Expert Speak Raisina Debates
Published on Apr 15, 2026 Updated 0 Hours ago

ডেটারেন্স-‌কে নতুন রূপ দিচ্ছে এজেন্টিক এআই, যার জন্য ভারতকে জরুরি ভিত্তিতে তার পারমাণবিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো সুরক্ষিত করতে হবে এবং অর্থবহ মানবিক নিয়ন্ত্রণের উপর ভিত্তি করে একটি সুস্পষ্ট সামরিক এআই মতবাদ প্রণয়ন করতে হবে

এজেন্টিক এআই এবং ভারতের পারমাণবিক নিরাপত্তা: বিপদ, সুযোগ এবং মতবাদ

২০২৬ সালের শুরুর দিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী এমন একটি সীমা অতিক্রম করে যা নিয়ে কৌশলবিদরা দীর্ঘদিন ধরে তত্ত্ব দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু এত তাড়াতাড়ি ঘটনাটি ঘটবে এমন আশা খুব কম ব্যক্তিই করেছিলেন। মার্কিন যুদ্ধ বিভাগ (ডিওডবলিউ) দুটি কাইনেটিক অপারেশনে অ্যানথ্রোপিক-‌এর লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ‘ক্লড’কে অভিযানগতভাবে মোতায়েন করে: ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের জন্য, এবং এর পরবর্তীকালে ইরানকে লক্ষ্য করে চালানো বিমান হামলা অভিযানে। প্যালান্টিয়ারের ম্যাভেন স্মার্ট সিস্টেমের মধ্যে এমবেড করা এবং ডিআইএসএ ইমপ্যাক্ট লেভেল ৬ স্বীকৃতিপ্রাপ্ত (যা হল ডিওডব্লিউ-‌র ক্লাউড কম্পিউটিং সিকিউরিটি রিকোয়ারমেন্টস গাইডের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা অনুমোদন) ‘ক্লড’-কে এই দুই ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট চিত্র, সিগন্যাল ইন্ট্যালিজেন্স এবং নজরদারির ফিড সংশ্লেষণ করে নির্ভুল জিপিএস স্থানাঙ্ক ও হামলার অগ্রাধিকার-‌সহ রিয়েল-টাইম টার্গেটিং প্যাকেজ তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কোনও সামরিক অভিযানে এটিই জেনারেটিভ এআই-এর প্রথম বৃহৎ আকারের প্রয়োগ।

এই ঘটনাটি একটি শাসনতান্ত্রিক স্ববিরোধিতা উন্মোচন করে। অ্যানথ্রোপিক দীর্ঘদিন ধরে চুক্তিভিত্তিক কিছু অলঙ্ঘনীয় সীমা রক্ষা করতে চেয়েছিল: যেমন সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত প্রাণঘাতী টার্গেটিং এবং ব্যাপক অভ্যন্তরীণ নজরদারির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা। তা সত্ত্বেও, পুরো অভিযান জুড়েই মডেলটির কার্যক্ষম ব্যবহার অব্যাহত ছিল, যা এর নির্মাতার শাসন কাঠামো এবং পেন্টাগনের নিজস্ব প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ উভয়কেই ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থার জন্য, এই ঘটনাক্রম মার্কিন বেসামরিক-সামরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনও গৌণ বিষয় নয়। এটি সমসাময়িক ও ভবিষ্যৎ যুদ্ধের চরিত্র সম্পর্কে একটি মৌলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সংকেত, এবং সেইসঙ্গেই এটি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা নীতির জরুরি পুনর্বিন্যাসের দাবি রাখে।

রণক্ষেত্রে এজেন্টিক এআই-এর রূপান্তরমূলক প্রভাব

প্রচলিত সামরিক এআই একটি সিদ্ধান্ত-সহায়ক যন্ত্র হিসেবে কাজ করে: এটি তথ্য স্ক্যান করে, অসঙ্গতি শনাক্ত করে, এবং সুপারিশ উপস্থাপন করে, যদিও প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে একজন মানব অপারেটর কর্তৃত্ব ধরে রাখেন – যাকে বলা হয় ‘হিউম্যান-ইন-দ্য-লুপ’ (‌বা ‘মানব-সংযুক্ত’)‌। এজেন্টিক এআই তার কার্যপ্রণালীর দিক থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি একাধিক ধারাবাহিক ধাপের মাধ্যমে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অনুসরণ করে, স্বশাসিতভাবে সরঞ্জাম ব্যবহার করে, পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় নিজেকে সংশোধন করে, এবং এমন গণনাগত গতিতে কাজ করে যা কাঠামোগতভাবে মানুষের বোধশক্তিকে ছাড়িয়ে যায়।


এজেন্টিক এআই তার কার্যপ্রণালীর দিক থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি একাধিক ধারাবাহিক ধাপের মাধ্যমে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অনুসরণ করে, স্বশাসিতভাবে সরঞ্জাম ব্যবহার করে, পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় নিজেকে সংশোধন করে, এবং এমন গণনাগত গতিতে কাজ করে যা কাঠামোগতভাবে মানুষের বোধশক্তিকে ছাড়িয়ে যায়।



চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) এই সক্ষমতাকে কেন্দ্র করেই তাদের সম্পূর্ণ সামরিক আধুনিকীকরণের পথ তৈরি করেছে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর “বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক যুদ্ধ” অর্জনের নির্দেশনার অধীনে, পিএলএ ২০৩৫ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ আধুনিকীকরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যেখানে সামরিক-বেসামরিক সংমিশ্রণ মতবাদ নিশ্চিত করবে যে বাণিজ্যিক এআই-এর অগ্রগতিগুলি যেন তাদের কার্যপ্রণালীর কাঠামোতে পদ্ধতিগতভাবে একীভূত হয়। এটি ইতিমধ্যেই ভারতের মুখোমুখি প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) বরাবর এআই-চালিত ড্রোন এবং রোবোটিক প্ল্যাটফর্ম মোতায়েন করেছে, যা এমন অতি-উচ্চতার ভূখণ্ডে অবিরাম নজরদারির ব্যবস্থা করে যেখানে দীর্ঘস্থায়ী মানব মোতায়েন সম্ভব নয়। চিনের স্বশাসিত সক্ষমতার এই ক্রমবর্ধমান অসামঞ্জস্য ভারতের জন্য “গুরুতর সক্ষমতা-সম্পর্কিত, কার্যক্ষমগত এবং সরবরাহগত চ্যালেঞ্জ” তৈরি করছে। চিনের সঙ্গে গভীর সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতার অংশ হিসেবে পাকিস্তানকে এর সম্ভাব্য হস্তান্তর এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই পরিস্থিতি ভারতের জন্য একটি দুই-‌ফ্রন্ট প্রতিকূলতার পরিবেশ তৈরি করেছে – যা মোকাবিলায় ভারতের বর্তমান প্রযুক্তি গ্রহণের গতি যথেষ্ট নয়। ‘ইনোভেশনস ফর ডিফেন্স এক্সিলেন্স’-এর মতো প্রচেষ্টাগুলি অর্থবহ, কিন্তু সেগুলি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো সুরক্ষিত করার অপরিহার্যতা যা প্রায়শই অবমূল্যায়িত হয়

ভারতীয় জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সক্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি যুদ্ধক্ষেত্রে নিহিত নেই, বরং আছে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরিকাঠামোগুলির লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনার মধ্যে। ইউক্রেন এবং পশ্চিম এশিয়ায় যেমনটা দেখা গিয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, আর্থিক ব্যবস্থা, টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং মহাকাশ সম্পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো প্রায়শই আক্রমণের প্রথম লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়, যার ক্ষতি একটি দেশের প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা জবাব দেওয়ার ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে।

ভারত ইতিমধ্যেই এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। ২০২০ সালের অক্টোবরে (ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং পিএলএ-র মধ্যে গলওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষের মাত্র পাঁচ মাস পরে), এক  বিদ্যুৎ বিভ্রাট মুম্বইকে অচল করে দেয়, যার ফলে রেল পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়, হাসপাতালগুলিতে বিঘ্ন ঘটে এবং শেয়ার বাজার বন্ধ হয়ে যায়। এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য রেডইকো নামক একটি চিনা রাষ্ট্র-সমর্থিত গোষ্ঠীকে দায়ী করা হয়েছে, যারা শুধুমাত্র গুপ্তচরবৃত্তির পরিবর্তে আপৎকালীন অভিযানের জন্য পূর্ব-প্রস্তুতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ভারতের দশটি বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের সংস্থায় — যার মধ্যে পাঁচটি আঞ্চলিক লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের চারটি অন্তর্ভুক্ত — অনুপ্রবেশ করেছিল। ২০২২ সালের এপ্রিলেও একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছিল, যখন এই একই খেলোয়াড় লাদাখের বিদ্যুৎ গ্রিডগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল


এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য রেডইকো নামক একটি চিনা রাষ্ট্র-সমর্থিত গোষ্ঠীকে দায়ী করা হয়েছে, যারা শুধুমাত্র গুপ্তচরবৃত্তির পরিবর্তে আপৎকালীন অভিযানের জন্য পূর্ব-প্রস্তুতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ভারতের দশটি বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের সংস্থায় — যার মধ্যে পাঁচটি আঞ্চলিক লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের চারটি অন্তর্ভুক্ত — অনুপ্রবেশ করেছিল।



ভারতের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে পারমাণবিক প্রতিষ্ঠানগুলি এক অনন্য গুরুত্বপূর্ণ শ্রেণিভুক্ত। ২০১৯ সালে কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সাইবার আক্রমণের সময় ডিট্র্যাক ম্যালওয়্যারটি প্ল্যান্টের প্রশাসনিক নেটওয়ার্কে ডোমেন কন্ট্রোলার-স্তরে ঢুকে পড়ে। প্ল্যান্টের অপারেটর, নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড, প্রথমে কোনও লঙ্ঘনের কথা অস্বীকার করলেও চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই তা প্রত্যাহার করে নেয়। ড্রাগোস ম্যালওয়্যারটির হার্ড-কোডেড সুবিধা-নির্দিষ্ট স্বাক্ষর এখানে পাওয়া গিয়েছিল, যা এই স্থাপনার বিরুদ্ধে পূর্ব-পরিকল্পিত একটি লক্ষ্যভিত্তিক অনুপ্রবেশের ইঙ্গিত দেয়।

তবে, সবচেয়ে গুরুতর নজিরটি কুদানকুলামের ঘটনার এক দশক আগের। ২০০৯ সাল থেকে ইরানের নাতাঞ্জ স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত স্টাক্সনেট ম্যালওয়্যারটি প্রমাণ করেছিল যে এয়ার-গ্যাপড ইন্ডাস্ট্রিয়াল কন্ট্রোল সিস্টেমগুলি অভেদ্য নয়। সংক্রমিত ইউএসবি ড্রাইভের মাধ্যমে সঞ্চারিত হয়ে স্টাক্সনেট ১,০০০-এরও বেশি সেন্ট্রিফিউজ ধ্বংস করে দেয়, এবং একই সঙ্গে অপারেটরদেরকে কয়েক মাস ধরে স্বাভাবিক অবস্থা প্রদর্শনকারী মিথ্যা সেন্সর ডেটা সরবরাহ করতে থাকে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই ওয়ার্মটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো সাইটগুলিতে থাকা ৮০,০০০ কম্পিউটার সিস্টেমকে সংক্রমিত করেছিল বলে জানা যায়। শিক্ষাটি হল: অভেদ্য বলে বিবেচিত এয়ার-গ্যাপ স্থাপত্যকেও পরাস্ত করতে পারে ভৌত প্রবেশ রাশি (‌ভেক্টর)‌ এবং ধৈর্যশীলভাবে বহু-পর্যায়ের কার্য সম্পাদন।

এজেন্টিক এআই এই দুর্বলতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। কোনও মানবিক নিরাপত্তা অপারেশন কেন্দ্র ভারতের পাওয়ার গ্রিড, ফিনান্সিয়াল স্ট্যাক, টেলিযোগাযোগ এবং মহাকাশ পরিকাঠামো গঠনকারী লক্ষ লক্ষ নোডকে একই সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে পারে না। একটি এজেন্টিক সিস্টেম বিভিন্ন সেক্টরের সীমানাব্যাপী অসঙ্গতিগুলিকে ক্রমাগত সম্পর্কযুক্ত করে, এবং সমন্বিত আক্রমণের চিহ্নগুলি প্রকাশ পাওয়ার আগেই সেগুলিকে শনাক্ত করতে পারে।


কোনও মানবিক নিরাপত্তা অপারেশন কেন্দ্র ভারতের পাওয়ার গ্রিড, ফিনান্সিয়াল স্ট্যাক, টেলিযোগাযোগ এবং মহাকাশ পরিকাঠামো গঠনকারী লক্ষ লক্ষ নোডকে একই সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে পারে না।



পারমাণবিক নিরাপত্তায় এজেন্টিক এআই-এর প্রয়োজনীয়তা এমন কিছু সক্ষমতার উপর নির্ভর করে যা স্টাক্সনেট এবং কুদানকুলামের ঘটনায় অনুপস্থিত বলে জানা গিয়েছে। নিউক্লিয়ারওএস নামে সাময়িকভাবে পরিচিত একটি কাঠামো পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা (সি৩) কাঠামো পরিচালনার জন্য বিশেষভাবে নির্মিত এজেন্ট মোতায়েন করবে। এই ধরনের এজেন্টরা রিয়েল-টাইমে স্যাটেলাইট, রাডার এবং সিগইন্ট ডেটা প্রক্রিয়াকরণ করতে পারবে এবং স্টাক্সনেটের কার্যকলাপ গোপনকারী মিথ্যা পাঠ বাতিল করার জন্য প্রাপ্ত আউটপুট ক্রস-ভেরিফাই করতে পারবে। তারা অভ্যন্তরীণ হুমকির সূচক চিহ্নিত করতে এবং উল্লেখযোগ্য প্রবেশাধিকার পাওয়ার আগেই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শুরু করার জন্য প্রবেশের ধরন পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। এই সক্ষমতাগুলি ডেটা ডায়োডের মাধ্যমে এয়ার-গ্যাপড সিস্টেমের সঙ্গে একত্রিত করা যেতে পারে, যা নিয়ন্ত্রণ নেটওয়ার্কের বিচ্ছিন্নতা বজায় রাখে।

যে কোনও নিউক্লিয়ারওএস বাস্তবায়নের মূল নীতিটি দ্ব্যর্থহীন: এজেন্টিক এআই শুধুমাত্র একটি পরামর্শমূলক এবং শনাক্তকরণের জন্য কাজ করবে, এবং সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কর্তৃত্ব একচেটিয়াভাবে মনোনীত মানব কর্মীদের হাতে থাকবে।

নিকটবর্তী বিপদের মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ ও আর্থিক পরিকাঠামো লক্ষ্য করে চিনের এজেন্টিক সাইবার অপারেশন, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) বরাবর এআই-সক্ষম আইএসআর ক্ষয়, এবং অগ্রবর্তী ঘাঁটিগুলিতে স্বায়ত্তশাসিত ড্রোন হামলা। মধ্যম-মেয়াদি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ভারতের দ্বিতীয়-আক্রমণ ক্ষমতার বিরুদ্ধে এআই-চালিত তথ্য যুদ্ধ এবং স্বয়ংক্রিয় সমুদ্রতলের হুমকি। দীর্ঘমেয়াদি প্রেক্ষাপটে রয়েছে অ-‌রাষ্ট্রীয় পক্ষের বাণিজ্যিক এজেন্টিক এআই-এর নাগাল পাওয়া, ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়ের সরবরাহ শৃঙ্খলে অনুপ্রবেশ, এবং ‘ফ্ল্যাশ এসক্যালেশন’, যেখানে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাগুলি মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের হস্তক্ষেপের চেয়েও দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়।

ডেটারেন্স, কৌশলগত সুবিধা এবং পারমাণবিক প্যারাডক্স

এজেন্টিক এআই ভারতকে যথেষ্ট ডেটারেন্স (‌পূর্ব-‌প্রতিরোধ)‌ ডিভিডেন্ড প্রদান করে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) বরাবর নিরবচ্ছিন্ন স্বয়ংক্রিয় নজরদারি সেই গোয়েন্দা ঘাটতি পূরণ করে, যা ১৯৬২ সাল থেকে ভারতের কৌশলগত দুর্বলতাকে সংজ্ঞায়িত করেছে। এআই-চালিত সোয়ার্ম সিস্টেমগুলি প্রতিসম শক্তি সম্প্রসারণ ছাড়াই ব্যয়-অপ্রতিসম ডিনায়াল ডেটারেন্স প্রদান করে। রাষ্ট্র-সমর্থিত অনুপ্রবেশ দ্রুত শনাক্ত করতে সক্ষম এজেন্টিক অ্যাট্রিবিউশন সিস্টেমগুলি সেই সব ধূসর অঞ্চলে পরিমিত মাত্রায় প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা করে, যেখানে বর্তমানে ভারতের কাছে প্রতিক্রিয়ার জন্য পর্যাপ্ত উপকরণের অভাব রয়েছে।

পারমাণবিক মাত্রাটি সবচেয়ে সতর্ক নীতি প্রণয়নের দাবি রাখে। ভারতের ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ (এনএফইউ) নীতি একটি বিশ্বাসযোগ্য দ্বিতীয় আঘাতের ওপর নির্ভরশীল। নিউক্লিয়ারওএস-এর আদলে চালিত একটি আগাম-সতর্কতা কাঠামোতে থাকা ‌এজেন্টিক এআই আসন্ন আঘাত নির্ভরযোগ্যভাবে শনাক্ত করার মাধ্যমে এনএফইউ-এর বিশ্বাসযোগ্যতা জোরদার করতে পারে। তবে, প্রতিপক্ষের হাতে এই একই প্রযুক্তি পারমাণবিক কমান্ড কাঠামোর ওপর ‘ব্যবহার করুন অথবা হারান’ ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে, এবং তা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগকে এমনভাবে সংকুচিত করে ফেলবে যা সামলানোর জন্য বিদ্যমান সংকট কাঠামোগুলি তৈরি করা হয়নি।


নিউক্লিয়ারওএস-এর আদলে চালিত একটি আগাম-সতর্কতা কাঠামোতে থাকা ‌এজেন্টিক এআই আসন্ন আঘাত নির্ভরযোগ্যভাবে শনাক্ত করার মাধ্যমে এনএফইউ-এর বিশ্বাসযোগ্যতা জোরদার করতে পারে।



২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত একটি প্রিপ্রিন্ট গবেষণায় তিনটি অত্যাধুনিক এআই মডেলকে ২১টি অনুকৃত (‌সিমুলেটেড)‌ পারমাণবিক সংকটের মধ্যে স্থাপন করা হয়েছিল। পারমাণবিক সংঘাত বৃদ্ধি ছিল প্রায় সর্বজনীন: ৯৫ শতাংশ পরিস্থিতিতে কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন দেখা গিয়েছে; সংঘাত কমানোর বিকল্পগুলি সম্পূর্ণ অব্যবহৃত ছিল। ব্যক্তিগত পূর্ব-‌প্রতিরোধ শক্তি এবং সম্মিলিত কৌশলগত অস্থিতিশীলতা একই সঙ্গে বাড়তে পারে — এটিই সেই কেন্দ্রীয় স্ববিরোধিতা যা মাথায় রেখে ভারতকে পরিকল্পনা করতে হবে।

অতএব, ভারতের মতাদর্শগত অবস্থান অবশ্যই দ্ব্যর্থহীন হতে হবে: এজেন্টিক এআই পারমাণবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তথ্য সরবরাহ করতে পারে, কিন্তু এনসি৩ কাঠামোর মধ্যে এটি কখনওই মানুষের কর্তৃত্বের বিকল্প হতে পারে না। পারমাণবিক সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ার কাছাকাছি থাকা এআই সিস্টেমের আচরণগত নিয়মাবলির বিষয়ে ভারতের চিনের সঙ্গে ট্র্যাক ১.৫ সংলাপ চালিয়ে যাওয়া উচিত — যা বর্তমান কূটনৈতিক চ্যানেলগুলিতে অনুপস্থিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাগুলির মধ্যে অন্যতম।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারতকে দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে। সম্ভাব্য কর্মপন্থাগুলির মধ্যে রয়েছে দ্রুত একটি জাতীয় সামরিক এআই মতবাদ প্রকাশ করা, এআই-জনিত বিপদ থেকে গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো রক্ষার জন্য একটি গ্রিড তৈরি করা, এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে ‘অর্থপূর্ণ মানবিক নিয়ন্ত্রণ’ মানদণ্ডের পক্ষে কথা বলা।

উপসংহার

দ্রুত পরিবর্তনশীল সক্রিয় এআই পরিমণ্ডল এবং যুদ্ধক্ষেত্র ও গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক পরিকাঠামোর উপর এর প্রভাব দাবি করে যে, ভারত যেন প্রতিক্রিয়ানির্ভর অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসে। উদীয়মান বিপদের বিরুদ্ধে শুধু খাপ খাইয়ে নেওয়াই নয়, বরং প্রতিরক্ষাকে প্রতিক্রিয়ানির্ভরতার পরিবর্তে আগে থেকে সক্রিয় করে তুলতে এবং স্থিতিস্থাপকতা তৈরি করতে এআই-কে কাজে লাগানোর জন্য টেকসই বিনিয়োগ প্রয়োজন। নিষ্ক্রিয়তার পরিণাম কেবল কৌশলগত অসুবিধাই নয়; এটি পূর্ব-‌প্রতিরোধ ব্যবস্থার ক্ষয়।



সমীর পাটিল অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর সিকিউরিটি, স্ট্র্যাটেজি, অ্যান্ড টেকনোলজির পরিচালক।

কাব্য ওয়াধওয়া একজন পারমাণবিক শক্তি প্রবক্তা এবং নীতি বিশ্লেষক, যাঁর লক্ষ্য স্থিতিশীল শক্তি সমাধান প্রচার এবং নীতি সংস্কার চালনা। তাঁর গবেষণার বিষয় হল প্রধানত পারমাণবিক শক্তি, পারমাণবিক নিরাপত্তা এবং জলবায়ু পরিবর্তন।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.