Author : Arpan Tulsyan

Published on Aug 22, 2025 Updated 0 Hours ago

ভারতের প্রধানমন্ত্রী-পোষণ প্রকল্প লক্ষ লক্ষ মানুষকে পুষ্টি জোগায়, তবুও খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনাগুলি স্বাস্থ্যবিধি এবং মান নিয়ন্ত্রণের ফাঁকগুলি প্রকাশ করে যা শিশুদের স্বাস্থ্য ও আস্থাকে বিপন্ন করে।

সংস্কারের সূত্র: প্রধানমন্ত্রী-পোষণে খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করা

ভারতের মিড-ডে মিল প্রকল্প — এখন যার নতুন নাম হয়েছে প্রধানমন্ত্রী পোষণ শক্তি নির্মাণ (পিএম পোষণ) — বিশ্বের বৃহত্তম স্কুল ফিডিং প্রোগ্রাম। ১৯৯৫ সালে কেন্দ্রীয়ভাবে স্পনসরড স্কিম (সিএসএস) হিসাবে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটি সরকারি এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলিতে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণিতে (প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক) অধ্যয়নরত সকল শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করে। তবে, এই প্রকল্পটি পুষ্টির জন্য হস্তক্ষেপের চেয়েও বেশি কিছু। শিক্ষাগত সুযোগ, সামাজিক ন্যায্যতা এবং সামগ্রিক শিশু বিকাশকে সমর্থন করার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যেহেতু এটি প্রতি স্কুল-‌দিনে ১১২ মিলিয়নেরও বেশি শিশুকে গরম রান্না করা খাবার পরিবেশন করে, তাই এর খাদ্যের মান, সুরক্ষা ও রান্নাঘরে স্বাস্থ্যবিধি পালন হল জনস্বাস্থ্যজনিত অগ্রাধিকার। বিশাল মাত্রা এবং প্রভাবের পরিপ্রেক্ষিতে, পরিবেশিত প্রতিটি খাবার শুধু পেট ভরানোই নয়;‌ বরং তা যেন নিরাপদ ও পুষ্টিকর হয় তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

খাদ্য সুরক্ষা নির্দেশিকা কী বলে


যেহেতু এটি প্রতি স্কুল-‌দিনে ১১২ মিলিয়নেরও বেশি শিশুকে গরম রান্না করা খাবার পরিবেশন করে, তাই এর খাদ্যের মান, সুরক্ষা ও রান্নাঘরে স্বাস্থ্যবিধি পালন হল জনস্বাস্থ্যজনিত অগ্রাধিকার।



অনেক শিশুর জন্য, বিশেষ করে যারা আর্থ-সামাজিকভাবে সুবিধাবঞ্চিত পটভূমি থেকে আসে, তাদের জন্য স্কুলের খাবার সবচেয়ে পুষ্টিকর, এবং এটি সম্ভবত সারাদিনের একমাত্র সঠিক খাবার। এই বিষয়টি বিবেচনা করে, পিএম পোষণ পুষ্টি, খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে
বিস্তৃত নির্দেশিকা প্রদান করে:

১। প্রথম সেটটি ক্রয় এবং সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুণমান নিশ্চিত করার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে এ কথা উল্লেখ করে যে দূষণ রোধ করার জন্য শুধুমাত্র আগমার্ক (কৃষি  মার্ক)-প্রত্যয়িত এবং প্যাকেজ করা উপাদানগুলি খাদ্য-গ্রেড প্লাস্টিকের পাত্রে ব্যবহার এবং সংরক্ষণ করতে হবে।

২। দ্বিতীয় সেটটি রান্না এবং রান্নাঘরের অনুশীলনের নির্দেশিকা প্রদান করে, যেমন পরিচ্ছন্ন, ভাল বায়ুচলাচলযুক্ত রান্নাঘর, যা নিরাপদ রান্নার সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত। এটি আরও বলে যে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধ করার জন্য কমপক্ষে ৬৫° সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় খাবার পরিবেশন করা উচিত।

৩। তৃতীয় সেটটিতে পর্যাপ্ত স্থান নিশ্চিত করার জন্য
রান্নাঘর-সহ-ভান্ডার তৈরির নিয়ম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, এবং রান্নার সরঞ্জাম, সংরক্ষণের পাত্র এবং পরিবেশন করার পাত্রের ব্যবস্থা করার কথা রয়েছে।

৪। চতুর্থটিতে খাবারের স্বাদ গ্রহণ এবং গুণমান পর্যবেক্ষণের নির্দেশাবলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেখানে একজন মনোনীত শিক্ষককে শিক্ষার্থীদের পরিবেশন করার আগে খাবারটির স্বাদ গ্রহণ করতে হবে এবং স্কুলগুলিকে স্বাদ গ্রহণ প্রক্রিয়ার একটি রেকর্ড বজায় রাখতে হবে।

৫। পঞ্চম, নির্দেশিকাগুলিতে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাল ও পরজীবী দূষণ প্রতিরোধের জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, যেমন বাসনপত্র এবং রান্নার জায়গার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, উপকরণগুলির নিয়মিত পরিদর্শন, ঢাকনা দিয়ে রান্নার পাত্র ঢেকে রাখা, ক্ষতিকারক রাসায়নিকের ব্যবহার এড়ানো, এবং রাঁধুনি ও সহকারীদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি।

এই বিস্তারিত নির্দেশিকাগুলি কেন্দ্রীয়ভাবে শিক্ষা মন্ত্রক দ্বারা স্পনসর করা এবং তদারকি করা হয়, এবং সমস্ত রাজ্য কর্তৃক গৃহীত হলেও, এর প্রয়োগ রাজ্য-স্তরের অনুবর্তিতা ব্যবস্থা, স্কুল পরিকাঠামো এবং স্থানীয় পরিচালনা ক্ষমতার উপর নির্ভর করে।

তথ্য কী বলে: সাম্প্রতিক ঘটনা এবং ফাঁক


উপরে উল্লিখিত বিস্তৃত নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও, এমন খাদ্যে বিষক্রিয়া ও দূষণের পর্যায়ক্রমিক প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যার ফলে শিশুদের স্বাস্থ্য সমস্যা, যেমন গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল, সমস্যা দেখা দিয়েছে। 


উপরে উল্লিখিত বিস্তৃত নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও, এমন খাদ্যে বিষক্রিয়া ও দূষণের পর্যায়ক্রমিক প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যার ফলে শিশুদের স্বাস্থ্য সমস্যা, যেমন গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল, সমস্যা দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার তালিকা নিচে দেওয়া হল:

সারণী ১: ভারতে স্কুলের খাবার থেকে খাদ্যে বিষক্রিয়ার উল্লেখযোগ্য ঘটনা*

রাজ্য

মাস ও বছর

ক্ষতিগ্রস্ত শিশুর সংখ্যা

বিহার

মে ২০২৫

১০০রও বেশি

তেলঙ্গানা

জানুয়ারি ২০২৫

৫০+‌   

তেলঙ্গানা

অক্টোবর-‌নভেম্বর ২০২৪

১ মৃত সহ ১০০রও বেশি

মহারাষ্ট্র

অগস্ট ২০২৪

২৫১

কর্ণাটক

সেপ্টেম্বর ২০২৪

২৪

তেলঙ্গানা

সেপ্টেম্বর ২০২৩

২১৬   

দিল্লি

অগস্ট ২০২৩

৭০

বিহার

মে-জুন ২০২৩ 

১২৫

সূত্র:‌ লেখকের তৈরি

*বিঃদ্রঃ: এটি সম্পূর্ণ রেকর্ড নয়, তবে জাতীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলির একটি সংকলন মাত্র।

কোভিড-১৯ অতিমারির পর স্কুলগুলি পুনরায় চালু হওয়ার বছর, ২০২২ সালে, ভারতজুড়ে প্রায় ৯৭৯ জন শিক্ষার্থী খাদ্যে বিষক্রিয়ার শিকার হয়েছিল। চিত্র ১-এ ২০০৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত মিড-ডে মিল থেকে খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে অসুস্থ শিশুদের সংখ্যা দেখানো হয়েছে। স্কুল বন্ধ হওয়ার পর থেকে অতিমারির বছরগুলিতে এই সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে।

চিত্র ১: ভারতে স্কুলের খাবার খাওয়ার পরে খাদ্যে বিষক্রিয়ার শিকার শিশুদের  সংখ্যা
A Recipe For Reform Strengthening Food Safety In Pm Poshan
সূত্র:
দ্য হিন্দু,, ভারতে ছয় বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে মিড-ডে মিল-সম্পর্কিত খাদ্য বিষক্রিয়ার ঘটনা


এই ধরনের অনেক ঘটনা
টিকটিকি, ইঁদুর, সাপ বা তেলাপোকা দূষণের সঙ্গে জড়িত। এই পরিসংখ্যানগুলি সম্ভবত সমন্বিত রোগ নজরদারি কর্মসূচির তথ্যের উপর ভিত্তি করে রক্ষণশীল অনুমান, এবং এই ধরনের বেশ কয়েকটি ঘটনা আনুষ্ঠানিকভাবে উল্লেখ করা হয়নি। 



নিম্নমানের মধ্যাহ্নভোজের অনেক কারণ রয়েছে। ভারতের নিয়ন্ত্রক ও নিরীক্ষক জেনারেল (সিএজি) অপ্রতুল পরিকাঠামো, পরিদর্শন বা নিরীক্ষার অভাব, অনিয়মিত লাইসেন্সিং, কম রিপোর্টিং ও সীমিত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার মতো উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেছেন।



নিম্নমানের মধ্যাহ্নভোজের অনেক কারণ রয়েছে। ভারতের নিয়ন্ত্রক ও নিরীক্ষক জেনারেল (সিএজি) অপ্রতুল পরিকাঠামো, পরিদর্শন বা নিরীক্ষার অভাব, অনিয়মিত লাইসেন্সিং, কম রিপোর্টিং ও সীমিত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার মতো উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেছেন। অন্ধ্রপ্রদেশে,
২০২৩ সালের সিএজি অডিটে, প্রকাশ পেয়েছে যে মান নিয়ন্ত্রণ কমিটিগুলি কার্যকর ছিল না, সরবরাহ ও বিতরণ রেকর্ড রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি, এবং নমুনা জেলাগুলিতে উদ্দেশ্যমূলক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা কার্যকর ছিল না। তাছাড়া, অতিমারি চলাকালীন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং স্কুল প্রধানেরা সমস্ত যোগ্য শিক্ষার্থীকে পর্যাপ্ত এবং সময়মত শুকনো রেশন বিতরণ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন। মধ্যপ্রদেশ সম্পর্কিত ২০১৯ সালের প্রতিবেদনে, সিএজি দেখেছে যে খাদ্য সুরক্ষা কমিশনারের কাছে খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনা সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্য নেই, এবং তাই, খাবার প্রস্তুতের জন্য দায়ী খাদ্য ব্যবসা অপারেটরদের (এফবিও) বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাছাড়া, খাদ্য  নিরাপত্তা ও মান কর্তৃপক্ষ (এফএসএসএআই) এখনও খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনা রিপোর্ট করার জন্য ডাক্তারদের অবহিত করেনি। এর এক বছর আগে, ২০১৮ সালে, নিরীক্ষক রিপোর্ট করেছিলেন যে গুজরাটের খাবার গরম ছিল না এবং নমুনা স্কুলগুলির কোনওটিতেই প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা পরীক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ছিল না। কর্মীদের অভাবের কারণে রাজ্যের পাঁচটি জেলায় স্কুল পরিদর্শন ৮০ শতাংশ কম হয়েছে। সামগ্রিকভাবে, এই ফলাফলগুলি বুঝিয়ে দেয় যে ডেটা রিপোর্টিং, ক্রয় প্রক্রিয়া এবং জবাবদিহিতা কাঠামোর ঘাটতিগুলি মিড-ডে মিল প্রোগ্রামের কার্যকারিতা এবং সুরক্ষাকে উল্লেখযোগ্যভাবে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। যদিও রাজ্যগুলি পিএম পোষণ-এমআইএস পোর্টালে পর্যবেক্ষণ ডেটা আপলোড করার আশা করে, এর কভারেজ অসঙ্গতিপূর্ণ এবং স্বাস্থ্য বা স্কুল পরিদর্শন রেকর্ডের সঙ্গে সংযুক্তিকরণের অভাব রয়েছে। স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি), মনোনীত শিক্ষক এবং নোডাল অফিসারদের অনুবর্তিতা তদারকির প্রয়োজনীয়তা থাকা সত্ত্বেও, খাদ্য সুরক্ষা ত্রুটির পরে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাগ্রহণ বিরল। তৃতীয় পক্ষের নিরীক্ষা খুব কমই হয়, অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থাগুলি খুব কম প্রচারিত হয়, এবং সরবরাহ-পক্ষের লঙ্ঘনের (খাদ্য ঠিকাদার বা স্ব-সহায়ক গোষ্ঠী দ্বারা) জন্য প্রায়শই শাস্তি হয় না বা ঘটনাটি অস্বীকার করা হয়।


তৃণমূল পর্যায়ের গবেষণায় শহরাঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ঘাটতিও তুলে ধরা হয়েছে, যার কারণ হল দুর্বল বায়ুচলাচল, পরিষ্কার জল সংরক্ষণের ট্যাঙ্কের অভাব, এবং আবর্জনা অপসারণের জন্য আবর্জনা ফেলার পাত্রের অভাব। আরেকটি বহু-রাজ্যব্যাপী গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে বেশিরভাগ রাজ্যে রান্না ও সংরক্ষণের সুবিধা থাকলেও, বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়ে গিয়েছে: মেঘালয়ের অর্ধেকেরও কম স্কুলে রান্নাঘরে বিদ্যুৎ ছিল; ঝাড়খণ্ডে কাঠকয়লা বা কাঠের চুলার মতো জ্বালানির উপর উচ্চ নির্ভরতা ছিল; কর্ণাটক ও কেরালা সহ মাত্র কয়েকটি রাজ্যে রেফ্রিজারেশন সুবিধা পাওয়া যেত। সিএজি-র মূল্যায়ন গবেষণায় নিম্নমানের শস্য ও উপাদান, এবং বাফার স্টকের অভাবের ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। প্রতিবেদনগুলি আরও ইঙ্গিত করে যে ক্রমবর্ধমান খাদ্য মূল্যস্ফীতি এবং স্থবির বাজেটের কারণে স্কুলগুলিকে পুষ্টিকর উপাদান (শাকসবজি, ডাল, ফল, দুধ, ডিম) কমাতে এবং পাতলা দুধের মতো সস্তা উপাদান ব্যবহার করতে বাধ্য করা হয়েছে।


নিরাপদ স্কুল খাবারের জন্য সুপারিশ


স্কুলগুলিতে রান্না এবং স্যানিটেশন পরিকাঠামোর উন্নতি হলেও, আন্তঃরাজ্য এবং গ্রামীণ-শহুরে পরিকাঠামোর মধ্যে বিরাট পার্থক্য রয়েছে। অতএব, স্বাস্থ্যকর রান্নার পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সমস্ত স্কুলে ছাদযুক্ত এবং সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা রান্নাঘর, পরিষ্কার জল এবং সঠিক বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। ক্রয়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মান প্রয়োগ করা এবং সুরক্ষা নিয়ম মেনে চলা যাচাই করার জন্য নিয়মিত সরবরাহ শৃঙ্খল পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করাও প্রয়োজন। নিয়মিত অডিট এবং আকস্মিক পরিদর্শনের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি পূরণের জন্য বাজেট বৃদ্ধি করাও খাবারের মান নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিভিন্ন রাজ্যে ঐতিহ্যবাহী এবং ডিজিটাল উভয় পদ্ধতি ব্যবহার করে নিরাপদ স্কুল খাবারের জন্য স্বাস্থ্যবিধি ও খাদ্য পরিচালনার বিষয়ে রাঁধুনি ও সাহায্যকারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য জোর প্রচেষ্টা চলছে। উদাহরণস্বরূপ, কর্ণাটক স্বাস্থ্যবিধি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং খাদ্য সুরক্ষা পদ্ধতির উপর সাপ্তাহিক লাইভ ভিডিও প্রশিক্ষণের জন্য একটি
নিবেদিত ইউটিউব চ্যানেল ব্যবহার করছে, যেখানে ওড়িশা রাষ্ট্রপুঞ্জের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সহযোগিতায় একটি মাস্টার প্রশিক্ষক মডেল নিয়োগ করছে। টেকসই খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ এবং পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি এই জাতীয় কর্মসূচির কভারেজ সম্প্রসারণের প্রয়োজন।


মান পর্যবেক্ষণ ও জবাবদিহিতার জন্য ডিজিটাল উদ্ভাবন — যেমন
মধ্যপ্রদেশে রাজ্য প্রধানমন্ত্রী পোষণ শক্তি নির্মাণ পোর্টাল যা খাদ্যশস্য সরবরাহ স্বয়ংক্রিয় করার মাধ্যমে, রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং সক্ষম করার মাধ্যমে, এবং আধার-সক্ষম প্রমাণীকরণ ও ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করে — অবশ্যই অধ্যয়ন এবং প্রসারিত করা উচিত। এই ধরনের নিরবচ্ছিন্ন ডিজিটাল ইন্টিগ্রেশন এই কার্যক্রমকে সুগঠিত করতে, খাবারের মান রক্ষা করতে এবং লক্ষ লক্ষ স্কুল-‌শিশুদের পুষ্টিকর খাবার সরবরাহে সহায়তা করতে পারে।


শিক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শনকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণেরও প্রয়োজন আছে, যা স্বাস্থ্যবিধি মান মেনে চলা নিশ্চিত করে এবং সময়ের সাথে সাথে গুণমান ও সুরক্ষা নজরদারির জন্য স্বাদ গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যবিধি রেকর্ড বজায় রাখে। অবশেষে, স্কুল এবং জেলা পর্যায়ে অভিযোগ প্রতিকার এবং প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা স্থাপন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি খাদ্য নিরাপত্তার ঘটনাগুলির রিয়েল-টাইম রিপোর্টিং, দ্রুত তদন্ত ও লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে দ্রুত সংশোধনমূলক পদক্ষেপ করা সহজতর করবে।

কেন্দ্রীভূত ও বিকেন্দ্রীভূত রান্নাঘর ব্যবস্থা প্রেক্ষাপট-নির্দিষ্ট পরিস্থিতি দ্বারা পরিচালিত হওয়া উচিত, এবং সরবরাহ শৃঙ্খল পর্যবেক্ষণে সরকারি-বেসরকারি-অংশীদারিত্ব (পিপিপি) সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। ক্রয়, সংরক্ষণ ও বিতরণ জুড়ে তদারকি জোরদার করার জন্য, আইওটি-ভিত্তিক তাপমাত্রা ট্র্যাকিং, ট্রেসেবিলিটির জন্য ব্লকচেন এবং মোবাইল-ভিত্তিক অডিট সরঞ্জামের মতো প্রযুক্তি-চালিত পর্যবেক্ষণ সমাধান তৈরির জন্য পিপিপি-‌গুলিকে কাজে লাগানো যেতে পারে।

স্কুলের রান্নাঘরে খাদ্য নিরাপত্তা অনুশীলন অন্তর্ভুক্ত করা খাদ্য বিষক্রিয়া প্রতিরোধের বাইরেও স্কুলের সকল খাবারে সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যের সংস্কৃতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিরাপদ, পুষ্টিকর খাবার শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য একটি বিনিয়োগ — পর্যাপ্ত খাবার পেয়েছে এমন একটি সুস্বাস্থ্যের অধিকারী শিশুর নিয়মিত স্কুলে যাওয়া, আরও ভালভাবে শেখা, এবং আরও ভালভাবে কাজ করার সম্ভাবনা বেশি। নীতিনির্ধারকদের, শিক্ষকদের এবং জনসম্প্রদায়গুলিকে স্কুলের খাবারে খাদ্য নিরাপত্তা মানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার এবং কঠোরভাবে প্রয়োগ করার জন্য একত্রে কাজ করতে হবে। প্রতিটি শিশুর পূর্ণ সম্ভাবনাকে সত্যিকার অর্থে উন্মোচন করার জন্য মিড-ডে মিল নিরাপত্তাকে স্কুল শিক্ষার একটি তর্কাতীত স্তম্ভ হিসাবে গড়ে তোলা অপরিহার্য।



অর্পণ তুলসিয়ান অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর নিউ ইকোনমিক ডিপ্লোম্যাসির সিনিয়র ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.