পারমাণবিক এবং অ-পারমাণবিক সিস্টেমে এআই-এর সংযুক্তিকরণ নতুন পারমাণবিক যুগে পূর্ব-প্রতিরোধ, উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকি এবং কৌশলগত স্থিতিশীলতাকে নতুন রূপ দিচ্ছে
উদীয়মান প্রযুক্তির বিভিন্ন মাত্রার সংযোজন, যার প্রয়োগ একটি সক্ষম ভূমিকা থেকে শুরু করে নির্দিষ্ট অস্ত্র ব্যবস্থা পর্যন্ত বিস্তৃত, তা কৌশলের প্রচলিত এবং পারমাণবিক ক্ষেত্রের মধ্যেকার পার্থক্য অস্পষ্ট করে দিচ্ছে। এটি নতুন পারমাণবিক যুগের একটি সংজ্ঞায়িত বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে। ত্রিমুখী অস্ত্র প্রতিযোগিতায় আবদ্ধ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (ইউএস), রাশিয়া এবং চিনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার কৌশলগত স্থিতিশীলতার গতিপ্রকৃতিকে প্রভাবিত করছে। পারমাণবিক ক্ষেত্রে এআই-এর অন্তর্ভুক্তি, বিশেষ করে পারমাণবিক কমান্ড, নিয়ন্ত্রণ এবং যোগাযোগ (এনসি৩) কাঠামোতে আর সেই সঙ্গে অ-পারমাণবিক কৌশলগত অস্ত্রে (এনএনএসডব্লিউ), পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রগুলির জন্য নতুন দুর্বলতা এবং চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। সাইবার-হামলা, একটি অ-পারমাণবিক তড়িৎচুম্বকীয় স্পন্দন-ভিত্তিক আক্রমণ, বা একটি এআই-সক্ষম হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে এআই-সমন্বিত সিস্টেমগুলির দুর্বলতা রাষ্ট্রগুলির জন্য প্রতিপক্ষকে আগেভাগে প্রতিহত করতে এবং বর্ধিত প্রতিরোধের জন্য একটি তীব্র অস্ত্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে গুরুতর প্রণোদনা তৈরি করে। পারমাণবিক এবং অ-পারমাণবিক উভয় সিস্টেমে এআই সংযোজনের মাত্রা ও পরিধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রগুলির মধ্যে কৌশলগত স্থিতিশীলতার উপাদানগুলিকে প্রভাবিত করবে। নীতি নির্ধারকদের জন্য পূর্ব-প্রতিরোধ, উত্তেজনা বৃদ্ধি ব্যবস্থাপনা, এবং সংকটকালীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ গুরুতর বিবেচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
পরিবর্তনশীল পারমাণবিক প্রেক্ষাপটে, কৌশলগত স্থিতিশীলতাকে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক ও নীতিগত হাতিয়ার হিসেবে দেখা যেতে পারে, যা বিশ্লেষণ করে যে প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত অস্ত্র কীভাবে প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী বা দুর্বল করতে পারে অথবা সংঘাত বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
নতুন পারমাণবিক যুগে কৌশলগত স্থিতিশীলতার বিবর্তন
‘কৌশলগত স্থিতিশীলতা’ ধারণাটি শীতল যুদ্ধের প্রথম দশকগুলিতে পারমাণবিক কৌশলের ক্ষেত্রে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার কৌশলগত মিথস্ক্রিয়ার প্রকৃতি বর্ণনা করার জন্য উদ্ভূত হয়েছিল। সাধারণভাবে, কৌশলগত স্থিতিশীলতার দুটি মূল ভিত্তি রয়েছে: প্রথম পারমাণবিক হামলা চালানোর প্রণোদনার অনুপস্থিতি (সংকটকালীন স্থিতিশীলতা) এবং পারমাণবিক শক্তির বৃদ্ধি প্রতিরোধ (অস্ত্র প্রতিযোগিতাজনিত স্থিতিশীলতা)। মূলত, এটি পারমাণবিক পূর্ব-প্রতিরোধ ব্যবস্থা বজায় রাখার বিষয়ে কৌশলগত চিন্তাভাবনার জন্য একটি ধারণাগত কাঠামো হিসাবে পরিকল্পিত হয়েছিল। তবে সময়ের সাথে সাথে, ‘প্রণোদনার অভাব’ সম্পর্কিত বিষয়গত ধারণাটি একটি স্ববিরোধী উপাদান হিসেবে আবির্ভূত হয়, যা পারমাণবিক রাষ্ট্রগুলির মধ্যে স্থিতিশীলতার জন্য বিপদ হয়ে দাঁড়ায়। রাষ্ট্রীয় পক্ষগুলির ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যার ফলে ভুল গণনার ঝুঁকি বেড়ে যায়, যা প্রতিরক্ষা ও পূর্ব-প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তোলে। পরিবর্তনশীল পারমাণবিক প্রেক্ষাপটে, কৌশলগত স্থিতিশীলতাকে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক ও নীতিগত হাতিয়ার হিসেবে দেখা যেতে পারে, যা বিশ্লেষণ করে যে প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত অস্ত্র কীভাবে প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী বা দুর্বল করতে পারে অথবা সংঘাত বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। নতুন প্রযুক্তি দ্বারা চিহ্নিত এই নতুন পারমাণবিক যুগটি কৌশলবিদ ও নীতিনির্ধারক উভয়ের জন্যই কৌশলগত স্থিতিশীলতার শীতল যুদ্ধকালীন ধারণার উপর নতুন ব্যাখ্যা ও প্রভাব নিয়ে আসে।
পারমাণবিক কৌশলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সংঘাত বৃদ্ধির ঝুঁকি
বর্তমানে, প্রচলিত ক্ষেত্রে যুদ্ধও সীমিত বা পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক যুদ্ধে রূপান্তরিত হওয়ার বৃহত্তর সম্ভাবনা বহন করে। কৌশলগত স্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে, ভূ-কৌশলগত প্রতিযোগিতা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চিনের মধ্যে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ঐকমত্যের অভাবই প্রধান প্রবণতা হিসেবে রয়ে গেছে। ফলস্বরূপ, পূর্ব-প্রতিরোধ ব্যবস্থার ব্যর্থতাকে চরম পরিণতি হিসেবে নিয়ে একটি অস্ত্র প্রতিযোগিতা এক আসন্ন সম্ভাবনায় পরিণত হচ্ছে। এআই-এর অগ্রগতি রাষ্ট্রগুলিকে তাদের পূর্ব-প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার বিভিন্ন বিকল্প অন্বেষণে সক্ষম করছে, যা ক্রমশ যুদ্ধের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।
পারমাণবিক কৌশলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সংঘাত বৃদ্ধির ঝুঁকি: বর্তমানে, প্রচলিত ক্ষেত্রে যুদ্ধ সীমিত বা পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক যুদ্ধে রূপান্তরিত হওয়ার বৃহত্তর সম্ভাবনা বহন করে।
সুবিধার দিক থেকে, এনসি৩-এ এআই কমান্ড চেনের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে সাহায্য করার জন্য উন্নত আগাম সতর্কতা এবং গোয়েন্দা, নজরদারি ও পুনরুদ্ধার (আইএসআর) তথ্য সরবরাহ করতে পারে। তবে উদীয়মান প্রযুক্তির বিস্তার, বিশেষ করে যুদ্ধক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, রাষ্ট্রগুলিকে তাদের প্রতিপক্ষের উপর প্রথম পদক্ষেপ নেওয়ার সুবিধা অর্জনের জন্য উৎসাহিত করছে। এটি অস্ত্র প্রতিযোগিতার স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করে, এবং এমন একটি ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া চক্রকে শক্তিশালী করে যা গুণমান, প্রতিক্রিয়ার সময় এবং সামগ্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দেয়। কোনও রাষ্ট্রের দ্বারা এনসি৩ কাঠামোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংযোজন পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের প্রস্তুতিতে একটি অতিরিক্ত মাত্রা যোগ করে। একই সঙ্গে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিপক্ষের পারমাণবিক পরিকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য পাল্টা শক্তি প্রয়োগের সক্ষমতাসহ অ-পারমাণবিক কৌশলগত অস্ত্রকে উন্নত করতে পারে, যার মধ্যে দ্বিতীয় আঘাত হানার ক্ষমতাও অন্তর্ভুক্ত। এটি প্রতিপক্ষকেও একই পথ অনুসরণ করার জন্য গুরুতর প্রণোদনা তৈরি করে। পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রগুলির জন্য একটি নিরাপত্তা সংকট তৈরি করার মাধ্যমে সংকটকালীন স্থিতিশীলতার উপর একটি অস্থিতিশীল প্রভাব সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের এআই সংযোজন তাদের পূর্ব-বিদ্যমান ‘কাউন্টারফোর্স টার্গেটিং’ কৌশলের সঙ্গে মিলিত হয়ে প্রতিপক্ষের উপর তাদের সুবিধাকে আরও তীক্ষ্ণ করতে পারে। একই সময়ে, চিন ও রাশিয়া সংকটের সময় একই ধরনের প্রভাব তৈরি করার জন্য প্রচলিত অস্ত্র ব্যবস্থার সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে একীভূত করে এই সুবিধাকে প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। বাস্তব পরিস্থিতিতে, প্রতিপক্ষের পারমাণবিক পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে আক্রমণকারীকে অ-পারমাণবিক কৌশলগত অস্ত্র ব্যবহারের প্রণোদনা কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের জন্য জটিলতা আরও বাড়িয়ে তুলবে।
সারণি ১: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চিনে এআই-সক্ষম সিস্টেমসমূহ
|
পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র |
মূল সিস্টেম |
স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা |
নেতিবাচক প্রভাব/ঝুঁকি |
|
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র |
এআই-সহায়তাযুক্ত সি৩ সিস্টেম |
কম স্বয়ংচালিত; মানুষের হস্তক্ষেপ আবশ্যক |
সিদ্ধান্ত গ্রহণে এবং পক্ষপাত |
|
রাশিয়া চিন |
পেরিমিটার / ডেড হ্যান্ড; পসাইডন (পারমাণবিক অস্ত্রসজ্জিত ইউইউভি) |
আধা-স্বয়ংচালিত এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই কাজ করতে পারে; স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হয় |
সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে |
|
চিন |
এআই-সংযুক্ত হাইপারসনিক/চালকবিহীন যান ত্রয়ী পর্যায়ে |
লক্ষ্য নির্ধারণ ও সনাক্তকরণে আধা-স্বয়ংচালিত; চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ মানুষের হাতে |
ঝুঁকি বৃদ্ধির আশঙ্কা, স্বচ্ছতার সমস্যা এবং পৃথক করা কঠিন |
সূত্র: সিপরি, ওয়ার অন দ্য রকস, সিএনএএস, গ্লোবাল টাইমস
সংকট-পূর্ববর্তী বা সংকটকালীন সময়ে একটি এআই-ভিত্তিক এনসি৩ গুরুতর সাইবার-আক্রমণের প্রেক্ষিতেও ঝুঁকিপূর্ণ, যার তাৎক্ষণিক পরিণতি হিসেবে সক্ষমতায় অকার্যকারিতা দেখা দেয়। প্রধানত সাইবার-ভিত্তিক নন-নিউক্লিয়ার ওয়্যারহাউস (এনএনএসডব্লিউ)-এর অন্তর্নিহিত ‘দীর্ঘমেয়াদি-স্বল্পমেয়াদি কৌশলগত দ্বৈত-ক্ষমতা’ বৈশিষ্টটি প্রতিপক্ষের পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে একটি ফলাফল-ভিত্তিক পরিণতি তৈরি করে। এই লক্ষ্যে, আক্রমণাত্মক বা পূর্বপ্রস্তুতিমূলক ইন্টিগ্রিটি অ্যাটাকগুলি এআই-সিস্টেমগুলিকে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে প্রতারিত করতে সক্ষম। ইভেসিভ অ্যাটাক, যা ইন্টিগ্রিটি অ্যাটাকের আরেকটি রূপ, এআই মডেলের ত্রুটিগুলিকে কাজে লাগিয়ে এনসি৩ স্থাপত্যে ভুল শনাক্তকরণ ঘটাতে পারে। একটি নন-নিউক্লিয়ার ইএমপি অ্যাটাক এনসি৩-এর হার্ডওয়্যার উপাদানের পাশাপাশি সিস্টেমগুলির স্বায়ত্তশাসনকেও ব্যাহত করতে পারে। একটি স্বয়ংচালিত কাইনেটিক সিস্টেম, যেমন একটি প্রচলিত ওয়ারহেড এবং অপ্রত্যাশিত গতিপথসহ একটি এআই-সমন্বিত হাইপারসনিক মিসাইল, পূর্বপ্রস্তুতিমূলকভাবে এনসি৩ স্থাপত্যকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এই পারমাণবিক ও অ-পারমাণবিক কৌশলগত অস্ত্রগুলি পারমাণবিক উত্তেজনা বৃদ্ধি না করে বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প প্রদান করে, যা রাষ্ট্রগুলিকে আগেভাগেই ব্যবস্থা নিতে এবং ফলস্বরূপ সংঘাতপ্রবণ যুদ্ধ কৌশলের দিকে ধাবিত হতে উৎসাহিত করে। প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভুল ধারণা, বর্ধিত গতি এবং সীমিত সময়ের সঙ্গে মিলিতভাবে সংকটকালে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের ভুল করার একটি গুরুতর সম্ভাবনা তৈরি করে। ফলস্বরূপ, পারমাণবিক এবং অ-পারমাণবিক কৌশলগত অস্ত্রের মিশ্রণ অনিচ্ছাকৃত সংঘাত বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রগুলির মধ্যে সংকটকালীন স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করতে পারে।
পারমাণবিক ও অ-পারমাণবিক কৌশলগত অস্ত্রগুলি পারমাণবিক সংঘাতের আশ্রয় না নিয়েই বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প প্রদান করে, যা রাষ্ট্রগুলিকে আগেভাগেই ব্যবস্থা নিতে এবং ফলস্বরূপ সংঘাতপ্রবণ যুদ্ধ কৌশলের দিকে ধাবিত হতে উৎসাহিত করে। প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভুল ধারণা, বর্ধিত গতি এবং সীমিত সময়ের সঙ্গে মিলিতভাবে সংকটকালে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের ভুল করার একটি গুরুতর সম্ভাবনা তৈরি করে।
এআই সংযুক্তির প্রভাব
এআই অগ্রগতি এবং পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রগুলির দ্বারা এর অন্তর্ভুক্তি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আরও প্রতিযোগিতামূলক একটি পদ্ধতির অংশ। এই গতিশীলতা শান্তিকালীন এবং সংকটকালীন উভয় পরিস্থিতিতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপর প্রভাব ফেলতে পারে, যা তিনভাবে কৌশলগত স্থিতিশীলতার উপর প্রভাব ফেলে।
প্রথমত, এআই-এর অগ্রগতি পূর্ব-প্রতিরোধ ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা ও বজায় রাখার পরিধিকে বৈপ্লবিকভাবে পরিবর্তিত না করলেও, নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। এটি পারমাণবিক পূর্ব-প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে শীতল যুদ্ধের চিন্তাভাবনার সীমাবদ্ধতাকে উন্মোচিত করছে এবং একই সঙ্গে পারমাণবিক পরিবেশে যুদ্ধ পরিচালনাকে সম্ভব করে তুলছে। দ্বিতীয়ত, পূর্ব-প্রতিরোধ ব্যবস্থার ক্রমবিকাশমান রূপরেখার সঙ্গে সংঘাত বৃদ্ধি এবং পূর্ব-প্রতিরোধ ব্যবস্থায় ব্যর্থতার সমস্যা আরও জটিল ও তীব্র হয়ে উঠছে। পরিশেষে, নতুন পারমাণবিক যুগে এআই মানব-স্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এটি আরও জটিল ও বাস্তব সংকট পরিস্থিতিকে আরও বাড়িয়ে তোলে, যেখানে অভ্রান্ততা, গতি এবং সময়-সম্পর্কিত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে পর্যবেক্ষণ, দিকনির্দেশনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কাজ করার প্রয়োজন হয়।
উপসংহার
কৌশলগত পরিবেশে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে, যা শীতল যুদ্ধ যুগের পরিবেশ থেকে ভিন্ন। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন এবং রাশিয়ার মধ্যে কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা দ্বারা চিহ্নিত, যার প্রভাব বৃহত্তর কৌশলগত স্থিতিশীলতার উপর পড়ে। বিগত দশকগুলির মতোই, কৌশলের পারমাণবিক ক্ষেত্রটি প্রযুক্তিগত প্রভাবের পরিবর্তন থেকে মুক্ত থাকেনি, যা রাষ্ট্রগুলির জন্য পূর্ব-প্রতিরোধের যুক্তিকে শক্তিশালী ও সমুন্নত রাখতে চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। নতুন পারমাণবিক যুগের কৌশলগত কাঠামোর মধ্যে এআই সংযুক্তিকরণ পারমাণবিক এবং প্রচলিত যুদ্ধের মধ্যেকার সীমানা ঝাপসা করে দিচ্ছে, যা সংকটের সময় উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। এর ফলে, রাষ্ট্রগুলির মধ্যে সংকটকালীন স্থিতিশীলতা এবং অস্ত্র প্রতিযোগিতার স্থিতিশীলতা উভয়ই বিপন্নতার মুখে পড়ছে।
পূর্ব-প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য এআই-সমন্বয়ে প্রথম পদক্ষেপ করার সুবিধা অস্ত্র প্রতিযোগিতার স্থিতিশীলতাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।
কৌশলগত স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করার প্রযুক্তি হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সম্ভাবনা তিনটি মূল মাপকাঠির উপর নির্ভরশীল। প্রথমত, এআই-এর অগ্রগতি এবং পারমাণবিক ও অ-পারমাণবিক উভয় রাষ্ট্রের মধ্যে এর বিস্তার, আর সেইসঙ্গে এনসি৩ এবং এনএনএস ডব্লিউ-এর সক্ষমতার সঙ্গে এর সংযুক্তকরণ। দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রগুলির প্রতিরক্ষা ও পূর্ব-প্রতিরোধমূলক হিসাব-নিকাশের উপর এর প্রভাব। পরিশেষে, সংকটকালীন সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপর এআই-সমন্বিত সিস্টেমের প্রভাব।
সংকটকালে প্রতিপক্ষের দ্বারা অতর্কিত আক্রমণের শিকার হওয়ার ভয়ই সংকটকালীন স্থিতিশীলতার জন্য সবচেয়ে বড় বিপদের কারণ এবং অস্থিতিশীলতার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে রয়ে গিয়েছে। পূর্ব-প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য এআই-সমন্বয়ে প্রথম পদক্ষেপ করার সুবিধা অস্ত্র প্রতিযোগিতার স্থিতিশীলতাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। এআই-এর অগ্রগতি দ্বারা চিহ্নিত এই নতুন পারমাণবিক যুগটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ঝুঁকি প্রশমিত করার জন্য রাষ্ট্রগুলির সামনে পূর্ব-প্রতিরোধ, সংকট ব্যবস্থাপনা এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিগুলি পুনর্বিবেচনা করার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ এবং প্রণোদনা উভয়ই উপস্থাপন করে।
রাহুল রাওয়াত অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের গবেষণা সহকারী।
নেহা কৌশল অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের প্রাক্তন ইন্টার্ন।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Rahul Rawat is a Research Assistant with ORF’s Strategic Studies Programme (SSP). He also coordinates the SSP activities. His work focuses on strategic issues in the ...
Read More +
Neha Kaushal is a former intern with the Strategic Studies Programme at Observer Research Foundation ...
Read More +