জলবায়ু উষ্ণায়নের মধ্যে আফ্রিকার যখন নগরায়ণ হচ্ছে, তখন জলবায়ু-সহনশীল খাদ্য ব্যবস্থা স্থিতিস্থাপকতা, স্থায়িত্ব এবং সম্মিলিত সমৃদ্ধির পথ উন্মোচন করে।
ভূমিকা
আফ্রিকা নজিরবিহীন নগরায়ণ এবং দ্রুত বর্ধনশীল জলবায়ু পরিবর্তনের সম্মুখীন হচ্ছে, যা খাদ্য ব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করছে। ২০৫০ সালের মধ্যে এই মহাদেশের শহুরে জনসংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে ১.৪ বিলিয়নে পৌঁছবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অন্যান্য কারণের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মহাদেশ জুড়ে কৃষি উৎপাদনশীলতা হ্রাস করছে এবং খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তাকে আরও খারাপ করে তুলছে। জলবায়ু এবং নগরায়ণের এই দুই সঙ্কট খাদ্য ব্যবস্থার জন্য স্থিতিশীল নয়, এমন নগরায়ণের প্রবণতা এবং ক্রমবর্ধমান পরিবেশগত চাপের জন্য একটি সমন্বিত সমাধান দাবি করে। জলবায়ু-সহনশীল খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা (সিএসএফএস) এই চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলায় একটি পথ দেখায়, যা সমন্বিত ভাবে শহুরে স্থিতিস্থাপকতা জোরদার করে, কৃষি উৎপাদনশীলতা বাড়ায় এবং পরিবেশ রক্ষা করে।
যুগ্ম চ্যালেঞ্জ: দ্রুত শহুরে বৃদ্ধি এবং জলবায়ুগত দুর্বলতা
আফ্রিকার নগরায়ণ প্রধানত গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসন, সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি এবং স্বাভাবিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির দ্বারা চালিত হয়। মৃত্যুহারের চেয়ে জন্মহার বেশি হওয়ার কারণে উগান্ডা এবং ইথিওপিয়ার মতো দেশগুলিতে শহুরে বৃদ্ধি প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ। দ্রুত শহরের প্রসারের ফলে প্রায়শই কৃষিজমি, বন, জলাভূমি এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক এলাকা নির্মিত পরিবেশে রূপান্তরিত হয়। দুর্বল শাসনব্যবস্থা এবং ত্রুটিপূর্ণ ভূমি-ব্যবহার পরিকল্পনা শহরের উপকণ্ঠের খামারগুলিকে স্থানচ্যুত করে এবং স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রকে ব্যাহত করে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতাকে বাড়িয়ে তোলে। এই পরিবর্তন জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি, শহুরে তাপ প্রবাহ এবং বন্যার ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তোলে, যা শহুরে খাদ্য ব্যবস্থাকে ধাক্কার প্রতি আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। ভূদৃশ্য/শহরের দৃশ্যপটের স্তরে, গাছপালা আচ্ছাদনের ক্ষতি পরিবেশগত ভারসাম্যকে ব্যাহত করে, যা জীববৈচিত্র্যের হ্রাসে অবদান রাখে, শহুরে তাপ দ্বীপের প্রভাবকে আরও খারাপ করে এবং স্থানীয় বৃষ্টিপাতের ধরন পরিবর্তন করে। নতুন রাস্তা এবং ভবন থেকে তৈরি হওয়া অপরিবাহী পৃষ্ঠের বৃদ্ধি ভূপৃষ্ঠের জলপ্রবাহ বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা ঘন ঘন এবং তীব্র বন্যার কারণ হচ্ছে। এ হেন গতিশীলতা এই বিরোধকেও দর্শায়, যে বৃদ্ধি অর্থনৈতিক উন্নয়নের চালিকাশক্তি, তা একই সঙ্গে একটি শহরের খাদ্য ব্যবস্থাকে কম স্থিতিস্থাপক সরবরাহ শৃঙ্খলের উপর নির্ভরতা বাড়িয়ে ধাক্কার প্রতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। শহুরে দরিদ্ররা অসামঞ্জস্যপূর্ণ ভাবে প্রভাবিত হন। কারণ তাঁরা স্থানীয় খাদ্য ব্যবস্থা এবং অনানুষ্ঠানিক বাজারের উপর নির্ভর করেন, যা বিঘ্নের প্রতি কম স্থিতিস্থাপক। এটি বৃদ্ধির সন্ধানে নতুন দুর্বলতার উদ্ভব এড়াতে আফ্রিকার শহরগুলির পরিকল্পনায় খাদ্য সরবরাহকে স্পষ্ট ভাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে।
নতুন রাস্তা এবং ভবন থেকে তৈরি হওয়া অপরিবাহী পৃষ্ঠের বৃদ্ধি ভূপৃষ্ঠের জলপ্রবাহ বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা ঘন ঘন এবং তীব্র বন্যার কারণ হচ্ছে।
জলবায়ু-সহনশীল সমাধান: স্থিতিস্থাপক খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, খরা, বন্যা এবং উচ্চ তাপমাত্রা দেখা দেয়, যা ইতিমধ্যেই কৃষি উৎপাদনশীলতা হ্রাস করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ১৯৬১ সাল থেকে বৃষ্টি-নির্ভর কৃষির উৎপাদনশীলতা ৩৪ শতাংশ কমে গিয়েছে। অভিযোজনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে, ২০৫০ সালের মধ্যে কিছু দেশে বৃষ্টি-নির্ভর ফসলের ফলন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এই পরিবেশগত চাপ খাদ্যের দাম বাড়ায়, আয় কমিয়ে দেয় এবং লক্ষ লক্ষ কৃষক, পশুপালক ও জেলেদের জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলে। জলবায়ুজনিত অভিঘাত একটি ‘হুমকির গুণক’ হিসেবে কাজ করে, যা দারিদ্র্য, স্বাস্থ্য সঙ্কট এবং সামাজিক অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক একটি মূল্যায়ন দর্শিয়েছে যে, এগুলি আসলে বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জ। তবে বৃষ্টি-নির্ভর কৃষির উপর উচ্চ নির্ভরতা, সীমিত অভিযোজন ক্ষমতা এবং পূর্ব-বিদ্যমান আর্থ-সামাজিক চ্যালেঞ্জের কারণে আফ্রিকা বিশেষ ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। জলবায়ু-সহনশীল খাদ্য ব্যবস্থা (সিএসএফএস) অনুশীলনগুলি ‘তিনগুণ সুবিধা’ প্রদান করে: উচ্চতর উৎপাদনশীলতা ও আয়, অভিযোজন এবং বৃহত্তর জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা এবং প্রশমন বা গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস। দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যার জন্য খাদ্য ও আয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এই অনুশীলনগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে সফল উদ্যোগগুলি প্রায়শই একাধিক সুবিধাকে একত্রিত করে, যা একটি একক লক্ষ্যের ঊর্ধ্বে উঠে সম্মিলিত ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করে। জলবায়ু-সহনশীল খাদ্য ব্যবস্থার উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১. জলবায়ু-সহনশীল জাত এবং ফসলের প্রকার, যেমন খরা-সহনশীল জাত, কৃষকদের জলস্বল্পতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করে। আন্তঃফসল চাষ, কম্পোস্টিং এবং জৈবিক কীট নিয়ন্ত্রণের মতো কৃষি-বাস্তুতান্ত্রিক পদ্ধতি রাসায়নিক ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি মাটির উর্বরতা এবং জীববৈচিত্র্য বাড়ায়।
২. মৌলিক প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন: সৌর সেচ পাম্প, মোবাইল-ভিত্তিক আবহাওয়ার পূর্বাভাসের মতো ডিজিটাল সমাধান এবং সাশ্রয়ী মূল্যের সংরক্ষণ ব্যবস্থা ক্ষুদ্র কৃষকদের ক্ষতি কমাতে এবং ফলন বাড়াতে সাহায্য করে।
৩. শহুরে এবং উল্লম্ব কৃষি - নাইরোবি এবং আক্রার মতো শহরগুলিতে ছাদের উপর এবং উল্লম্ব বাগান খাদ্য উৎপাদনকে স্থানীয়করণ করে, সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বলতা হ্রাস করে এবং বৃষ্টির জল ব্যবস্থাপনা, শীতলীকরণ এবং বায়ু পরিশোধনের মতো বাস্তুতন্ত্র পরিষেবা প্রদান করে।
৪. কৃষি বনায়ন এবং সংরক্ষণ কৃষি: ফসল এবং গবাদি পশুর সঙ্গে গাছকে একত্রিত করার বিষয়টি মাটির স্বাস্থ্য, জলধারণ ক্ষমতা এবং কার্বন শোষণ বাড়ায়। উদাহরণস্বরূপ, কিলিমাঞ্জারোর ‘কিহাম্বা’ ব্যবস্থা এবং কেনিয়ার তানা জলবিভাজিকা প্রকল্প, যা প্রাকৃতিক ভূদৃশ্য পুনরুদ্ধার করেছে এবং কৃষকদের আয় বাড়িয়েছে। মধ্য মোজাম্বিকের মেজিম্বাইট ফরেস্ট সেন্টার খাদ্য ও আয় সুরক্ষিত করার পাশাপাশি মিওম্বো বনভূমি পুনরুদ্ধার করছে। ন্যূনতম মাটি কর্ষণ এবং শস্য আবর্তনের মতো সংরক্ষণ কৃষি পদ্ধতি শ্রমের প্রয়োজনীয়তা হ্রাস করে এবং খরা সহনশীলতা উন্নত করে। কৃষি বনায়ন কেবল গাছ লাগানো নয়; এটি একটি বহুমুখী পদ্ধতি যা কার্বন সঞ্চয়, জল ব্যবস্থাপনা, জীববৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন ধরনের আয়ের উৎসে অবদান রাখে। ন্যূনতম মাটি কর্ষণ, মাটির স্থায়ী আচ্ছাদন এবং শস্য পর্যায়ক্রমের নীতির উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা সংরক্ষণমূলক কৃষি পদ্ধতিটি সমগ্র মহাদেশ জুড়ে জনপ্রিয়তা লাভ করছে। ঘানা, জাম্বিয়া এবং তানজানিয়ায় এই পদ্ধতিগুলি মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ায় এবং স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করে, বিশেষ করে খরাপ্রবণ এলাকায়। ভারী যন্ত্রপাতি এবং শ্রম-নিবিড় কর্ষণের প্রয়োজনীয়তা হ্রাস করার মাধ্যমে, সংরক্ষণমূলক কৃষি ক্ষুদ্র কৃষকদের আরও দক্ষ এবং লাভজনক করে তোলে। এই সমাধানগুলি একই সঙ্গে একাধিক চ্যালেঞ্জের কার্যকর ভাবে মোকাবিলা করে, যা তাদের প্রতিটি অংশের সমষ্টির চেয়েও বেশি সম্মিলিত সুবিধা তৈরি করে। জলবায়ু-স্মার্ট খাদ্য ব্যবস্থায় বিনিয়োগ উন্নততর প্রতিদান প্রদান করে, যা পরিবেশগত, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফলাফল তৈরি করে।
৫. প্রশমন কৌশল: এর মধ্যে এমন হস্তক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা নির্গমন হ্রাস করে এবং বনায়ন, চারণভূমি ব্যবস্থাপনা, উন্নত মাটি ও জল ব্যবস্থাপনা, উন্নত খাওয়ানোর পদ্ধতির মাধ্যমে গবাদি পশু থেকে মিথেন নির্গমন হ্রাস, পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার এবং খাদ্য বর্জ্যকে কম্পোস্ট বা জৈব শক্তিতে রূপান্তরের মতো বৃত্তাকার অর্থনীতির পদ্ধতির মাধ্যমে কার্বন পৃথগীকরণকে উৎসাহিত করে, যা পরিবেশগত পদচিহ্ন হ্রাস করে।
এই হস্তক্ষেপগুলির সামগ্রিক প্রকৃতির অর্থ হল, এগুলি খাদ্য প্রাপ্তি থেকে শক্তি দক্ষতা পর্যন্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ কার্যকর সমাধানের মাধ্যমে মোকাবিলা করে।
পরিবর্তনের প্রয়াস: অর্থায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা
কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধি করতে সহায়ক নীতি এবং শক্তিশালী বহু-অংশীদারিত্বমূলক অংশীদারিত্ব প্রয়োজন। মিশ্র অর্থায়ন, জলবায়ু তহবিল এবং সবুজ বন্ড উচ্চ প্রাথমিক ব্যয় মেটাতে পারে। ক্ষুদ্রঋণ এবং মোবাইল ব্যাঙ্কিং কৃষকদের সরঞ্জাম এবং উন্নত বীজের জন্য ঋণ পেতে সহায়তা করে। ভূমি মালিকানার সংস্কার দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে উৎসাহিত করে এবং অন্য দিকে লিঙ্গ-সংবেদনশীল নীতিগুলি নিশ্চিত করে যে, নারীরা সম্পদ এবং প্রশিক্ষণ পেতে পারে। অগ্রগতি টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ব্যাপক আফ্রিকা কৃষি উন্নয়ন কর্মসূচির (সিএএডিপি) কাঠামো সম্প্রতি জলবায়ু-সহনশীল খাদ্য সুরক্ষার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। আফ্রিকান ইউনিয়নের (এইউ) প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্র একটি জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা বিনিয়োগ পরিকল্পনার মাধ্যমে সিএএডিপি বাস্তবায়ন করে। এর মধ্যে একাধিক বাস্তবায়ন কৌশল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেমন এইউ-এর জলবায়ু পরিবর্তন ও স্থিতিস্থাপক উন্নয়ন কৌশল এবং আফ্রিকা জলবায়ু-সহনশীল কৃষি বাস্তবায়ন পরিকল্পনা (সিএসএআইপি)। তবে আকাঙ্ক্ষা এবং বাস্তবায়নের মধ্যে ব্যবধান রয়ে গিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, আফ্রিকার ৬০ শতাংশ দেশে একটি সিএসএআইপি কৌশল রয়েছে, কিন্তু মাত্র ২৫ শতাংশ দেশ বিনিয়োগ পরিকল্পনায় অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন করেছে। স্মার্ট পদ্ধতি গ্রহণের উচ্চ প্রাথমিক ব্যয়ের পরিপ্রেক্ষিতে এটি একটি উল্লেখযোগ্য বাধা। কারণ ক্ষুদ্র কৃষকদের ঋণের সুযোগ সীমিত। অনিরাপদ ভূমি মালিকানা ভূমির উন্নতিমূলক অনুশীলনে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত করে। উপরন্তু, নারীরা প্রায়শই সম্পদ এবং তথ্যের সীমিত সুযোগের সম্মুখীন হন, যা উচ্চতর ফলনশীল পদ্ধতি গ্রহণে তাদের সক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। লেখক উন্নয়ন কর্মসূচির নকশায় লিঙ্গ এবং পুষ্টির বিষয়গুলোকে একীভূত করার জরুরি প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দিয়েছেন। উচ্চ-স্তরের নীতি এবং মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতার মধ্যে স্পষ্ট সংযোগহীনতা রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় সাধনের তাগিদ দেয়। অগ্রাধিকার হল, নীতি প্রণয়ন নয়, বরং এর বাস্তবায়নকে বাধা দেয় এমন কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতাগুলি দূর করা। আশার বিষয় এই যে, বহু-অংশীদারিত্বমূলক সহযোগিতা পরিবর্তনের অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ফুড ইনোভেশন হাবগুলি একটি উদাহরণ হিসেবে কাজ করে, যা সরকার, গবেষক, বেসরকারি খাতের সংস্থা এবং কৃষক সংগঠনগুলিকে একত্রিত করে পরিমাপযোগ্য, স্থানীয় সমাধানগুলোকে চালিত করে। বেসরকারি খাতের উদ্যোগগুলোও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। উদাহরণস্বরূপ, ওসিপি (অফিস শেরিফিয়েন ডেস ফসফেটস, এখন যার নাম ওসিপিনিউট্রিক্রপস) এমন একটি শীর্ষস্থানীয় উদ্ভিদ পুষ্টি সংস্থা, যারা একটি ‘স্কুল ল্যাব’ পরিচালনা করে এবং যারা ১০টি দেশের প্রায় দশ লক্ষ ক্ষুদ্র কৃষককে বিনামূল্যে মাটি পরীক্ষা এবং সারের সুপারিশ প্রদান করে। এই অংশীদারিত্বগুলি - যা সম্পদ এবং দক্ষতা একত্রিত করে - আফ্রিকার খাদ্য সুরক্ষার চ্যালেঞ্জগুলির জটিল, আন্তঃসংযুক্ত প্রকৃতি মোকাবিলার জন্য অপরিহার্য।
উপসংহার: সঙ্কট থেকেই সুযোগের জানালা
আফ্রিকার নগরায়ণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন সঙ্কট গভীর ভাবে সংযুক্ত। এই সমস্যাগুলি সমাধানে একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন, যা নগর পরিকল্পনা, স্থিতিশীল কৃষি এবং জলবায়ু কার্যক্রমকে সংযুক্ত করবে। প্রমাণ থেকে বোঝা যায় যে, এই শক্তিগুলি পরস্পর সংযুক্ত হয়ে জটিল পরিবেশগত, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। সিএসএফএস-এ বিনিয়োগের মাধ্যমে আফ্রিকা একটি আরও স্থিতিস্থাপক, উৎপাদনশীল এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে। সামনের পথটির জন্য একক-খাতভিত্তিক হস্তক্ষেপ থেকে সরে এসে একটি সামগ্রিক, সমন্বিত পদ্ধতির প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে নগর পরিকল্পনার সঙ্গে কৃষি নীতিকে একীভূত করা, কৃষি-বনায়ন এবং সংরক্ষণমূলক কৃষির মতো স্থিতিশীল অনুশীলনকে উৎসাহিত করা এবং খাদ্য ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে এমন বিপুল পরিমাণ খাদ্য অপচয় ও বর্জ্য কমাতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালানো। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভাবে, এর জন্য সেই সব পদ্ধতিগত বাধাগুলি মোকাবিলা করা প্রয়োজন, যা অগ্রগতি সীমিত করে, যার মধ্যে রয়েছে জমির মালিকানার অনিশ্চয়তা এবং অর্থ ও তথ্যে সীমিত প্রবেশাধিকার, বিশেষ করে নারী ও যুবকদের জন্য। সমাধান কোনও একটি নীতি বা প্রযুক্তিতে নিহিত নেই, বরং নীতিনির্ধারক, বেসরকারি সংস্থা, স্থানীয় কৃষক এবং শহুরে সম্প্রদায়-সহ বিভিন্ন অংশীদারদের সহযোগিতার মধ্যে জড়িয়ে। জলবায়ু-সহনশীল জেনেটিক্স, কৃষি-বাস্তুসংস্থানিক অনুশীলন, শহুরে কৃষি এবং বৃত্তাকার অর্থনীতির পদ্ধতি গ্রহণের মাধ্যমে আফ্রিকা এমন স্থিতিস্থাপক খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে, যা জীবিকা উন্নত করার পাশাপাশি পরিবেশগত প্রভাবকে ন্যূনতম করবে। এই প্রচেষ্টাগুলিকে বড় পরিসরে বাস্তবায়নের জন্য উদ্ভাবনে অর্থায়ন এবং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য হবে। মহাদেশটির ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তা নির্ভর করে শহরগুলোকে দুর্বল ভোক্তা কেন্দ্র থেকে স্থিতিশীল উৎপাদনের কেন্দ্রে রূপান্তরিত করার উপর। আজ সিএসএফএস-এ বিনিয়োগের মাধ্যমে আফ্রিকা একটি সবুজ, আরও ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে, যেখানে শহুরে ও গ্রামীণ সম্প্রদায় একসঙ্গে সমৃদ্ধি লাভ করবে। আফ্রিকার শহরগুলি আর কেবল কংক্রিট আর ইস্পাতের হবে না, বরং মাটি দিয়ে তৈরি হবে, যা হবে অসীম শক্তিশালী। আমাদের পায়ের নীচের মাটিই হল একটি প্রাকৃতিক ভিত্তি, যা মহাদেশ জুড়ে বিদ্যমান গাছপালা, জল, প্রাকৃতিক ভূপরিসর এবং জীবজন্তুর বাস্তুতন্ত্রকে সম্ভব করে তুলবে।
এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় ওআরএফ মিডল ইস্ট-এ।
নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখক(দের) ব্যক্তিগত।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Moffatt works on climate, agriculture, nutrition and natural resources management. An ecologist by training with a background in rangeland management, physical land resources and agroecology, ...
Read More +