সম্পর্কে জনগণের ধারণাকে আকার দেয়।
ভারত সরকার (জিওআই) পিয়ার-রিভিউড প্রমাণ এবং সংশ্লেষণমূলক কাজের এক ক্রমবর্ধমান ভাণ্ডারে অবদান রেখেছে। ভারত সরকারের আংশিক অর্থায়নে পরিচালিত ‘ইন্ডিয়া স্টেট-লেভেল ডিজিজ বার্ডেন ইনিশিয়েটিভ’-এর রাজ্যগুলিতে বায়ু দূষণ বিষয়ক বিশ্লেষণটি একটি বহুল উদ্ধৃত উদাহরণ। এই গবেষণায় বায়ু দূষণের কারণে সৃষ্ট উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক প্রভাবের অনুমান করা হয়েছে এবং জানানো হয়েছে যে, ভারতে বায়ু দূষণজনিত মৃত্যুর একটি বড় অংশের জন্য সিওপিডি দায়ী।
এই মাসের শুরুতে রাজ্যসভায় উত্থাপিত একই ধরনের প্রশ্নের আরও সরাসরি উত্তর পাওয়া গিয়েছিল, এমনকি সরকারের নিজস্ব সংসদীয় নথিপত্রেও। ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর এবং ১৬ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক (এমওএইচএফডব্লিউ) বিভিন্ন কেন্দ্রের একটি শৃঙ্খলের মাধ্যমে বায়ু দূষণ-সম্পর্কিত অসুস্থতার জন্য নজরদারির কথা উল্লেখ করে এবং ইন্টিগ্রেটেড হেলথ ইনফরমেশন পোর্টাল-এর (আইএইচআইপি) মাধ্যমে তীব্র শ্বাসযন্ত্রের অসুস্থতার জন্য নজরদারির প্রচেষ্টার বর্ণনা দেয়। এটি ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ-এর (আইসিএমআর) কাজকেও স্বীকৃতি দেয়, যেখানে ৩৩,২১৩ জন নথিভুক্ত যোগ্য রোগীর (জরুরি বিভাগের রোগীদের ১২.৬ শতাংশ) সম্পূর্ণ তথ্যের উপর ভিত্তি করে রিপোর্ট করা হয়েছিল যে, উচ্চ দূষণের মাত্রা শ্বাসযন্ত্রের অসুস্থতার জন্য জরুরি বিভাগে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত। এমওএইচএফডব্লিউ উল্লেখ করে যে, এই গবেষণার নকশাটি নিজে থেকে কার্যকারণ সম্পর্ক প্রমাণ করে না। তবে এটি বায়ু দূষণকে একটি পরিমাপযোগ্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি হিসাবে বিবেচনা করে, যার জন্য নজরদারি এবং গবেষণা প্রয়োজন। সমসাময়িক এই গুরুতর জনস্বাস্থ্য সঙ্কটের মাত্রা অনুধাবনে সরকারের প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ না করায়, এমওইএফসিসি-র উত্তরগুলি থেকে এমন ধারণাই তৈরি হয়েছে যে, প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।
প্রমাণের অভাব নেই; বরং তা বিক্ষিপ্ত। ‘কোনও চূড়ান্ত তথ্য নেই’ বা ‘চূড়ান্ত তথ্যহীনতা’… এই ধারণাটিকে ভারতের সরকারি ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলি যা প্রকাশ করে আসছে, তার সঙ্গে মেলানোও কঠিন। জলবায়ু পরিবর্তন ও মানব স্বাস্থ্য বিষয়ক জাতীয় কর্মসূচির অধীনে ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল-এর (এনসিডিসি)র স্বাস্থ্য পরামর্শগুলিতে স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে যে, বায়ু দূষণের সংস্পর্শে আসা গুরুতর স্বাস্থ্যগত প্রভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এগুলি রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগগুলিকে প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে পথনির্দেশনা দেওয়ার জন্য লেখা হয়েছে। এগুলি বাস্তবায়নের জন্য তৈরি জনস্বাস্থ্য বিষয়ক দলিল দাবি করে যে, শ্বাসযন্ত্র এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত প্রভাবের ক্ষেত্রে বায়ু দূষণ একটি প্রধান কারণ।
এর পাশাপাশি, ভারত সরকার (জিওআই) পিয়ার-রিভিউড প্রমাণ এবং সংশ্লেষণমূলক কাজের এক ক্রমবর্ধমান ভাণ্ডারে অবদান রেখেছে। ভারত সরকারের আংশিক অর্থায়নে পরিচালিত ‘ইন্ডিয়া স্টেট-লেভেল ডিজিজ বার্ডেন ইনিশিয়েটিভ’-এর রাজ্যগুলিতে বায়ু দূষণ বিষয়ক বিশ্লেষণটি একটি বহুল উদ্ধৃত উদাহরণ। এই গবেষণায় বায়ু দূষণের কারণে সৃষ্ট উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক প্রভাবের অনুমান করা হয়েছে এবং জানানো হয়েছে যে, ভারতে বায়ু দূষণজনিত মৃত্যুর একটি বড় অংশের জন্য সিওপিডি দায়ী। ভারতে সাম্প্রতিক কালে দশটি শহরে কার্যকারণ পদ্ধতি ব্যবহার করে পিএম২.৫-এর স্বল্পমেয়াদি সংস্পর্শ এবং দৈনিক মৃত্যুহার পরীক্ষা করা হয়েছে, যা এমন একটি প্রেক্ষাপটে প্রমাণের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করেছে যেখানে সরাসরি পরিমাপের ক্ষেত্রে বাস্তব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। আন্তর্জাতিক ভাবে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পারিপার্শ্বিক বায়ু দূষণকে একটি প্রধান ঝুঁকির কারণ হিসেবে বিবেচনা করে এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত স্বাস্থ্যগত ফলাফলগুলিকে এমনভাবে সংক্ষিপ্ত করে, যা বিশ্ব জুড়ে সরকারি কর্তৃপক্ষ নীতি নির্ধারণের জন্য ব্যবহার করে।
এটি কেবল বায়ুর গুণমানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। পরবর্তী সময়ে যখন কোনোও মন্ত্রণালয় জনসাধারণকে কোনও ঝুঁকির দাবি মেনে নিতে বলবে — সেটা টিকার কার্যকারিতা, ভ্যাপিংয়ের ক্ষতি, বা কোনও অতিমারির সময়ে করণীয় নিয়মাবলি — তখন অনেকেই হয়তো নতুন দাবিটির গুণাগুণ বিচার না করে বরং যিনি দাবিটি করছেন, তাঁর ভূমিকা বিচার করতে চাইবেন।
ভারতীয় প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্যের উপর বায়ু দূষণের প্রভাব নিয়ে অনেক গবেষণা এবং পরামর্শমূলক নির্দেশিকা রয়েছে। অসুবিধা হল এই যে, এগুলি বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন স্থানে থাকে এবং একজন অবিশেষজ্ঞের পক্ষে সহজে বোঝা যায় এমন ভাষায় খুব কমই এক জায়গায় উপস্থাপন করা হয়। এমনকি সরকার-পরিচালিত একটি পর্যালোচনায়ও ভারতের স্বাস্থ্য-তথ্য পরিমণ্ডলে খণ্ডবিখণ্ডতা এবং দুর্বল সমন্বয়ের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে, সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বের আর্কাইভটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী উৎস হয়ে উঠেছে, যা অনুসন্ধানযোগ্য এবং স্থিতিশীল। অনেক অবিশেষজ্ঞের জন্য, এটি সরকারি নীতিমালার বিষয়ে একটি একক, প্রামাণিক জানালা হিসেবে কাজ করে।
প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতা কেন গুরুত্বপূর্ণ
এখান থেকেই বিষয়টি কেবল বায়ু দূষণের সমস্যা না থেকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যায় পরিণত হয়। জনস্বাস্থ্য বিশ্বাসযোগ্যতার উপর নির্ভরশীল। কারণ এটি মানুষের কাছে যা চায় তার বেশিরভাগই সংশয়ের পরিবেশে প্রয়োগ করা যায় না। নাগরিকরা যদি বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে, রাষ্ট্র ব্যাপক ভাবে অনুভূত ঝুঁকিগুলিকে কম করে দেখানোর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক মঞ্চ ব্যবহার করছে, তবে তা সংশয় এবং অবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে তোলে। এটি কেবল বায়ুর গুণমানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। পরবর্তী সময়ে যখন কোনোও মন্ত্রণালয় জনসাধারণকে কোনও ঝুঁকির দাবি মেনে নিতে বলবে — সেটা টিকার কার্যকারিতা, ভ্যাপিংয়ের ক্ষতি, বা কোনও অতিমারির সময়ে করণীয় নিয়মাবলি — তখন অনেকেই হয়তো নতুন দাবিটির গুণাগুণ বিচার না করে বরং যিনি দাবিটি করছেন, তাঁর ভূমিকা বিচার করতে চাইবেন। যখন সরকারি বিবৃতিগুলি বারবার প্রশ্নটির সমাধান না করে সেটিকে সঙ্কীর্ণ করে ফেলে, তখন আস্থায় ফাটল ধরতে শুরু করে।
এমন একটি ব্যবস্থায় যেখানে সমন্বিত জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য বিক্ষিপ্ত থাকে, সেখানে সংসদীয় জবাবের একটি বাক্যই পূর্বনির্ধারিত ‘সরকারি’ ব্যাখ্যা হয়ে উঠতে পারে। যদি সেই ব্যাখ্যাটি দেশ জুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের বাস্তব জীবনকে ক্ষুণ্ণ করছে বলে ব্যাপক ভাবে মনে করা হয়, তবে এর ক্ষতি কেবল একটি বিতর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি আরও ব্যাপক ভাবে জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত যোগাযোগের প্রতি আস্থা দুর্বল করে দিতে পারে।
বায়ু দূষণ একটি কঠিন সমস্যা, যার জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সমন্বিত নীতিগত পদক্ষেপ প্রয়োজন। বায়ু দূষণের মতো বহুবিধ ঝুঁকির বিষয়ে জনযোগাযোগের ক্ষেত্রেও একই শৃঙ্খলা প্রয়োজন, যাতে সরকারের বিভিন্ন অংশ একে অপরের কথা না শুনে ভুল না করে। ভারতে এর উৎস, প্রয়োগ এবং সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে বিতর্ক চলতেই থাকবে, কিন্তু সংসদের কার্যবিবরণী যেন অস্পষ্টতার আরেকটি উৎস না হয়ে ওঠে। এমন একটি ব্যবস্থায় যেখানে সমন্বিত জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য বিক্ষিপ্ত থাকে, সেখানে সংসদীয় জবাবের একটি বাক্যই পূর্বনির্ধারিত ‘সরকারি’ ব্যাখ্যা হয়ে উঠতে পারে। যদি সেই ব্যাখ্যাটি দেশ জুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের বাস্তব জীবনকে ক্ষুণ্ণ করছে বলে ব্যাপক ভাবে মনে করা হয়, তবে এর ক্ষতি কেবল একটি বিতর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি আরও ব্যাপক ভাবে জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত যোগাযোগের প্রতি আস্থা দুর্বল করে দিতে পারে। সঠিক উপস্থাপনা নিশ্চিত করা মানেই হল সরকারি তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা রক্ষা করা।
উম্মেন সি কুরিয়ান অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের হেলথ ইনিশিয়েটিভের প্রধান এবং গবেষক।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Oommen C. Kurian is Senior Fellow and Head of the Health Initiative at the Inclusive Growth and SDGs Programme, Observer Research Foundation. Trained in economics and ...
Read More +