-
CENTRES
Progammes & Centres
Location
ভারত-রাশিয়া শীর্ষ সম্মেলন প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ প্রকাশ করতে পারে, যেখানে রাশিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার থাকবে; যদিও ভারতীয় অস্ত্র বাজারে তাদের অংশ কম থাকবে।
৪-৫ ডিসেম্বর ভারত-রাশিয়া শীর্ষ সম্মেলনে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের মধ্যে প্রত্যাশিত আলোচনা, যা এই বছরে তাঁদের দ্বিতীয় বৈঠক। এই বৈঠকে বেশ কয়েকটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা, যার মধ্যে রয়েছে ভারতের অতিরিক্ত এস-৪০০ ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র (এসএএম) ব্যবস্থা ক্রয় এবং সেই সঙ্গে এস-৫০০ ব্যবস্থা ও এসইউ-৫৭ পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ক্রয় ও যৌথ উৎপাদনের সম্ভাব্য চুক্তি। যদিও প্রতিরক্ষা বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা স্পষ্ট ভাবে পুনরুজ্জীবিত হয়েছে, তবে এর অর্থ এই নয় যে, নতুন চুক্তিগুলি শীর্ষ সম্মেলনের অর্জনগুলির মধ্যে থাকবে।
ঠান্ডা লড়াইয়ের সময় থেকে প্রতিরক্ষা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ভিত্তিপ্রস্তর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৬০-এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভারতের একটি প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী হিসাবে আবির্ভূত হয়েছিল। ১৯৬২ সালে ভারতে মিগ-২১ প্ল্যান্ট স্থাপনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, ১৯৬৫ সালে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পরে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের পাশাপাশি মস্কোর প্রযুক্তি ভাগ করে নেওয়া এবং উৎপাদন স্থানীয়করণের ইচ্ছা দু’টি দেশের প্রতিরক্ষা অংশীদার হিসাবে একত্রিত হওয়ার মূল চালিকাশক্তি ছিল। বিশেষ করে ১৯৬৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ২০০টি এসইউ-৭ যুদ্ধবিমান রফতানি করে ভারতীয় বিমান বাহিনীকে (আইএএফ) শক্তিশালী করে, যা পাকিস্তানের অস্ত্রাগারে থাকা জেটের চেয়েও উন্নত ছিল। ১৯৮০-এর দশকে ভারতের বৈচিত্র্যকরণ প্রচেষ্টায় উদ্বিগ্ন হয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন উন্নত অস্ত্র ও প্রযুক্তি দিয়ে নয়াদিল্লিকে আকৃষ্ট করার প্রচেষ্টা জোরদার করে। এর ফলে আগেকার সরবরাহ করা সরঞ্জাম - যেমন ট্যাঙ্ক, যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র এবং যুদ্ধজাহাজ - আধুনিকীকরণ করা হয়েছিল। গভীর আস্থার নিদর্শন হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৮৭ সালে ভারতকে একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন লিজ দেয়।
১৯৬৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ২০০টি এসইউ-৭ যুদ্ধবিমান রফতানি করে ভারতীয় বিমান বাহিনীকে (আইএএফ) শক্তিশালী করে, যা পাকিস্তানের অস্ত্রাগারে থাকা জেটের চেয়েও উন্নত ছিল।
১৯৮৮ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ভারতের প্রতিরক্ষা ক্রয়ের ‘হৃত দশক’-এর পর - যা রাশিয়ার ভারতে অস্ত্র রপ্তানির সবচেয়ে দুর্বলতম সময়ের সঙ্গে সমাপতিত হয় - ২০০০-এর দশকে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব পুনরায় আবির্ভূত হয় এবং বিপুল সংখ্যক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার ফলাফল সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখে। এই সময়কালে রাশিয়া যে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও সরঞ্জাম সরবরাহ করেছিল, তার মধ্যে ছিল বিমান, হেলিকপ্টার, যুদ্ধ ট্যাঙ্ক, ক্ষেপণাস্ত্র, একটি বিমানবাহী রণতরী, ফ্রিগেট ও সাবমেরিন। এর মধ্যে একটি নতুন পারমাণবিক শক্তিচালিত আক্রমণাত্মক সাবমেরিনের লিজও ছিল।
প্রতিরক্ষা সম্পর্কের সমৃদ্ধ ইতিহাসের ফলস্বরূপ, সোভিয়েত ও রুশ সামরিক মঞ্চের উপর ভারতের নির্ভরতা ছিল। উদাহরণস্বরূপ, টি-৭২ এবং টি-৯০ প্রধান যুদ্ধ ট্যাঙ্ক ভারতীয় সেনাবাহিনীর ট্যাঙ্ক বহরের মূল ভিত্তি হয়ে উঠেছে, যেখানে এসইউ-৩০ হল প্রধান যুদ্ধ বিমান ও ভারতীয় বিমানবাহিনীর মেরুদণ্ড। ভারত-রুশ যৌথ উদ্যোগের একটি পণ্য অর্থাৎ ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে এবং এর পরিসর বাড়ানোর জন্য আরও সংস্কার করা হচ্ছে।
ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের স্থায়িত্ব মোটেও অবাক করার মতো নয়। প্রথমত, রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জামের জন্য ভারতের রক্ষণাবেক্ষণ ও খুচরো যন্ত্রাংশের প্রয়োজন অব্যাহত রয়েছে এবং তাই ট্যাঙ্ক ও যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলি অর্জনের দিকে এগিয়ে চলেছে। রাশিয়া নতুন ইঞ্জিন সংস্করণ উন্মোচন করার সঙ্গে সঙ্গে ভারত তার মঞ্চগুলি সংস্কার করার সুযোগ পায়, যা মস্কোর এসইউ-৩০এমকেআই বহরের জন্য উন্নত এএল-৪১ ইঞ্জিন সরবরাহের প্রস্তাব দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, তার শক্তি স্বীকৃতি ও ভারতের দাবির প্রতি সাড়া দিয়ে নমনীয়তা দেখানোর মাধ্যমে রাশিয়া অবাধ প্রযুক্তি স্থানান্তর ও উৎপাদনের স্থানীয়করণের জন্য প্রস্তুত, যা এস-৫৭ জেট চুক্তির সাম্প্রতিক প্রস্তাবে স্পষ্ট।
তৃতীয়ত, ভারতের জন্য প্রকল্প ১১৩৫৬ শ্রেণির ফ্রিগেটের জন্য গ্যাস টারবাইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সরবরাহে বড় ধরনের বাধার সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও রাশিয়া একটি সমাধান খুঁজে পেতে সক্ষম হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত ভারতীয় নৌবাহিনীর কাছে জাহাজগুলি সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছে।
অপারেশন সিঁদুরের পরে - যেখানে রাশিয়ার এস-৪০০ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাদের দক্ষতা প্রদর্শন করেছে - নয়াদিল্লি ও মস্কো বিভিন্ন স্তরে তাদের সামরিক আলোচনা তীব্র করেছে। ভারতের বিমান প্রতিরক্ষা শৃঙ্খলে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও একীভূত করার অভিপ্রায়ের কথা উল্লেখ করে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এস-৪০০-এর জন্য ‘বিপুল সংখ্যক ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র’ ক্রয় অনুমোদন করেছে, যার পাল্লা ১২০, ২০০, ২৫০ এবং ৩৮০ কিলোমিটার।
রাশিয়া নতুন ইঞ্জিন সংস্করণ উন্মোচন করার সঙ্গে সঙ্গে ভারত তার মঞ্চগুলি সংস্কার করার সুযোগ পায়, যা মস্কোর এসইউ-৩০এমকেআই বহরের জন্য উন্নত এএল-৪১ ইঞ্জিন সরবরাহের প্রস্তাব দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে।
দ্বিপাক্ষিক আলোচ্যসূচিতে আরও একটি এস-৪০০ এসএএম ব্যবস্থা সংক্রান্ত চুক্তিও রয়েছে। তবে নতুন চুক্তিটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। কারণ খরচ সম্পর্কিত আলোচনা ও আনুষ্ঠানিক ক্রয় প্রক্রিয়ায় যথেষ্ট সময় লাগতে পারে। তার উপরে ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার নিজস্ব প্রতিরক্ষা চাহিদা এবং পূর্ববর্তী ২০১৮ সালের চুক্তির বাকি দু’টি এস-৪০০ ইউনিট সরবরাহে উল্লেখযোগ্য বিলম্বের ফলে এই ব্যবস্থাগুলির সরবরাহের সময়সূচি অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
ভারতের ধারাবাহিক বৈচিত্র্য নীতি সত্ত্বেও যুদ্ধের কারণে রাশিয়া তার নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজনীয়তাগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে রয়ে যাবে। তবে আসন্ন শীর্ষ সম্মেলন প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করতে পারে, যেখানে রাশিয়া ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা অংশীদার থাকবে, যদিও ভারতীয় অস্ত্র বাজারে তার অংশীদারিত্ব হ্রাস পাবে।
এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এ।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Professor Harsh V. Pant is Vice President - ORF and Studies at Observer Research Foundation, New Delhi. He is a Professor of International Relations with ...
Read More +
Aleksei Zakharov is a Fellow with ORF’s Strategic Studies Programme. His research focuses on the geopolitics and geo-economics of Eurasia and the Indo-Pacific, with particular ...
Read More +