Expert Speak Digital Frontiers
Published on Apr 16, 2026 Updated 1 Days ago

সরকারগুলির অর্থায়নে চালিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রকল্পগুলি স্বচালিত এজেন্টের মাধ্যমে নয়, বরং ডেটার বিশ্লেষণ ব্যাখ্যার সর্বোত্তমকরণের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে বাস্তব-সময়ের যুদ্ধকে বদলে দিচ্ছে

বাস্তব যুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: প্রজেক্ট ম্যাভেন থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্রমশ বিভিন্ন শাখা ও ব্যবহারিক ক্ষেত্রে সমন্বিত হচ্ছে, এবং সামরিক অভিযানও এর ব্যতিক্রম নয়। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন রাষ্ট্র প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা এবং কৌশলগত বাস্তবায়নে এআই অন্তর্ভুক্ত করতে শুরু করেছে, এবং এই অগ্রগতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (‌ইউএস)‌, ইজরায়েল ও চিন নেতৃত্ব দিচ্ছে। তবুও, এআই কীভাবে বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রকে প্রভাবিত করে এবং এর অভিযানগত প্রভাবের মাত্রা কতটুকু, তা প্রায়শই ভুল বোঝা হয় বা অতিরঞ্জিত করা হয়। ড্রোন-এর মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় প্রাণঘাতী ক্ষমতার বাহক হিসেবে কাজ করার পরিবর্তে, সমসাময়িক যুদ্ধে এআই-এর প্রধান ভূমিকা হল বিপুল পরিমাণ ডেটা প্রক্রিয়াকরণ করে পরিস্থিতিগত সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং কমান্ডারদের যুদ্ধক্ষেত্র সম্পর্কে আরও ব্যাপক ধারণা প্রদান করা।

প্রজেক্ট ম্যাভেন

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ (ডিওডি) দ্বারা ২০১৭ সালের এপ্রিলে প্রতিষ্ঠিত অ্যালগরিদমিক ওয়ারফেয়ার ক্রস-ফাংশনাল টিম, যা সাধারণত প্রজেক্ট ম্যাভেন নামে পরিচিত, প্রতিরক্ষা অভিযান জুড়ে এআই এবং মেশিন লার্নিং (এমএল)-এর সমন্বয় বাড়ানোর জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল প্রতিপক্ষ ও প্রতিযোগীদের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত এবং প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখা। প্রাথমিকভাবে গুগলের নেতৃত্বে পরিচালিত এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত মার্কিন ড্রোন থেকে উৎপন্ন বিপুল পরিমাণ ডেটা প্রক্রিয়াকরণে সক্ষম সিস্টেম তৈরি করা। এই ডেটার উপর এআই মডেলকে প্রশিক্ষণ দিয়ে, প্রজেক্ট ম্যাভেনের লক্ষ্য ছিল ড্রোন নজরদারির ফুটেজ থেকে সামরিক লক্ষ্যবস্তু স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা, এবং পরবর্তীতে এই তথ্য কমান্ডিং অফিসারদের কাছে মানবিক যাচাইকরণ ও অভিযানিক প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রেরণ করা।


সমসাময়িক যুদ্ধে এআই-এর প্রধান ভূমিকা হল বিপুল পরিমাণ ডেটা প্রক্রিয়াকরণ করে পরিস্থিতিগত সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং কমান্ডারদের যুদ্ধক্ষেত্র সম্পর্কে আরও ব্যাপক ধারণা প্রদান করা।


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সামরিক প্রয়োগে কোম্পানির সম্পৃক্ততা নিয়ে কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের কারণে  ২০১৮ সালে গুগল ‘প্রজেক্ট ম্যাভেন’-এ ডিওডি-‌র সঙ্গে তাদের সহযোগিতা নবীকরণ না করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই প্রত্যাহারের ফলে প্রকল্পটির উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় একটি সাময়িক শূন্যতা তৈরি হয়, যা অন্যান্য বেসামরিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে আরও বড় ভূমিকা নিতে উৎসাহিত করে। এদের মধ্যে  প্যালান্টিয়ার টেকনোলজিস একটি প্রধান ঠিকাদার হিসেবে আবির্ভূত হয়, যা ডেটা ইন্টিগ্রেশন ও বিশ্লেষণে তার দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ম্যাভেনের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা লক্ষ্য অর্জনে প্রকল্পটির সহায়তার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করে।

প্রজেক্ট ম্যাভেন দ্রুত কার্যক্ষমতার সাফল্য প্রদর্শন করে, এবং ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক গোয়েন্দা প্রচেষ্টাকে উল্লেখযোগ্য সহায়তা প্রদান করে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে, এটি এই অঞ্চলগুলিতে ৮৫টিরও বেশি সুনির্দিষ্ট বিমান হামলায় সহায়তা করেছিল বলে জানা যায়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের চিফ টেকনোলজি অফিসার স্কাইলার মুরের মতে, সিস্টেমটির কার্যকারিতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আক্রমণের পরিবর্তে লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ ও মূল্যায়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল এবং সমস্ত হামলার সিদ্ধান্ত কার্যকর করার আগে মানুষের দ্বারা নিশ্চিতকরণের ওপর নির্ভরশীল ছিল। প্রকল্পটি বর্তমানে মার্কিন ন্যাশনাল জিওস্পেশিয়াল-ইন্ট্যালিজেন্স এজেন্সির নেতৃত্বে রয়েছে, যেখানে এটি সামরিক ও কৌশলগত ব্যবহারের জন্য বিশ্বকে মানচিত্রায়িত করতে ব্যবহৃত হয়

প্রজেক্ট ম্যাভেনের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হিসেবে একাধিক উৎস থেকে প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের জন্য একটি নিরবচ্ছিন্ন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি ক্রমাগত শিক্ষণক্ষম বিশ্লেষণাত্মক ইঞ্জিন দ্বারা গঠিত একটি সমন্বিত কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হবে বলে পরিকল্পিত। এই কাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি  লক্ষ্য হল একটি ব্যাপক বহুক্ষেত্রীয় লক্ষ্য নির্ধারণ ব্যবস্থা তৈরি করা, যা স্থল, সমুদ্র, আকাশ, সাইবার এবং মহাকাশ ক্ষেত্র জুড়ে গোয়েন্দা তথ্যকে একীভূত ও সমন্বয় করতে সক্ষম হবে, যার ফলে সমন্বিত ও তথ্য-চালিত সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ভূমিকা

বেশ কিছু বিশেষজ্ঞ ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন এবং এর পরবর্তী সংঘাতকে আধুনিক যুদ্ধে এআই প্রয়োগের একটি ‘পরীক্ষাক্ষেত্র’ বা ‘সচল গবেষণাগার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এই সংঘাত অস্ত্র ব্যবস্থা, গোয়েন্দা বিশ্লেষণ এবং সাইবার নিরাপত্তার জন্য এআই প্রযুক্তি ব্যবহারে ব্যাপক উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করেছে, কারণ রুশ ও ইউক্রেনীয় উভয় বাহিনীই প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্য সচেষ্ট। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের অধীনে বিকশিত প্রজেক্ট ম্যাভেন এই প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে, এবং রাশিয়ার আগ্রাসনের শুরু থেকেই ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা প্রচেষ্টাকে অপরিহার্য সহায়তা প্রদান করেছে।

বিশেষ করে, প্রজেক্ট ম্যাভেনের অবদান স্পষ্ট হয়েছিল জেনারেল ক্রিস্টোফার ডোনোহিউ-এর নেতৃত্বে মার্কিন সেনাবাহিনীর অষ্টাদশ এয়ারবোর্ন কোরের সঙ্গে এর সমন্বয়ের মাধ্যমে, যা সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স গ্রুপ-ইউক্রেন (এসএজি-ইউ)-এর কমান্ড গ্রহণ করেছিল। যদিও এসএজি-ইউ-এর প্রাথমিক দায়িত্ব ছিল ইউক্রেনের সামনের সারিতে অপরিহার্য কমান্ড সহায়তা, রসদ পরিকল্পনা ও সরঞ্জাম সরবরাহ করা, এর কর্মপরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু দ্রুত সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে সহায়তা, বিশেষ করে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের কাজের দিকে পরিবর্তিত হয়


শুধুমাত্র লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণের বাইরেও, এই মডেলগুলি যুদ্ধক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত সহায়ক ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করত, যা কার্যকরভাবে ইউক্রেনীয় কমান্ডারদের যুদ্ধক্ষেত্রের একটি গতিশীল ‘ডিজিটাল মডেল’ প্রদান করত।



প্রজেক্ট ম্যাভেনের অধীনে তৈরি এআই মডেলগুলি, যা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করত এবং সে সম্পর্কে তথ্য দিত, ইউক্রেনীয় বাহিনীর পরিচালিত অসংখ্য পাল্টা আক্রমণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। শুধুমাত্র লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণের বাইরেও, এই মডেলগুলি যুদ্ধক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত সহায়ক ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করত, যা কার্যকরভাবে ইউক্রেনীয় কমান্ডারদের যুদ্ধক্ষেত্রের একটি গতিশীল ‘ডিজিটাল মডেল’ প্রদান করত।  এই ভার্চুয়াল উপস্থাপনাটি তুলনামূলকভাবে বিক্ষিপ্ত সেন্সর নেটওয়ার্ক থেকে সংগৃহীত ডেটা সংশ্লেষণ করে শত্রু বাহিনী এবং তাদের অবস্থান শনাক্ত ও অনুসরণ করতে সক্ষম করেছিল, যার ফলে সেন্সর স্থাপনের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও পরিস্থিতিগত সচেতনতা এবং অভিযানগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছিল। ন্যাশনাল জিওস্পেশিয়াল-ইন্ট্যালিজেন্স এজেন্সি পরবর্তীতে পাবলিক রেকর্ডিংয়ে প্রকাশ করে যে, ইউক্রেনে ‘খুঁজুন, চিহ্নিত করুন, শেষ করুন’ (ফাইন্ড, ফিক্স, ফিনিশ)‌ চক্র দশ মিনিটেরও কম সময়ে নামিয়ে আনার জন্য কীভাবে প্রজেক্ট ম্যাভেন মোতায়েন করা হয়েছিল।

ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয় যে, প্রজেক্ট ম্যাভেন রাশিয়ার প্রতিরক্ষা প্রধান এবং প্রেসিডেন্ট পুতিনের একজন প্রধান সামরিক উপদেষ্টা জেনারেল ভ্যালেরি গেরাসিমভের নির্ভুল লক্ষ্য নির্ধারণে   উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে, যিনি ১ মে ২০২২-এ রাশিয়ার সর্বোচ্চ পদমর্যাদার জেনারেল ছিলেন। গেরাসিমভের একটি রুশ সেনা সদর দপ্তর পরিদর্শনের সময়, ইউক্রেনের একটি আর্টিলারি হামলায় সেই স্থানটি আক্রান্ত হয়, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সরবরাহকৃত হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম (হিমার্স) ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানা যায়। প্রজেক্ট ম্যাভেনের অনুরূপ লক্ষ্য নির্ধারণী সহায়তা মারিভকায় অবস্থিত রুশ ব্যারাকে ইউক্রেনের হামলা  সহজতর করেছিল বলে মনে করা হয়, যেখানে রুশ সৈন্যদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা ছবি থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। উপরন্তু, রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলির বিরুদ্ধে ইউক্রেনীয় আক্রমণগুলি প্রজেক্ট ম্যাভেনের এআই-সহায়তায় লক্ষ্য নির্ধারণী সক্ষমতা দ্বারা প্রদত্ত অভিযানগত সুবিধা থেকে উপকৃত হয়েছে বলে মনে হয়। এই ধরনের প্রকল্পে ব্যবহৃত ড্রোনগুলি সাধারণ এআই মডেল ব্যবহার করে, যা নির্ভুল লক্ষ্য নির্ধারণ এবং জ্যামিং প্রচেষ্টা প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে


সম্পূর্ণ স্বচালিত প্রাণঘাতী ব্যবস্থা সক্ষম করার ক্ষেত্রে এআই-এর সম্ভাবনা নিয়ে জনসাধারণ ও গণমাধ্যমের জল্পনা-কল্পনা থাকা সত্ত্বেও, বাস্তব কর্মপরিধি যুদ্ধক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় শক্তি গুণক হিসেবে এর  গুরুত্বকেই তুলে ধরে।



যুদ্ধক্ষেত্রে এআই-এর ভূমিকা

সমসাময়িক যুদ্ধক্ষেত্রে এআই-এর প্রকৃত ভূমিকা, যা প্রজেক্ট ম্যাভেনের মতো প্রকল্পের কারণে দৃষ্টান্তস্বরূপ, মূলত প্রাণঘাতী কর্মকাণ্ডের স্বচালিত সম্পাদনের পরিবর্তে বিশাল ও বৈচিত্র্যময় তথ্যপ্রবাহের বিশ্লেষণ এবং ব্যাখ্যার উপর কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। সম্পূর্ণ স্বচালিত প্রাণঘাতী ব্যবস্থা সক্ষম করার ক্ষেত্রে এআই-এর সম্ভাবনা নিয়ে জনসাধারণ ও গণমাধ্যমের জল্পনা-কল্পনা থাকা সত্ত্বেও, বাস্তব কর্মপরিধি যুদ্ধক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় শক্তি গুণক হিসেবে এর গুরুত্বকেই তুলে ধরে।

সামরিক প্রেক্ষাপটে এআই-এর অন্যতম মৌলিক অবদান হল আধুনিক সেন্সর নেটওয়ার্ক, ড্রোন রিকনাইসান্স, সাইবার ইন্ট্যালিজেন্স এবং অন্যান্য উৎস থেকে উৎপন্ন বিপুল পরিমাণ ডেটা প্রক্রিয়াকরণ, সংশ্লেষণ এবং বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা। যুদ্ধকালীন পদক্ষেপ শুরু করার জন্য স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবর্তে, এআই মডেলগুলি সিদ্ধান্ত সহায়ক সিস্টেমের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে, যা মানব কমান্ডারদের পরিস্থিতিগত সচেতনতা, হুমকি শনাক্তকরণ এবং লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষমতাকে উন্নত করে। প্রজেক্ট ম্যাভেন এই পদ্ধতির একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ, যা ড্রোন ফুটেজ এবং অন্যান্য গোয়েন্দা উৎস থেকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে ও তা জানাতে এআই এবং এমএল ব্যবহার করে। এআই নিজে থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে না; বরং, এটি যাচাইকৃত তথ্য উপস্থাপন করে যা মানব অপারেটররা বিশ্লেষণ করে সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সামরিক অভিযানে কমান্ডের জবাবদিহিতা এবং নৈতিক তত্ত্বাবধান বজায় রাখার জন্য এই 'হিউম্যান-ইন-দ্য-লুপ' মডেলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যদিও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবস্থা গুরুতর নৈতিক ও আইনি প্রশ্ন উত্থাপন করে, প্রজেক্ট ম্যাভেন এবং তুলনীয় প্রতিরক্ষা উদ্যোগগুলিতে এআই-এর বর্তমান প্রয়োগগুলো লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ চক্রে মানবিক তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিয়মাবলির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ থাকে। এটি এইভাবে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় প্রাণঘাতী পদক্ষেপের কারণে ঘটতে পারে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাত বৃদ্ধি বা আনুষঙ্গিক ক্ষতির ঝুঁকি হ্রাস করে, যা সামরিক অভিযানে এআই প্রযুক্তির একটি বিচক্ষণ ও পরিমিত ব্যবহারকে প্রতিফলিত করে।

আধুনিক যুদ্ধে এআই-এর রূপান্তরমূলক প্রভাব মানুষের কর্মক্ষমতাকে প্রতিস্থাপন করার মধ্যে নিহিত নয়, বরং যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্যের গতি, অভ্রান্ততা এবং বোধগম্যতা বৃদ্ধি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে মানব কর্মক্ষমতাকে আরও উন্নত করার মধ্যে নিহিত। 



সার কথা হল, আধুনিক যুদ্ধে এআই-এর রূপান্তরমূলক প্রভাব মানুষের কর্মক্ষমতাকে প্রতিস্থাপন করার মধ্যে নিহিত নয়, বরং যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্যের গতি, অভ্রান্ততা এবং বোধগম্যতা বৃদ্ধি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে মানব কর্মক্ষমতাকে আরও উন্নত করার মধ্যে নিহিত। প্রজেক্ট ম্যাভেনের প্রথম পরিচালক জ্যাক শ্যানাহানের ভাষায়, “এটি হল পুরনো বা ঐতিহ্যবাহী অস্ত্র ব্যবস্থার সঙ্গে বাণিজ্যিক এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এক অদ্ভুত মিশ্রণ। যে পক্ষ প্রযুক্তির এই সংমিশ্রণকে নতুন, ভিন্ন এবং সৃজনশীল উপায়ে ব্যবহার করার কৌশল বার করতে পারবে, তারাই সুবিধা লাভ করবে।”  

এটি যুদ্ধের ক্রমবিকাশমান দৃষ্টান্তকে তুলে ধরে, যেখানে উন্নত বিশ্লেষণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা চালিত তথ্যের শ্রেষ্ঠত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা গঠন করে। সুতরাং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা মূলত স্বয়ংক্রিয় প্রাণঘাতী ক্ষমতার পরিবর্তে তথ্য বিশ্লেষণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করা।



প্রণয় জৈনেন্দ্রন ওআরএফ-এর সেন্টার ফর সিকিউরিটি, স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষণা সহকারী।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Author

Pranoy Jainendran

Pranoy Jainendran

Pranoy Jainendran is a Research Assistant with ORF’s Centre for Security, Strategy & Technology. His work examines how technology shapes State institutions, national and international affairs, ...

Read More +