-
CENTRES
Progammes & Centres
Location
বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর এক বছর পেরিয়ে গিয়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লৌহমুষ্টির দ্বারা শাসিত প্রায় স্থায়ী প্রশাসনের অবসানের ফলে যে শূন্যতা তৈরি হয়, যেখানে কোনও সুনির্দিষ্ট দল ক্ষমতায় আসেনি এবং দেশ জুড়ে অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। তবুও কয়েক মাসের মধ্যে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কর্তৃক একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় মনোনীত হয়, যা সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে এবং পরবর্তী জাতীয় গণভোটের পথ প্রশস্ত করে। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর উপদেষ্টা পরিষদের অধীনে দেশ তখন থেকে ‘হাসিনা অতীত’-এর প্রতিষ্ঠিত গতিপথ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি পথ অনুসরণ করছে। ঢাকার উপর এর প্রভাব তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ নতুন সরকার দেশের জন্য একটি নতুন পরিচয় খুঁজছে, যা তার অতীতের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ হলেও বর্তমান সময়ের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর উপদেষ্টা পরিষদের অধীনে দেশ তখন থেকে ‘হাসিনা অতীত’-এর প্রতিষ্ঠিত গতিপথ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি পথ অনুসরণ করছে। ঢাকার উপর এর প্রভাব তাৎপর্যপূর্ণ।
শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির তাৎক্ষণিক কারণ ছিল সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংস্কারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের উপর সরকারের সহিংস দমন-পীড়ন। তবে বেশ কয়েকটি কারণে বছরের পর বছর ধরে দেশে জনসাধারণের ক্ষোভ তৈরি হচ্ছিল। স্বাভাবিক ভাবেই, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রথম কাজগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল ভেঙে পড়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা। সেই অনুযায়ী তারা ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থার পদ্ধতি প্রণয়ন করতে সর্বদলীয় ঐকমত্য অর্জনের জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে নিয়োগ করে।
প্রসঙ্গ জুলাই সনদ
বিপ্লবের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে ২০২৫ সালের ৫ অগস্ট জুলাই সনদ প্রকাশিত হয়েছিল। তবে এটি এখনও খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। যদিও এর কিছু শর্তে চুক্তি হয়েছে, যেমন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত করা এবং নির্বাচন কমিশন গঠন। তবে অনেক বিষয়ে ঐকমত্য হয়নি, যার মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী, ক্ষমতাসীন দলের প্রধান এবং সংসদ প্রধানের মধ্যে ক্ষমতা বিভাজন। কিছু রাজনৈতিক দলও খসড়াটি নিয়ে তাদের আপত্তি প্রকাশ করেছে, এটিকে ‘অসম্পূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছে এবং আনুষ্ঠানিকীকরণের আগে আরও আলোচনার প্রয়োজন আছে বলে মন্তব্য করেছে। তা ছাড়া, জুলাই সনদের খসড়া তৈরির প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্তিমূলক ছিল না। কারণ আওয়ামী লীগ (২০২৫ সালের মে মাসে ভেঙে দেওয়া হয়) এবং জাতীয় পার্টির সমর্থকরা এই প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়েছিল। ২০২৬ সালে প্রতিশ্রুত নির্বাচনের সময় জুলাই সনদ যাতে রাজনৈতিক পক্ষপাতমুক্ত থাকে, যার মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষপাতও অন্তর্ভুক্ত থাকবে তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। সাংবিধানিক সংস্কারের বাইরেও, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে।
হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর দেশের বৃহত্তম সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হিন্দুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
বাংলাদেশের নতুন যুগে ধর্মনিরপেক্ষতাও এমন একটি প্রশ্ন, যা বিবেচনার দাবি রাখে। হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর দেশের বৃহত্তম সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হিন্দুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ইসকনের ব্যক্তিত্বের গ্রেফতার এবং কারাদণ্ড আরও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার জন্ম দেয়, যা এই নতুন শাসনামলে তাদের ভাগ্য সম্পর্কে অনিশ্চয়তা তৈরি করে। যদিও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলেছিল যে, আগ্রাসন মূলত হিন্দু ছিলেন এমন সিনিয়র আওয়ামী লীগের সদস্যদের বিরুদ্ধে ছিল এবং ধর্মের বিরুদ্ধে নয়। ইউনূস সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আহ্বানও জানিয়েছিলেন। তবুও যে দেশে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, একটি ধর্মনিরপেক্ষ দল ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার রিপোর্ট থাকা রাজনৈতিক দলগুলি নির্বাচনের অগ্রভাগে রয়েছে, সেখানে প্রান্তিকদের ভাগ্যই পরীক্ষার মুখে পড়বে।
বাংলাদেশের ভাগ্যের পুনর্লিখন
শাসন পরিবর্তন কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তার ছাপই ফেলেনি, বরং বিদেশনীতিকেও আকার দিয়েছে। ভারত ও চিনের মধ্যে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার অতীতের ছাঁচ ভেঙে নয়াদিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক টানাপড়েন সৃষ্টি করেছে। এই ক্ষতির জন্য বিভিন্ন কারণ দায়ী করা যেতে পারে। যেমন, ভারতে হাসিনার অব্যাহত আশ্রয়, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ এবং ভারতের কৌশলগত বিবেচনার প্রতি অসংবেদনশীল পাকিস্তান ও চিনের সঙ্গে ঢাকার অদম্য যোগাযোগ। ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রথম বারের মতো ঢাকা ইসলামাবাদের সক্রিয় সহযোগিতা চেয়েছে এবং ভাল ভাবে সাড়াও পেয়েছে। ভারতের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি স্থগিত থাকায়, বাংলাদেশে এবং এর ফলে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে বেজিংয়ের অবস্থান শক্তিশালী করার আরও সুযোগ রয়েছে। তবে এই কৌশলগত পরিবর্তনগুলিকে বাংলাদেশের জনপ্রিয় দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিনিধি হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না। কারণ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচিত পছন্দ নয়।
ভারতের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি স্থগিত থাকায়, বাংলাদেশে এবং এর ফলে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে বেজিংয়ের অবস্থান শক্তিশালী করার আরও সুযোগ রয়েছে।
শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের এক বছর পর বাংলাদেশ পুনর্জাগরণ ও পশ্চাদপসরণের মধ্যবর্তী এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। ঢাকা বর্তমানে একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অভ্যন্তরীণ প্রত্যাশা, বৈদেশিক স্বার্থ ও নির্বাচিত প্রশাসনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে যে ছাত্র বিক্ষোভ হয়েছিল, তা দেশকে নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার সুযোগ করে দিয়েছে। তবে এগিয়ে যাওয়ার পথ ইতিবাচক উদ্যোগের দ্বারা চিহ্নিত, যার ফলপ্রসূতা প্রয়োজন এবং নানাবিধ সমস্যার সমাধান করতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের পরিচয় পরীক্ষার মুখে পড়বে, দেশটিকে নিয়ে বিতর্ক হবে এবং দেশটিও পুনর্গঠিত হবে।
এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় এনডিটিভি-তে।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Professor Harsh V. Pant is Vice President - ORF and Studies at Observer Research Foundation, New Delhi. He is a Professor of International Relations with ...
Read More +
Sohini Bose is an Associate Fellow at Observer Research Foundation (ORF), Kolkata with the Strategic Studies Programme. Her area of research is India’s eastern maritime ...
Read More +