Expert Speak India Matters
Published on Feb 03, 2026 Updated 0 Hours ago

ভারতের প্রকৃত মধ্যবিত্ত শ্রেণি হল করদাতা অভিজাত শ্রেণি; নিচের অর্ধেকের প্রয়োজন বাজেটে কর কমানো নয়, বরং চাকরি, বিনামূল্যে শিক্ষা/স্বাস্থ্য, পিডিএস-এমএসপি খাদ্য নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় হস্তান্তরের উপর জোর দেওয়া।

জনসংখ্যার নিচের অর্ধেকের জন্য একটি কেন্দ্রীয় বাজেট

বর্তমানে ভারতের জনসংখ্যা ১৪৫ কোটিরও বেশি। পর্যায়ক্রমিক শ্রমশক্তি সমীক্ষা (পিএলএফএস) অনুসরণে ২০২৩-২৪ সালে শ্রমশক্তি অংশগ্রহণের হার (এলএফপিআর) ৪২.৩ শতাংশ (বর্তমান সাপ্তাহিক পরিস্থিতি) বলে বিবেচনা করলে, শ্রমশক্তির (যারা কাজ করতে ইচ্ছুক এবং সক্ষম) আয়তন দাঁড়ায় ৬১ কোটিরও বেশি। আবার একই সমীক্ষায় শ্রমিক-‌জনসংখ্যা অনুপাত, অর্থাৎ জনসংখ্যার অনুপাতে যারা কাজে নিযুক্ত, ছিল ৪০.২ শতাংশ, যে হিসেব অনুযায়ী ভারতে ৫৮ কোটিরও বেশি নিযুক্ত কর্মী রয়েছে। এই দুটির মধ্যে পার্থক্য, অর্থাৎ প্রায় ৩ কোটি মানুষ, ছিলেন বেকার — যাঁরা কাজের জন্য উপলব্ধ থাকলেও সমীক্ষার আগের সাত দিনে এক ঘণ্টাও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পারেননি। সর্বশেষ পিএলএফএস ২০২৩-২৪ -‌এর ইউনিট-স্তরের তথ্য বিশ্লেষণে স্পষ্ট আয়ের বৈষম্য প্রকাশ পেয়েছে। ভারতের মাত্র ২২ শতাংশ শ্রমশক্তি গড়ে মাসে ১৫,০০০ টাকার বেশি আয় করে, যেখানে ২৭.৫ শতাংশ দৈনিক ১০০ টাকার কম বা তার সমান আয় করে। প্রায় ৫৫ শতাংশ তাদের পরিবারকে সাহায্য করার জন্য প্রতিদিন ৩০০ টাকার কম বা মাসে ৯,০০০ টাকার কম আয় করে। এইভাবে, ২০২৫-২৬ সালে ভারতীয় শ্রমশক্তির অন্তত অর্ধেক প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকার কম আয় করে।

২০২৪ সালে, তৎকালীন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শ্রী রামেশ্বর তেলি দেশকে জানিয়েছিলেন যে ২০১৭ সালে জাতীয় স্তরের ন্যূনতম মজুরি দৈনিক ১৭৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, এবং তারপর থেকে এটি আর সংশোধন করা হয়নি। সম্মিলিত ভোক্তা মূল্য সূচকের সঙ্গে সামঞ্জস্য করলে, এটি ২০২৪-২৫ সালে ২৫১ টাকার সমান। এমনকি মূল ১৭৬ টাকাকে ধরলেও, ২০২৩-২৪ পিএলএফএস তথ্য অনুসারে, ৩৫ শতাংশেরও বেশি শ্রমশক্তি তার চেয়ে কম আয় করেছে; ২১ শতাংশ পুরুষ এবং ৬৭.৫ শতাংশ মহিলা শ্রমশক্তি এই পরিসংখ্যানের নিচে আয় করেছে। গ্রাম-শহরের ব্যবধানও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান: ৪১ শতাংশ গ্রামীণ এবং ২১ শতাংশ শহুরে শ্রমশক্তি দৈনিক ১৭৬ টাকার নীচে আয় করেছে। যদি আমরা দৈনিক ২৫১ টাকাকে নিম্নতল আয় হিসাবে বিবেচনা করি, তাহলে মোট শ্রমশক্তির প্রায় অর্ধেক এর চেয়ে কম বা সমান আয় করে।


শীর্ষ ১০ শতাংশ কর্মীর গড় আয়ের চেয়ে অনেক বেশি আয় হচ্ছে, যেখানে নিচের ৫০ শতাংশ শ্রমশক্তির আয় খুবই কম।



এই বছরের অর্থনৈতিক সমীক্ষার (২০২৫-২৬)   ‘কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন’ বিষয়ক ১২ নম্বর অধ্যায়ে, ‘অস্তিত্বগত অগ্রাধিকার’-এর চেয়ে ‘সঠিক দক্ষতা অর্জন’-এর উপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। ২০২৪-২৫ সালের (ভারত সরকারের অর্থ মন্ত্রকের) অর্থনৈতিক সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৩-২৪ সালে অস্থায়ী কর্মীদের গড় আয় ছিল দৈনিক ৪১৮ টাকা বা মাসে ১২,৫৪০ টাকা, স্ব-কর্মসংস্থানকারী ব্যক্তিদের গড় আয় ছিল ১৩,২৭৯ টাকা, এবং নিয়মিত বেতনভোগী কর্মচারীদের গড় আয় ছিল ২০,৭০২ টাকা। তবে, শীর্ষ ১০ শতাংশ কর্মী গড় আয়ের তুলনায় অনেক বেশি আয় করছেন, অন্যদিকে নীচের ৫০ শতাংশ শ্রমশক্তির আয় উপরে বর্ণিত হিসাবের মতোই কম। উপলব্ধ আয়কর তথ্য থেকে শীর্ষ ১০ থেকে ১৫ শতাংশ শ্রমশক্তির আয় দেখলে দেশে আয়ের বণ্টন স্পষ্ট হবে।

২০২৩-২৪ সালের মূল্যায়ন বছরের আয়কর রিটার্ন পরিসংখ্যানের ঘনিষ্ঠ পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, প্রায় ৮ কোটি মানুষ রিটার্ন দাখিল করেছেন। প্রায় ১ কোটি ব্যক্তি বার্ষিক আড়াই লক্ষ টাকার কম বা মাসে প্রায় ২১,০০০ টাকা আয় করেছেন। প্রত্যক্ষ কর ফাঁকি দেওয়া সম্ভব; তবে, ফাঁকি দেওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যা সম্পর্কে শুধুই অনুমান করা যেতে পারে। ভারত সরকারের আয়কর বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২.৩৫ কোটি করদাতা ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের জন্য কর প্রদান করেছেন, কিন্তু রিটার্ন দাখিল করেননি। ২০২৩-২৪ সালে রিটার্ন দাখিল করেছেন এবং আড়াই লক্ষ টাকার বেশি আয় করেছেন এমন প্রায় ৭ কোটি মানুষের সঙ্গে তাঁদের যোগ করলে, প্রতি মাসে ২১ হাজার টাকার বেশি আয়কারীর সংখ্যা ৯.৩৫ কোটিতে পৌঁছয়। এটি মোট জনসংখ্যার ৬.৫ শতাংশেরও কম এবং ভারতের শ্রমশক্তির প্রায় ১৫ শতাংশ।


‘মধ্যবিত্ত’ আসলে দেশের শীর্ষ ১০-১২ শতাংশ জনসংখ্যা, বাকিরা প্রত্যক্ষ কর প্রদানের জন্য খুব কম আয় করেন।



মূলধারার গণমাধ্যমে সাধারণ বাজেট আলোচনায় এই অ-করদাতা গোষ্ঠীকে 'করদাতা মধ্যবিত্ত' হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে বাস্তবে, তারা দেশের শীর্ষ স্তরের। মৌলিক অব্যাহতির সীমা এখন ৪ লক্ষ টাকা। তাছাড়া, একটি পরিবারে একাধিক উপার্জনকারী সদস্য থাকতে পারে যারা প্রত্যক্ষ কর প্রদান করে। সুতরাং, এই 'মধ্যবিত্ত' আসলে দেশের শীর্ষ ১০-১২ শতাংশ জনসংখ্যা, বাকিরা প্রত্যক্ষ কর প্রদানের জন্য খুব কম আয় করে। ধনী কৃষক পরিবার, যারা অব্যাহতিপ্রাপ্ত কিন্তু ধনী, তাদের সংখ্যা প্রায় ৫০ লক্ষ হবে (বেসরকারি আইসিই ৩৬০-ডিগ্রি সমীক্ষা অনুসারে)। এই সমস্ত সম্ভাবনা অন্তর্ভুক্ত করা হলেও, প্রত্যক্ষ করদাতা শ্রেণি জনসংখ্যার শীর্ষ ১৫ শতাংশের বেশি হতে পারে না। এই কারণেই ভারতের মতো দেশে নীতি নির্ধারণের জন্য শ্রেণিগত দৃষ্টিভঙ্গি এত গুরুত্বপূর্ণ।

এখন ভারতের জনসংখ্যার নিচের অর্ধেকের কথা বিবেচনা করুন। অরুণাচল প্রদেশ এবং নাগাল্যান্ডে ২৪১ টাকা থেকে শুরু করে গোয়ায় ৩৭৮ টাকা এবং হরিয়ানায় ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিদ্যমান মজুরি হারে (বিকশিত ভারত - রোজগার ও আজিবিকা মিশন (গ্রামীণ) (ভিবি-জিআরএএমজি), যা আগে ছিল মনরেগা)‌ ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান নিশ্চয়তার কার্যকর বাস্তবায়ন গ্রামীণ কর্মীদের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে। এই চাহিদা-ভিত্তিক প্রকল্পটি শহর ও শহরতলির অঞ্চলেও প্রসারিত হওয়া উচিত। যেহেতু রাজ্য সরকারগুলিকে এখন এই প্রকল্পের আওতায় ব্যয়ের ৪০ শতাংশ দেওয়ার কথা, তাই কেন্দ্র থেকে রাজ্যে বৃহত্তর স্থানান্তরের মাধ্যমে রাজ্য কোষাগারকে শক্তিশালী করা উচিত। এছাড়াও, কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত এই প্রকল্পটিকে প্রকৃত অর্থে চাহিদা-ভিত্তিক করার জন্য কেন্দ্রীয় বাজেটে পর্যাপ্ত তহবিল বরাদ্দ করা।

নগদ স্থানান্তর প্রকল্পগুলি এখন প্রায় সমস্ত রাজ্যে কার্যকর। তবে, ভারতের মতো বিশাল দেশে, উন্নত মানব উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য সকল স্তরে বিনামূল্যে মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান অপরিহার্য। মানব উন্নয়নের দৃষ্টিকোণ থেকে সংখ্যালঘু এবং সামাজিকভাবে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য বৃহত্তর বাজেটের পাশাপাশি লিঙ্গ বাজেটও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় বাজেটের পাশাপাশি রাজ্য বাজেটেও বিধান থাকা উচিত। সাংবিধানিক ভিত্তি বিবেচনা করে মানব উন্নয়ন-সম্পর্কিত ব্যয়ের একটি বড় অংশ রাজ্য সরকারগুলিকে বহন করতে হবে। অতএব, দেশে মানব উন্নয়নের জন্য রাজ্যগুলিতে সম্পদের বৃহত্তর স্থানান্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গণবণ্টন ব্যবস্থা (পিডিএস) এবং ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) প্রদানের মাধ্যমে কৃষকদের সুরক্ষা অপরিহার্য। ন্যূনতম সহায়ক মূল্য এবং গণবণ্টন ব্যবস্থার মূল্যের মধ্যে ব্যবধান কার্যকরভাবে খাদ্য ভর্তুকি গঠন করে। জনসংখ্যার নিম্ন অর্ধেকের অত্যন্ত নিম্ন আয়ের কারণে, অন্য বিবেচনাগুলিকে অবমূল্যায়ন না করে বাজেটে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা উচিত। জিএসটি হার হ্রাস সাধারণ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দেবে। তবে, রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকার উভয়ের রাজস্ব আয়ের উপরও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। দক্ষ কর প্রশাসন এবং একটি বিস্তৃত কর তথ্য নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বর্তমান হারে কর অনুবর্তিতা উন্নত করা একটি ভাল পথ প্রদান করে।

বহুমুখী চ্যালেঞ্জের পরিপ্রেক্ষিতে ভারসাম্য রক্ষা করা সহজ নয়। পরিকাঠামো ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বৃহত্তর মূলধন ব্যয়ের গুরুত্বও অনস্বীকার্য। উচ্চ মার্কিন শুল্ক হারের মুখে আরও সক্রিয় রপ্তানি প্রচারকেও অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তবে, আর্থিক পরিসরের প্রাপ্যতাও একটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। সম্পদ কর এবং সম্পত্তি উত্তরাধিকার কর (শুধুমাত্র অতি ধনীদের জন্য)-‌এর মতো প্রত্যক্ষ করের মাধ্যমে অতিরিক্ত সম্পদ সংগ্রহের সম্ভাবনাগুলি অনুসন্ধান করা যেতে পারে (অন্য অনেক উন্নত দেশের মতো)। তবে, স্থিতিশীল উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি ২০৩০) এবং বিকশিত ভারতের ধারণাকে মাথায় রেখে আমাদের নীতিগত বিবেচনায়, যে কোনও মূল্যে, জনসংখ্যার দুর্বল নিম্ন অর্ধেককে ভুলে যাওয়া উচিত নয়।


সুরজিৎ দাস নয়াদিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইকোনমিক স্টাডিজ অ্যান্ড প্ল্যানিংয়ের সহকারী অধ্যাপক।

প্রেক্ষা মিশ্র দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের রামানুজন কলেজের সহকারী অধ্যাপক।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.