-
CENTRES
Progammes & Centres
Location
একটি অনিশ্চিত ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬ বিশ্বস্ত অংশীদারিত্বের পরিধি প্রসারিত করা এবং বিশ্বকে পরিপূরক এআই উদ্ভাবন প্রদানের ক্ষেত্রে ভারতের তাৎক্ষণিক কৌশলগত সুবিধাগুলিকে পুঁজি করার সুযোগ প্রদান করে।
ভারত এআই ইমপ্যাক্ট সামিট হতে চলেছে এমন এক সময়ে যখন বিশ্বব্যাপী সম্পর্ক এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিচ্ছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সম্মেলনটি গতিও পাচ্ছে এমন সময়ে যখন বাণিজ্য ও শুল্ক দেশগুলির দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক অংশীদারিত্বের পাশাপাশি বাজারকে বৈচিত্র্যময় করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। উন্নত কম্পিউটিং চিপ এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের উপর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের বিস্তৃত প্রেক্ষাপটের মধ্যে এটি অনুষ্ঠিত হবে, যা বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলের ভঙ্গুরতা, এবং অন্যান্য দেশের এআই উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে দমন করার জন্য এআই মহাশক্তিদের দ্বারা তৈরি করা বাধাগুলিকে, প্রদর্শন করেছে।
অর্থনীতি, সমাজ এবং রাজনীতির ক্ষেত্রে এআই একটি রূপান্তরকারী প্রযুক্তি। তবে, এর বিস্তার মূলধন-নিবিড়। দুটি শক্তি, অর্থাৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চিনের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, এআই সংক্রান্ত নিয়মকানুন, গণনা বা মডেল প্রাপ্যতার ক্ষেত্রে নীতিগত পরিবর্তনের কারণে উল্লেখযোগ্য দুর্বলতা তৈরি করবে। গুরুত্বপূর্ণ এআই সম্পদের ঘনত্ব এবং তাদের ভিত্তিগত কাঠামোর ক্ষেত্রে এই উভয় দেশেরই উল্লেখযোগ্য সুবিধা রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উন্নত কম্পিউটিংয়ের জন্য মূল্য শৃঙ্খলের উপরের প্রান্তটি নিয়ন্ত্রণ করে এবং রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এর বিশ্বব্যাপী সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। অন্যদিকে, ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলি চিনে কেন্দ্রীভূত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চিন উভয়ই যথাক্রমে চ্যাটজিপিটি এবং ডিপসিক-এর মতো সফল এআই মডেল তৈরি করেছে, যার উল্লেখযোগ্য বিশ্বব্যাপী বিস্তার রয়েছে। এই কৌশলগত সুবিধাগুলি এই দেশগুলিকে দ্রুত বাজারে প্রবেশ করতে, বিশ্বব্যাপী এআই প্রতিযোগিতায় থাকা এবং না-থাকা উভয়কেই নিয়ন্ত্রণ করতে এবং বিভিন্ন উপায়ে অন্যান্য দেশে অভ্যন্তরীণ উদ্ভাবনের উপর সীমা নির্ধারণ করতে দেয়।
মধ্যম শক্তিগুলির মধ্যে বর্ধিত সহযোগিতা অবশ্যই কৌশলগত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা একত্রিত করতে এবং গ্লোবাল সাউথের জন্য সমাধান সরবরাহকারী হিসাবে তাদের অবস্থান নির্ধারণে সহায়তা করতে পারে।
ভারতের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক প্রণীত শাস্তিমূলক শুল্ক ব্যবস্থা বিশ্বস্ত অংশীদারিত্বের পরিধি সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। মধ্যম শক্তিগুলির মধ্যে বর্ধিত সহযোগিতা অবশ্যই কৌশলগত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা একত্রিত করতে এবং গ্লোবাল সাউথের জন্য সমাধান সরবরাহকারী হিসাবে তাদের অবস্থান নির্ধারণে সহায়তা করতে পারে। এআই মূল্য শৃঙ্খলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাধাগুলি মোকাবিলা করে গ্লোবাল সাউথ জুড়ে প্রাপ্তিযোগ্যতা উন্নত করা হলে তা এআই লভ্যাংশের বিশ্বব্যাপী আরও ন্যায়সঙ্গত বিতরণ নিশ্চিত করবে। আসন্ন ভারত এআই শীর্ষ সম্মেলন ক্রমবর্ধমান জটিল, দ্বিমেরু এআই বিশ্ব ব্যবস্থা মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে এই জাতীয় বিশ্বব্যাপী সহযোগিতার জন্য অ্যাজেন্ডা তৈরি করার সুযোগ প্রদান করে।
এআই ইমপ্যাক্ট সামিট: বিশ্বব্যাপী এআই সহযোগিতার জন্য একটি নতুন ভোর
বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিযোগিতার মধ্যে, দেশগুলিকে কখনও কখনও বৈশ্বিক বিষয়ে বৃহৎ শক্তির অবস্থান থেকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২০ সালে, মার্কিন চাপের কারণে যুক্তরাজ্য হুয়াওয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। তার উপর, মার্কিন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বাস্তবায়নও মিত্রদের, বিশেষ করে তাইওয়ান এবং নেদারল্যান্ডসের সমর্থনের উপর, উল্লেখযোগ্য পরিমাণে নির্ভর করে। চিনই একমাত্র দেশ যে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের উপর তার নিয়ন্ত্রণ এবং তার বিশাল বাজারের আকার ব্যবহার করে শুল্ক যুদ্ধ সফলভাবে মোকাবিলা করেছে।
তবে, বিশ্বব্যাপী এআই সম্পদের ঘনত্ব সত্ত্বেও, অন্যান্য দেশ কৌশলগতভাবে তাদের এআই ক্ষমতা বিকাশ করছে এবং তাদের অনন্য সুবিধার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী এআই উদ্ভাবনে অবদান রাখার জন্য তারা অনেক কিছু করতে পারে। সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সার্বভৌম সম্পদ তহবিল রয়েছে, যা এআই বাস্তুতন্ত্রগুলিকে এগিয়ে নিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফ্রান্সে মিস্ট্রাল-এর মতো উন্মুক্ত মডেল রয়েছে, এবং সুইজারল্যান্ড ইউরোপীয় কপিরাইট ও ডেটা নিয়ম মেনে চলার জন্য তৈরি করা গণ-পরিকাঠামোর উপর নির্মিত একটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত-উৎস বহুভাষিক এলএলএম চালু করেছে। আরও বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশে অত্যাধুনিক অ্যাকাডেমিক গবেষণার জন্য উচ্চ-কার্যক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং পরিকাঠামো রয়েছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া তাদের শক্তিশালী গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) এবং হার্ডওয়্যার বাস্তুতন্ত্রের সুবিধা পেয়েছে। এছাড়াও, ভারত, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ব্রাজিলের মতো দেশগুলি ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) সিস্টেম তৈরি করেছে যা এআই প্রশিক্ষণের জন্য সমৃদ্ধ ডেটা প্রাপ্যতা প্রদান করতে পারে।
যেহেতু শীর্ষ সম্মেলনটি 'কর্ম'-এর গতিকে 'প্রভাব'-এ কাজে লাগানোর জন্য প্রস্তুত, তাই একটি বৈচিত্র্যময় বৈশ্বিক জোট বিশ্বব্যাপী মূল্য এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে স্থিতিস্থাপকতা প্রতিষ্ঠা করতে সহায়তা করবে এবং বিশ্বব্যাপী কল্যাণের জন্য পরিপূরক জোট গঠনে ভারতীয় নেতৃত্বের ইঙ্গিত দেবে।
ভারত এআই শীর্ষ সম্মেলন এআই মধ্যম শক্তিগুলিকে একত্রিত করা এবং সহযোগিতামূলক উন্নয়ন ও বৈশ্বিক শাসনের দিকে নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ প্রদান করে। এটি এআই ক্ষমতা, প্রয়োগ ও সমাধানের সহ-উন্নয়নের জন্য মান, কাঠামো এবং সহযোগিতার পদ্ধতি নির্ধারণে আন্তর্জাতিক এআই সহযোগিতার উপর একটি নতুন চুক্তির সুযোগ উপস্থাপন করে। যেহেতু শীর্ষ সম্মেলনটি 'কর্ম'-এর গতিকে 'প্রভাব'-এ কাজে লাগানোর জন্য প্রস্তুত, তাই একটি বৈচিত্র্যময় বৈশ্বিক জোট বিশ্বব্যাপী মূল্য এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে স্থিতিস্থাপকতা প্রতিষ্ঠা করতে সহায়তা করবে এবং বিশ্বব্যাপী কল্যাণের জন্য পরিপূরক জোট গঠনে ভারতীয় নেতৃত্বের ইঙ্গিত দেবে।
ভারতের মূল্য প্রস্তাব — পরিপূরক উদ্ভাবন
ভারতের নিজস্ব মৌলিক ক্ষমতা বিকাশ করা উচিত নাকি বিশ্বের 'প্রয়োগ রাজধানী' হওয়া উচিত তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের ফলে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, দুর্বলতা এবং রপ্তানি বাজারের বৈচিত্র্য সম্পর্কে প্রশ্ন উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে, এআই সার্বভৌমত্ব এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের আহ্বান নতুন ভিত্তি ফিরে পেয়েছে। ভারতের কৌশলগত সুবিধা বিশ্বে পরিপূরক এআই উদ্ভাবন প্রদানের ক্ষমতার মধ্যে নিহিত — বিদ্যমান সম্পদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং তাদের সর্বোত্তম প্রয়োগ সক্ষমকারী পরিষেবা প্রদান করা।
পরিপূরক উদ্ভাবন বলতে এমন অনেক পণ্য ও পরিষেবা বোঝায় যা মূল এআই উদ্ভাবনের মূল্য বৃদ্ধি করে। ডিপিআই-এর মতো, ভারতের এআই-তে পরিপূরক উদ্ভাবন গ্লোবাল সাউথের দেশগুলিকে প্রয়োজনীয় সংযোগমূলক পরিকাঠামো প্রদান করতে পারে যারা তাদের অর্থনীতি এবং জনসেবাতে প্রযুক্তিকে একীভূত করতে চায়।
এর মধ্যে রয়েছে কম্প্যাক্ট এআই, যা আইআইটি মাদ্রাজ এবং আইআইটি মাদ্রাজ প্রবর্তক ফাউন্ডেশন এখন জিরোহ ল্যাবসের সঙ্গে অংশীদারিত্বে তৈরি করেছে, যা জিপিইউ-এর পরিবর্তে সিপিইউ ব্যবহার করে মৌলিক মডেলগুলি 'নির্মাণ ও পরিবেশন' করার সুযোগ দেয় — যেগুলি সুবিধাবঞ্চিত এবং স্বল্প-সম্পদযুক্ত পরিবেশে নিম্নধারা গ্রহণের জন্য প্রচুর সম্ভাবনা ধারণ করে। অধিকন্তু, গ্লোবাল সাউথে ডিপিআই পরিষেবা ও সমাধান রপ্তানির মাধ্যমে ভারতের সাফল্য জনসাধারণের পরিষেবাগুলিতে এআই একীভূতকরণ সক্ষম করতে পারে, যার ফলে এই দেশগুলি এআই গ্রহণে উৎসাহী হয়ে উঠতে পারে। অধিকন্তু, ভারতের গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার (জিসিসি) বিশ্বব্যাপী 'উদ্ভাবন ইঞ্জিন' এবং 'বিশ্বের গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র' হয়ে উঠেছে, যেখানে ৯০ শতাংশ এআই উৎকর্ষ কেন্দ্র তৈরি হয়েছে।
ভারতের কৌশলগত সুবিধা বিশ্বে পরিপূরক এআই উদ্ভাবন প্রদানের ক্ষমতার মধ্যে নিহিত — বিদ্যমান সম্পদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং তাদের সর্বোত্তম প্রয়োগ সক্ষমকারী পরিষেবা প্রদান করা।
ভারতের তাৎক্ষণিক মূল্য প্রস্তাবনা এমন পরিপূরক উদ্ভাবন প্রস্তাবের মধ্যে নিহিত, যা অন্যান্য দেশে এআই গ্রহণের জন্য সংযোগকারী পরিকাঠামো অনুঘটক প্রদানে তার নিজস্ব শক্তি ব্যবহার করতে পারে। যদিও দেশীয় উদ্ভাবনের জন্য একটি জোরালো যুক্তি দেওয়ার প্রয়োজন আছে, ভারত পরিপূরক উদ্ভাবন সমাধান প্রদানের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী এআই পরিকাঠামোতে একটি অবিচ্ছেদ্য ভূমিকা পালন করতে পারে।
এটি একাধিক স্তরে সংগঠিত করা যেতে পারে: (ক) বিদ্যমান সম্পদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা, যেমন স্থানীয় ডিভাইসগুলিকে কার্যকরভাবে মডেলগুলি চালানোর জন্য সক্ষম করা; (খ) জাতীয় উদ্ভাবন ব্যবস্থার ডিজিটাল মেরুদণ্ড গঠনকারী ডিপিআই সুযোগগুলির উপর ভিত্তি করে পরিষেবা স্তরকে শক্তিশালী করা; এবং (গ) এর বিশ্বব্যাপী সক্ষমতা কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে এআই পরিষেবা সরবরাহ সম্প্রসারণ করা — যা উৎপত্তিস্থলের দেশগুলিকে বৈচিত্র্যময় করে এবং একইসঙ্গে বিশ্বব্যাপী সদর দপ্তরের আউটপোস্টের পরিবর্তে স্বাধীন সুযোগ হিসাবে পরিষেবা প্রদান করে।
এই ধরনের প্রচেষ্টা ভারতের ভারসাম্যপূর্ণ বিশ্বায়নের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, যার লক্ষ্য হল গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বরকে অন্তর্ভুক্ত করা। এটি ভারতকে অর্থবহ আন্তর্জাতিক সহযোগিতা তৈরি করে তার মূল্য-ভিত্তিক প্রযুক্তিগত নেতৃত্বকে কাজে লাগানোর সুযোগ করে দেবে, যা দেশগুলিকে তাদের সার্বভৌম এআই যাত্রা শুরু করতে সহায়তা করতে পারে।
অনুলেখা নন্দী অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর সিকিউরিটি, স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড টেকনোলজির ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Dr. Anulekha Nandi was a Fellow - Centre for Security, Strategy and Technology at ORF. Her primary area of research includes digital innovation management and ...
Read More +